বাসভবনের রাতভর ঘেরাও বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ
দি নিউজ লায়নঃ রাত গড়িয়ে সকাল- বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বাসভবনে ঘেরাও। দুই ছাত্রীসহ এক ছাত্রীর বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক অ্যাখ্যা দিয়ে আন্দোলনে শামিল হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কে যে পর্যায়ে উপাচার্য নিয়ে গেছেন তাতে হিটলারি শাসন ও লজ্জা পাবে। কখনো বিশ্বভারতীতে বিজেপির পরাজয় নিয়ে আলোচনা সভা ডাকা, কখনো কেন্দ্রীয় সরকারের এনআরসিসি ও সিএএ নিয়ে প্রচার সভা, পড়ুয়ারা নিজেদের ন্যায্য দাবী নিয়ে সরব হলে তাদের গায়ে মাওবাদী তকমা সেঁটে দেওয়া, যখন-তখন অধ্যাপকদের সাময়িক বরখাস্ত করা, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি দুলাল দাস কে ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ না দেওয়ার নির্দেশ, সহ একাধিক বিষয়ে স্বেচ্ছাচারিতা কায়েম করেছে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
যদিও উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই। পড়ুয়াদের দাবি দুই ছাত্র সহ এক ছাত্রীর বিশ্বভারতী থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিতে হবে।যতক্ষণ সিদ্ধান্ত কার্যকর না হবে ততক্ষণ উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও থাকবে। বিশ্বভারতী থেকে তিন বছরের জন্য সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্র সোমনাথ সৌ বলেন , বিশ্বভারতীর সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সমস্ত রকমের সুযোগ-সুবিধার দাবি তোলা , উপাচার্যের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি তাই আজকে আমাদের তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। শুক্রবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় ভবনের সামনে ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাবার সময় উপাচার্যের আপ্ত সহায়ক তন্ময় নাগ সেই সময় অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ির ফিরছিলেন সেসময় বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীরা তার কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলে আচমকাই গাড়ির চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবি সে সময়ে ঘটে যেতে পারতো বড় কোনো দুর্ঘটনা। উল্লেখ্য, বিশ্বভারতীর তিন ছাত্রছাত্রীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে আন্দোলন। নিন্দায় সরব হচ্ছেন রাজ্যের শিক্ষক-ছাত্র মহলের বড় অংশ। যাদবপুর, উত্তরবঙ্গ, কল্যাণী, প্রেসিডেন্সি-সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও অধ্যাপক সংগঠনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ও পড়ুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
পার্থপ্রতিমবাবু বলেন, ‘‘আমরা মনে করি ছাত্রদের বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রতিহিংসামূলক আচরণ নয়, এর মধ্যে স্বাধীন মুক্ত চিন্তার স্বরকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রও রয়েছে। অবিলম্বে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সমস্ত পড়ুয়াদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”বিশ্বভারতীর অর্থনৈতিক বিভাগের অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, 'আমরা ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। উপাচার্যের সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা সরব হব। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এ হেনো আচরণের তীব্র নিন্দা করে প্রবীণ আশ্রমিক সুবোধ মিত্র বলেন , জীবদ্দশায় এ ধরনের প্রতিহিংসাপরায়ন উপাচার্য কখনো দেখিনি , বিশ্বভারতীর ইতিহাসে বর্তমান উপাচার্যের সময়কাল কালো অধ্যায় বলে উল্লেখ থাকবে।

Post a Comment