নন্দীগ্রাম থেকেই শুরু হতে চলেছে তৃণমূলের ত্রিপুরা' জয়ের লড়াই
দি নিউজ লায়নঃ একুশে ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ত্রিপুরায় লড়াই করতে গিয়েও সেই নন্দীগ্রামের কথাই ঘুরে ফিরে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ত্রিপুরার এতোটাই মিল যে কেউ কেউ ত্রিপুরাকে বাংলার অঘোষিত উপনিবেশও বলেন। বাংলার সঙ্গে ত্রিপুরার এমন একটা বিষয়ের মিল রয়েছে, যা অনেকের অজানা। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মত ত্রিপুরাতেও রয়েছে 'নন্দীগ্রাম'। যা রয়েছে উত্তর-পূর্বে ওই কাজ্যের দক্ষিণের জেলার সাব্রুমে। বাংলায় নন্দীগ্রাম একটি বিধানসভা কেন্দ্র, কিন্তু ত্রিপুরায় তা একটি পঞ্চায়েত মাত্র।
ত্রিপুরা তৃণমূল সূত্রে খবর, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সেখানকার অখ্যাত নন্দীগ্রামকেই লাইম লাইটে নিয়ে আসতে চাইছেন। সাব্রুমের নন্দীগ্রামকে ভিত্তি করেই ত্রিপুরায় বিজেপি'র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেবেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই সেখানে যেতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অগাস্টের শেষের দিকে না হলে সেপ্টেম্বরের প্রথমের দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে বেশ কয়েকদিন থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে তিনি ত্রিপুরায় গিয়ে সাব্রুমের নন্দীগ্রামে যাবেন বলে সূত্রের খবর। সাব্রুমের নন্দীগ্রামে গিয়ে বাংলার নন্দীগ্রামের আওয়াজ তুলবেন। ওই নন্দীগ্রাম থেকেই 'জিতবে ত্রিপুরা' স্লোগানকে ছড়িয়ে দেবেন ত্রিপুরায়। বাংলার তৃণমূলের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় গিয়ে বেশ কয়েকদিন থাকতে পারেন। সেই সময় তিনি ত্রিপুরা প্রতিটি জেলা ও মহকুমায় যেতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দলীয় কার্যালয় খোলার তদারকিও করতে পারেন। কেননা ২০২৪-এর আগে যেসব রাজ্যগুলিতে তৃণমূলের কিছুমাত্র সম্ভাবনা রয়েছে, তার মধ্যে ত্রিপুরাকে একেবারে প্রথমেই রাখতে চান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
নন্দীগ্রামে তৃণমূলের জন্য উর্বর জমি তৈরিই আছে বলে মনে করেন, সেখানকার বিরোধী রাজনীতিকদের অনেকে। নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েত একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ছিল। সেখানে ঘাসফুলের তিন জন নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। ২০১৬-য় বামেদের দখলে থাকা ত্রিপুরায় নন্দীগ্রাম থেকে জিতেছিলেন তিনজন। সেই কারণে বাংলা থেকে ত্রিপুরায় যাওয়া তৃণমূল নেতারা বারবার ছুটে যান সাব্রুমের নন্দীগ্রামে।

Post a Comment