পাল বাড়ির পুজো থেকে বারোয়ারি পুজো হয়ে ওঠার গল্প
দি নিউজ লায়নঃ পাল বাড়ির পুজো। বালুরঘাটের অন্যতম বনেদি বাড়ি ছিল এই পাল বাড়ি ৷ এই দুর্গাপুজোর শুরুটা ঠিক কবে তা অবশ্য সঠিকভাবে জানা নেই কারোর ৷
যদিও এখন বারোয়ারি হয়ে গিয়েছে কালের নিয়মে৷ তবে পুরোনো রীতি মেনেই করা হয় মায়ের আরাধনা। স্থানীয়দের কথা, 400 বছর আগে আত্রেয়ী নদীর পাশে নিজের বাড়িতেই মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন গৌরী পাল । সে সময় থেকে একই নিয়মে হয়ে আসছে মাতৃবন্দনা ৷স্থানীয়দের বক্তব্য, এক সময় বালুরঘাটের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন গৌরী পাল ৷ তিনিই প্রথম এই পুজোর প্রচলন করেন ।
খড় ও বাঁশের তৈরি মন্দিরে দেবীর পূজা শুরু হয় । গৌরী পাল এবং তাঁর উত্তরসূরিদের অবর্তমানে আজ থেকে প্রায় 80 বছর আগে পাল বাড়ির দুর্গাপুজোর দায়িত্ব নেন প্রতিবেশীরা । বর্তমানে বারোয়ারি কমিটির উদ্যোগে পুজোর আয়োজন করা হয় ৷ তবে বারোয়ারি উদ্যোগে হলেও এখনও এই পুজো পাল বাড়ির দুর্গাপুজো নামেই পরিচিত ৷কথিত আছে, এখানে নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের কাছে কেউ কিছু মানত করলে তা পূরণ হয় ।
অন্য জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এই পুজোয় সামিল হন ৷ এই পুজোর বিশেষত্ব, নবমী ও দশমীর দিনে মা-কে পান্তাভাত, বোয়াল মাছ ও রাইখোর মাছের ভোগ দেওয়া হয় । অন্যদিন অবশ্য নিরামিষ ভোগই দেওয়া হয় । পান্তা ভোগ যেদিন হয় সেদিন ভিড় সবচেয়ে বেশি হয় । পাল বাড়ির পুজো মণ্ডপস্থানীয় বাসিন্দা আশুতোষ পাল বলেন, "এই মন্দিরের পাশেই আত্রেয়ী নদী ছিল ৷ পরবর্তীকালে নদীর দিক পরিবর্তনের কারণে এদিকে নদীটি নেই ৷ ইতিহাস সঠিক না জানলেও শুনেছি এক সন্ন্যাসী প্রথম নদীর ধারে এখানে পুজো শুরু করেছিলেন ৷ পরবর্তীকালে গৌরী পাল এই পুজো শুরু করেন ৷ কিন্তু একটা সময় তাঁর বংশধরেরা এই পুজো করতে পারেননি ৷ তখন থেকেই স্থানীয়রাই নিsজেদের মনে করে এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন ৷

Post a Comment