উত্তরবঙ্গে বিধায়কদের বৈঠক ঘিরে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি - The News Lion

উত্তরবঙ্গে বিধায়কদের বৈঠক ঘিরে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি

 


দি নিউজ লায়নঃ  উত্তরবঙ্গে বিধায়কদের বৈঠক ঘিরে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি তুমুলে উঠলো। বৈঠকে গড়হাজির পাঁচ বিধায়ক! যা ঘিরে উত্তরের বিজেপিতে বড় ভাঙনের ঘোলা জল অনেকটাই সাফ হতে শুরু করেছে। বুধবার বৈঠকে এলেন না গঙ্গারামপুর, বালুরঘাট, হাবিবপুর, মালদা ও কুমার গ্রামের বিধায়ক। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছিল উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু বিধায়ক তৃণমূলে যোগদানের সারিতে রয়েছেন। দল বদলের ইচ্ছা প্রকাশ করে একাধিকবার ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তারা। আর এদিনের পাঁচ বিধানসভা কেন্দ্রের ভাজপা বিধায়কদের বৈঠক বাতিল করার সিদ্ধান্ত সেই সম্ভবনার ওপরই শীলমোহর কায়েম করছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়, হাবিবপুর জোয়েল মুর্মু, বালুরঘাট অশোক কুমার লাহিড়ি, কুমার গ্রাম মনোজ কুমার ওরাও, মালদা ভাজপা বিধায়ক গোপাল শা বৈঠকে গড়হাজির ছিলেন। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তার আগেই নিজ দলের অবস্থান বুঝতে ভাজপা নেতা মনোজ টিগ্গার নেতৃত্বে উত্তরের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। মূলত বৈঠকের নামে দলের পিঠ ঠেকে যাওয়া পরিস্থিতিতে সংগঠনে জল ও দুধের মূল্যায়নের করতেই নেমেছিল ভাজপা। আর তাতে প্রকাশ্যে সামনে উঠে এলো ভাজপা দলের অন্দরমহলের একের পর এক বড় ফাঁক। উত্তরবঙ্গে ভাজপার ২৯জন বিধায়কের মধ্যে এদিন বৈঠকে হাজির হন ২৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। গো হারের পর উত্তরবঙ্গ এর পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে ঘাস ফুলের ভরা সমুদ্রে বিজেপির খেয়া পাতার নৌক চালানো সম্ভব নয় তা দলের বড় অংশের বিধায়করা বিভিন্ন মহলে নিজেরাই স্পষ্ট করেছেন। ভাঙনের নীতি যে বারবার জনসাধারণ প্রত্যাখ্যান করেছে তা হারে হারে টের পেয়েছে বিজেপির একটা বড় অংশ। এদিন শিলিগুড়িতে ডাকা বৈঠকে বিধায়কদের গড়হাজিরের পেছনে দলের নীতিহীনতাকেই ইঙ্গিত করছে। অন্যদিকে এদিন পদ্ম শিবিরের বন্ধ দরজার পেছনে সাংসদ ও দলীয় বিধায়কদের মধ্যে একে অপরের প্রতি তুমুল কাঁদা ছোড়াছুড়ির পালা চলে। কাঁচের দরজায় কাগজ মুড়ে বন্ধ করে সংবাদ মাধ্যমকে আড়ালের চেষ্টা করা হলেও গেরুয়া শিবিরের সভাকক্ষের অন্দরের উত্তাপ বেড়িয়ে আসে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের বাইরে। দলীয় সূত্রে খবর বিজেপি বিধায়ক শ্রী রূপা মিত্র দলের সাংসদ, বিধায়ক ও স্ট্যান্ডিং কমিটির দিকে কাঁদা ছোড়েন। তিনি বলেন উত্তরবঙ্গ চা বাগান সহ কোনো ইস্যু নিয়েই বিধানসভায় দলের স্ট্যাডিঙ কমিটির তরফে তোলা হয়না। দলের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি রাজ্য সরকারের টাকা আটকে রাখার প্রচার মুখী বিজেপি বিধায়কদের বুলির প্রেক্ষিতে নিজ দলের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যা পারস্পরিক বিতণ্ডা বাড়িয়ে তোলে। কেন সাতজন সংসদের উপস্থিতির কথা হলেও কেবল মাত্র একজন সাংসদ হাজির হয়েছে বৈঠকে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে গোপন বৈঠক নিজ দলকে সক্রিয় করতে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ও রাজ্য সরকারের কাজের উদাহরণ কায়েম করে বিজেপি নেতা সাংসদেরা। শিলিগুড়ি মহকুমার পেশায় স্কুল শিক্ষক এক বিজেপি বিধায়ক বলেই ফেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বিভিন্ন জনজাতিদের নিয়ে নানা প্রকল্প সামনে আনছে তাতে বিজেপির পৃথক রাজ্যের স্ট্র্যাটেজি ধোপে টিকবে না। বিজেপির উত্তরবঙ্গ নিয়ে এই পৃথক রাজ্যের রাজনৈতিক কৌশলের তরী হাওয়ার বিপরীতে বইছে। যদিও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার পরিচিত প্রবাদ আওড়েই বিজেপির মুখপাত্র দার্জিলিং সাংসদ রাজু বিস্ট জানান ২৪জন বিধায়ক এসেছেন। অনুপস্থিত পাঁচ জন বিধায়কের মধ্যে গঙ্গারামপুর, কুমারগ্রাম বিধায়কেরা না আসার কারন হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। বাকিরা বৈঠকে হাজির না হওয়ার কারন হিসেবে পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়েছে দলকে। বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়ী দিল্লিতে রয়েছেন। এদিকে আগাম নির্ধারিত বৈঠক ছেড়ে কেন দিল্লীতে তলব ভাজপা বিধায়ক অশোক লাহিড়ীর তা নিয়ে পদ্ম শিবিরের অন্দরেই সওয়াল উঠতে শুরু করেছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.