টিকাকরন কেন্দ্রে ঢুকে মহিলাকে হেনস্থা বিজেপি বিধায়কের
দি নিউজ লায়নঃ টিকাকরন কেন্দ্রে ঢুকে মহিলাকে হেনস্থা বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের! শিলিগুড়ি বিজেপি বিধায়ক মহিলাকে হেনস্থার অভিযোগ। শিলিগুড়ি থানায় বিধায়কের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের মহিলার। শিলিগুড়ি ভারতনগরের টিকাকরন কেন্দ্রে ঝামেলা বাধিয়ে বিধায়কের ওপর হেনস্থার অভিযোগ তুলে রাজনীতির ঝুটা হাওয়া গরম করতে নেমে নিজ জালে বেকায়দায় শঙ্কর বাবু! শিলিগুড়ি প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা বিধায়কের ২৪ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহিলার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কটুক্তির প্রতিবাদ করায় টিকার লাইন থেকে মহিলাকে টেনে হিচড়ে বের করে চরম হেনস্থা করেন বিজেপি বিধায়ক।
মহিলা ভাস্বতী নায়েক জানান তাকে রীতিমতো ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। শঙ্কর বাবু হাত ধরে টেনে টিকার লাইন থেকে বের করে ধাক্কা মারেন মহিলাকে। আর এরপরই সেখানে থাকা স্থানীয়রা বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। বৃহস্পতিবার ঘটনার দিনে উদ্দেশ্যে প্রনোদিত ভাবে বিজেপি বিধায়কের টিকাকরন কেন্দ্রে অশান্তি সৃষ্টি ও মহিলাদের সঙ্গে চরম হেনস্থার যাবতীয় বিবরণ সামনে এনে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মহিলা। প্রত্যক্ষ দর্শী অভিযোগকারিনী উত্তর ভারত নগরের বাসিন্দা মহিলা ভাস্বতী নায়েক জানান বুধবার ভারতনগরের তরুণ তীর্থ ক্লাবে চলা টিকাকরন শিবিরে সকাল থেকেই বয়স পঞ্চাশের অসুস্থ্য দিদিকে নিয়ে টিকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সেসময় দেখা যায় সকাল থেকে তিন দফায় টিকাকরন কেন্দ্রে এসে উত্তেজনা সৃষ্টির ক্রমাগত চেষ্টা করে চলছেন শঙ্কর বাবু।
তিনি প্রথম দফায় হাফ প্যান্ট টি শার্ট পরিধান করে টিকা কেন্দ্রে আরো দুটি বাইকে থাকা তার সাঙ্গদের নিয়ে ঢুকে পড়েন। মহিলাদের লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে মহিলাদের ছবি তুলতে লাগেন। এতে বিব্রত হয় টিকা নিতে আসা মহিলারা। এক ঘন্টা বাদে ফের দ্বিতীয় দফায় তিনি তার অনুগামীদের নিয়ে টিকাকরন কেন্দ্রে ঢুকে পড়েন। নানা ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। অতঃপর তৃতীয় বার তার সঙ্গীদের নিয়ে টিকাকরন কেন্দ্রে ঢুকে হুলিগান রাজে নামেন। মহিলার বক্তব্য টিকার লাইনের সাধারণ মহিলাদের আগে কিছু বিজেপি মহিলা কর্মীদের দাঁড় করিয়ে দেন বিধায়ক। এরপর শুরু হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অকথ্য ভাষার প্রয়োগ।
আর এতেই মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর নামে বিধায়কের কুরুচিকর মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হতে শুরু করেন মহিলারা। এর প্রতিবাদ করেন ভ্যাস্বতী দেবী। আর এতেই বিজেপি বিধায়ক টিকার লাইন থেকে হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেন মহিলাকে। এখানেই থেমে থাকেনি তার দাদাগিরি। মহিলার ওপর চড়াও হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন শঙ্কর বাবু। প্রকাশ্যে বিধায়কের এভাবে মহিলাকে হেনস্থা করার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে টিকার লাইনে থাক স্থানীয়রা। মহিলার সঙ্গে অভব্য আচরন করায় উত্তেজিত জনতা ক্ষোভে ঘিরে ধরে বিজেপি বিধায়ককে। পরে বিধায়কের আক্রমণের মুখে প্রায় সজ্ঞা হারিয়ে ফেলা মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনায় তার মাথায় ও কোমড়ে আঘাত লেগেছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি।মহিলার মন্তব্য আমি চাই বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশ তরফে তদন্ত করে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ওঁর বুঝতে হবে বিধায়ক বলে যা খুশি তাই করবেন জনগণের সঙ্গে তা হতে পারে না। এ বিষয়ে রাজ্য যুব তৃণমূলের সম্পাদক বিকাশ সরকার বলেন এটাই সাফ যে মিথ্যে অভিযোগ তুলে রাজনীতির রঙ চড়াচ্ছেন বিজেপি বিধায়ক। অথচ তার সঙ্গে কোনো হেনস্থা হয়নি বরং উনি নানাভাবে টিকার লাইনে থাকা মহিলাদের হেনস্থা করেন। বাংলাকে ত্রিপুরা উত্তরপ্রদেশ বানিয়ে দেবো এ ধরনের হিংসাত্মক কথা বলে ভ্যাক্সিনেশন সেন্টারের পরিবেশ উত্তপ্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রীর নামে কটুক্তি করতে লাগেন যার জেরেই সাধারন জনগন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ঘিরে ধরে। অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ জানান মহিলার যা বলছেন সেটা তার বিষয়। আমাকে পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেব।

Post a Comment