করোনা যোদ্ধা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের টিম 'সেতু'র তরফ থেকে সংবর্ধনা জানালেন অরূপ রায়
দি নিউজ লায়নঃ শুধু একটি ফোন নম্বরে ফোন করলেই করোনা আক্রান্তের পাশে ভার্চুয়ালি হাজির চিকিৎসক। হাওড়ায় কোভিড রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে যোগাযোগ ঘটানোর ক্ষেত্রে গত এক বছর ধরে সেতু বন্ধনের কাজ করে চলেছে এই হেল্পলাইন নম্বর। আর সেই হেল্পলাইনের মাধ্যমেই প্রায় ২ হাজার চিকিৎসকের সঙ্গে ভার্চুয়ালি ঘটছে যোগাযোগ। করোনা আক্রান্ত, কিংবা করোনার উপসর্গ থাকলেই মিলছে সহায়তা। গত এক বছর ধরে করোনা সংক্রমণের মোকাবিলায় হাওড়ার মানুষের জন্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে 'সেতু'। ভার্চুয়াল মাধ্যমে, চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি চালু করা হয়েছে টেলিমেডিসিন ব্যবস্থাও।
শনিবার 'সেতু'র প্রথম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ রুখতে সেতুকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়। রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়ের উদ্যোগে এবং 'প্রোটেক্ট দ্য ওয়ারিয়র' এর সহযোগিতায় গত এক বছর ধরে গোটা হাওড়া জেলা জুড়ে 'সেতু' ভার্চুয়াল মাধ্যমে বহু খ্যাতনামা বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। এই 'সেতু'র বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে হাওড়া শরৎ সদন ১ নং হলে করোনা যোদ্ধা এইসব চিকিৎসক এবং এই কাজে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের টিম 'সেতু'র তরফ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অরূপ রায় সহ কোভিড যুদ্ধে সামিল খ্যাতনামা চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও হাওড়ার পুর কমিশনার ধবল জৈন, পুর প্রশাসকমন্ডলীর চেয়ারপার্সন ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী, হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাবেরি দাস, সহ সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য, বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ, সীতানাথ ঘোষ, ডাঃ রানা চ্যাটার্জি, প্রিয়া পাল, সেতু'র আহ্বায়ক তুষার কান্তি ঘোষ সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অরূপ রায় জানান, যেভাবে এই সমস্ত চিকিৎসকেরা কোভিড আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন তাদের জন্য আমরা গর্বিত।
প্রায় ২ হাজার চিকিৎসক মানুষের পাশে এইভাবে সেবা করে চলেছেন। এরমধ্যে হাওড়ার বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট চিকিৎসকও রয়েছেন। আগামী দিনে এই ভাবেই কোভিড আক্রান্তদের পাশে আমরা থাকবো। করোনার তৃতীয় ঢেউ প্রতিরোধ করব। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অরূপ রায় জানান, এটা সম্ভব হয়েছে চিকিৎসকদের জন্য। এতে মানুষ উপকৃত হয়েছেন। মানুষ ফোন করলে ওনাদের পরামর্শ পেয়েছেন। এটাই বড় ব্যাপার। ওনারা নিঃশব্দে বিগত এক বছর ধরে কাজ করে চলেছেন। করোনার তৃতীয় ঢেউ ওনাদের প্রচেষ্টাতেই রোধ করতে পারা যাবে বলে আশা করছি। মানুষকে ভালো, সুস্থ এবং আনন্দে রাখতে হবে। এটাই তাঁদের লক্ষ্য।
2 এই সংস্থার সঙ্গে প্রায় ২ হাজার চিকিৎসক যুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তর, হাওড়া পুরনিগমের স্বাস্থ্যদপ্তর, হাওড়া জেলা পরিষদ সকলেই বিশেষ ভূমিকা নিয়েছেন। 'সেতু' সংস্থার কো-অর্ডিনেটর তুষার কান্তি ঘোষ জানান, এটা একটা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম। এখানে একটা হেল্প লাইন দেওয়া আছে। যদি কেউ কোভিড আক্রান্ত হন বা কোভিড উপসর্গ আছে বলে যিনি মনে করছেন তখন তিনি সেই হেল্পলাইনে ফোন করলে চিকিৎসকরা সরাসরি কথা বলে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি কি কি করনীয় তাও প্রেসক্রিপশন করে দেবেন। এক বছর ধরে হাওড়া জেলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার রোগীকে এইভাবে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি করে কোভিড সচেতনতা শিবির, পোস্ট কোভিড ক্যাম্প প্রভৃতি করা হবে। তাছাড়াও টেলিমেডিসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই টিমে সেতুতে ভার্চুয়ালি কাজ করছেন হাওড়ার প্রায় কুড়ি জন চিকিৎসক।

Post a Comment