কাঠ পাচারের দুই মাস্টার মাইন্ড গ্রেফতার
দি নিউজ লায়ন; কাঠ পাচারের মাস্টার মাইন্ড কেন্দ্রীয় সরকারের দুই আধিকারিক গ্রেপ্তার। ভারত সরকারের নীলবাতি লাগানো গাড়িতে এসকর্ট করে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ২৫লক্ষ টাকার চোরাই কাঠ। সরকারি বোর্ড ও নীলবাতি লাগানো গাড়িতে বসে ছিলেন কেন্দ্রীয় শুক্ল বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট অফিসার এ.মাঝি ও জিএসটি অফিসার দেবাশীষ ধর। চোরাই সেগুন কাঠের টিক বোঝাই ট্রাকটি সরকারি এসকর্ট গাড়ির অতন্দ্র প্রহরায় পাচারের রুট ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল কলকাতার দিকে।
আসামের মিজোরাম থেকে এই চোরাই কাঠ এনে শিলিগুড়ি শুল্ক বিভাগের নিজস্ব সরকারি গোডাউনে মজুদ রাখা হয়। মঙ্গলবার গোপন সূত্রের ভিত্তিতে গভীর রাতে জলপাইপাইমোড়ে কাঠ বোঝাই ট্রাকটিকে আটক করতেই পাচার চক্রের পর্দা ফাঁস হয়। বনদপ্তরের হাতে গ্রেপ্তার হন ভাজপা সরকারের কাস্টম ও জিএসটি দপ্তরের এই চক্রের মূল মাস্টারমাইড দুই অফিসার সহ মোট সাতজন। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে গোপন সূত্রে খবর ছিল বনদপ্তরের কাছে। গত তিনদিন আগে বনদপ্তরের আধিকারিকেরা জানতে পারেন শিলিগুড়ির শুল্ক বিভাগের একটি গোডাউনে বিপুল চোরাই সেগুন কাঠের টিক পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছে।
সেসমত গোপনে তদন্তে নেমে বনদপ্তরের কাছে উঠে আসে একের পর এক তথ্য। দেখা যায় কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পদস্থ অধিকারিকরা এই চক্রের মূল মাথা হিসেবে কাজ করছে। চারদিন আগেই শহরের পাচারকারীদের এনে হোটেলে রেখেছিল অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় সরকারি দুই আধিকারিক।দুই সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে ১০লক্ষ টাকায় চোরাই মাল পাচারের রফা হয় চোরা কারবারীদের। গোটা পথ নীলবাতির গাড়িটিকে অনুসরন করে যেতে বলা হয় ট্রাক চালককে। কলকাতায় ঢোকার মুখে ২০কিমি আগে পর্যন্ত এসকর্ট করে নিয়ে যাবে ট্রাকটিকে ওই আধিকারিকেরা।
পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে সেখান থেকে ভিন্ন রাস্তা নেবে স্করপিও গাড়িটি এমনটাই পরিকল্পনা এটেছিল মূল অভিযুক্ত কেন্দ্র সরকারের দুই উচ্চপদস্থ আধিকারীক। তবে গোপনে রেঞ্জার সঞ্জয় দত্তের নেতৃত্বে টানা নজরদারি চালাতে লাগে বনবিভাগের কর্মীরা। ওঠ পেতে এদিন গোডাউন থেকে চোরাই কাঠ নিয়ে জলপাইমোড় নৌকাঘাটের কাছে ত্রিপলে ঢাকা ভুয়ো নম্বরের ট্রাকটিকে আটক করে বনদপ্তর। ট্রাকটিতে বাঁশের আড়ালে রাখা ছিল সারিসারি সেগুন কাঠের টিক লগ। আটক করতেই ভারত সরকারের নীলবাতিওয়ালা গাড়িতে এসে দুই অফিসার ক্ষমতাফলানোর চেষ্টা করেন বনকর্মীদের ওপর। তারা বলেন এই কাঠ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ নিয়ে বনকর্মীরা উদ্ধারের সরকারি দপ্তরিয় নথি দেখতে চান তাদের কাছে। বনদপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের জেরার মুখে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন কেন্দ্র সরকারের অফিসারেরা। চোরা কারবারের পর্দাফাঁস করে চোরাই কাঠ সমেত দুই সরকারি অফিসার সহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চোরা কারবারের সঙ্গে যুক্ত অন্য পাঁচ ধৃতের নাম বিকাশ অগ্রাওয়াল, অর্নব বোস, নিশার খান, রোহিত খান, রাকেশ রঞ্জন দে। অর্নব গোয়ার বাসিন্দা, রোহিত হরিয়ানা ও নিশার রাজস্থান নিবাসী।
এদের সঙ্গে শিলিগুড়ির দুই কেন্দ্র সরকারের আধিকারিক সহ কাস্টম ও জিএসটি দপ্তরের একটা বড় অংশের যোগ রয়েছে বলেই প্রাথমিক অনুমান। যদিও এই বিষয়ে তদন্তে নেমেছে বনদপ্তর বলে জানান শুকনা এডিএফও জয়ন্ত মন্ডল। তিনি বলেন জিএসটি সুপারিনটেন্ডেন্ট দেবাশীষ ধর ইতিপূর্বেই একাধিক দূর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছেন। কেন্দ্র সরকারের ঊর্ধ্বতন কাস্টম অফিসার, জিএসটি ও সেন্ট্রাল এক্সসাইজ অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কাস্টম ও এক্সসাইজ বিভাগকে জানানো হয়েছে পুরো বিষয়টি। তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিলিগুড়ি শাখার দপ্তরের কার্যরত বলেই জানা গিয়েছে। বহুদিন ধরে এই পাচার চক্রের মাথা হিসেবে কাজ করছিল এই দুই অফিসার। এর আগেও একাধিক পাচারে কার্যকে আনজাম দিয়েছে তারা বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এদিন আসামের মিজোরাম থেকে এই কাঠ শিলিগুড়ি হয়ে কলকাতায় পাচারের উদ্দেশ্য ছিল তাদের। হাতেনাতে ২২-২৫ লক্ষ টাকার বমাল গ্রেপ্তার করা হয় সাতজনকে।বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সরকারি ফলক যুক্ত গাড়িটি। ধৃতদের জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। অন্যদিকে ধৃত জিএসটি আধিকারিক জানান তারা নাকি বুঝতেই পারেননি এটি চোরাই কাঠ। তারা রপ্তানীযোগ্য কাঠ বলে জানতেন।

Post a Comment