শিলিগুড়ির সিরিয়াল কিলারকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুনঃনির্মাণে পুলিশ
দি নিউজ লায়নঃ যৌন লালসায় একাধিকবার ধর্ষণ করে পরপর মহিলা খুনি হয়ে ওঠা শিলিগুড়ির সিরিয়াল কিলার আক্তারকে ফের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুনঃনির্মাণে পুলিশ। বাড়ি বাড়ি কল মিস্ত্রী হিসেবে পরিচিত সিরিয়াল কিলারের পর্দা ফাঁস হতেই ফাঁসির সাজার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী। পুনরায় প্রেমিকা খুন ও দেহ লোপাটের ঘটনায় শিলিগুড়ি আদালত থেকে আটদিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আরও কোনো মহিলা নিখোঁজের সঙ্গে তার যোগ রয়েছে কিনা তা জানাতে সিরিয়াল কিলারের ওপর ক্রমাগত স্নায়ুর চাপ বজায় রাখতে চাইছে দুঁদে পুলিশ কর্তারা।
ঠিক কি ভাবে খুন করেছিল পরিচিত মহিলা গৃহবধু অংকিতা মহালি থেকে তিন মাস আগে প্রেমিকাকে নিরুত্তাপ ভাবে তার অকপট বয়ান দেয় মাটিগাড়া সিরিয়াল কিলার। খুনের স্বীকাররোক্তি ধরেই আক্তারের দেখানো জায়গায় মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হয় তার প্রেমিকার অর্ধ কঙ্কালসার দেহ। শুধু তাই নয় কিভাবে নেশার আসরেই মহিলাদের মাদক ও টাকার প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে ঘনিষ্টতা তৈরি করে যৌন তৃপ্তি মিটিয়ে ধর্ষন করে খুন করাই হয়ে ওঠে তার নেশা তাও পুলিশ কর্তাদের কাছে ঠান্ডা মাথায় বলেছে সে।
বৃহস্পতিবার তিনমাস আগে খুন হওয়ায় সূচনা মন্ডলের ঘটনাকে সামনে রেখে ধারা ৩৬৫অপহরণ, ৩০২খুন ও ২০১দেহ লোপাটের ধারায় আক্তারকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত যাবতীয় ঘটনাক্রম শুনে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। সরকারি আইনজীবী সুদীপ রায় বাসুনিয়া জানান আশ্চর্য্য একজন পরপর মহিলাদের ধর্ষণ করে ঠান্ডা মাথায় খুন করে দেহ লোপাট করে ফেলেছে। মাদক ও যৌন উন্মাদনা থেকেই পরপর কাজ গুলি করে গিয়েছে। এদিন তদন্ত কারী পুলিশ কর্তা মাটি খুঁড়ে মেলা প্রেমিকার মৃতদেহ ও খুনের যাবতীয় প্রমান দেখিয়ে আদালতের কাছে ১৪দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায়।
এই সময়ের মধ্যে তিন মাস আগে প্রেমিকা সূচনা মন্ডলকে খুন করে কিলার দেহ মাটি নীচে পুঁতে রাখে সেই ঘটনার ক্রাইম সিন পুনঃনির্মাণ করবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসার। আদালত ৮দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে পরিচিত মহিলা অঙ্কিতা মহালিকে মাদক ও ২০০টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কিভাবে টোপে ফেলে ধর্ষণ করে মুখে জিন্সের প্যান্ট পুড়ে শ্বাস রুদ্ধ করে গলা টিপে খুনের স্বীকার থেকে প্রেমিকা সূচনা মন্ডলের সঙ্গে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ও পরে ধর্ষণ ও প্রেমিকাকে খুন করে নিজ শোবার ঘরের পাশেই ফাঁকা জায়গায় পুঁতে রাখার ঘটনার অকপট বিবরণ বলিউড ভিলেনকেও হার মানিয়েছে।
ধর্ষণ ও খুনের পরক্ষনেও স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে বেজায় ফুর্তিতে খাওয়া দাওয়া ঘুম,কাজ নেশা সবই নির্বিকারে করে গিয়েছে সে। পরিনত অপরাধ মানসিকতা নিয়ে সমাজে মিশে ছিল আক্তার। তাই সিরিয়াল কিলারের হাত থেকে চিরতরে নিস্তার পেতে চায় মাটিগাড়া এলাকা। মাটিগাড়া এলাকার ব্যবসায়ী রতন চৌধুরী থেকে গৃহবধূ মর্জিনা খাতুন জানান ভয়ঙ্কর এই অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির সাজা হোক।

Post a Comment