আদিবাসী নৃত্য শিল্পীদের সাথে নাচের তালে পা মেলালেন মুখ্যমন্ত্রী
দি নিউজ লায়নঃ সোমবার বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে ঝাড়গ্রামে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ মাঠের হেলিপ্যাড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী কে নিয়ে হেলিকপ্টার নামে। হেলিকপ্টার থেকে সড়ক পথে প্রথমে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি সংলগ্ন কমপ্লেক্সে গিয়ে ওঠেন। সেখান থেকেই তিনি ঝাড়গ্রাম শহরের ঘোড়াধরা স্টেডিয়ামে বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যায়।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে রাস্তার দু'ধারে ধামসা মাদল বাজিয়ে আদিবাসী সমাজের মানুষেরা স্বাগত জানান ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসিমুখে রাস্তার দূরে থাকা সর্বস্তরের মানুষকে হাতজোড় করে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।এর পর মঞ্চে উঠেই মঞ্চে নাচ করতে থাকা আদিবাসী নৃত্য শিল্পীদের সাথে আদিবাসী সমাজের পোশাক পরে রাজ্যের প্রতি মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা কে সঙ্গে নিয়ে নাচের তালে পামে মেলান মুখ্যমন্ত্রী। যা দেখে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই অবাক হয়ে পড়েন। এরপর তিনি একজন শিল্পীর কাছে গিয়ে থামসা বাজান। ধামসা বাজানোর পর খঞ্জনি বাজিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে অবাক করে দেন। এরপর তিনি আদিবাসী সমাজের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের ছবিতে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
সেই সঙ্গে তিনি আদিবাসী দের জীবন নিয়ে তেরি বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।তিনি আদিবাসী গুণীজনদের সংবর্ধনা জানান এবং বেশ কিছু উপভোক্তাদের হাতে সরকারি পরিষেবা তুলে দেন। যেভাবে তিনি আদিবাসী পোশাক পরে নৃত্য শিল্পীদের সাথে নাচের তালে পা মেলালেন তার মধ্য দিয়ে তিনি তুলে ধরলেন আমি তোমাদের-লোক। যা দেখে অভিভূত সকলেই ।এরপর রীতিমতো ধামসা বাজিয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন। তিনি সিধু কানু বিরসা মুন্ডা দের শ্রদ্ধা জানান ।তিনি বলেন সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর নামে ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয় চালু হবে। ২০১৭ সালের ৪ ঠা এপ্রিল ঝাড়গ্রাম নতুন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম জেলার উন্নয়নে অনেক কাজ করা হয়েছে। নয়াগ্রামের ভরসা ঘাটে সুবর্নরেখা নদীর উপর জঙ্গলমহল সেতু তৈরি করা হয়েছে। লালগড়ের আমকলা ঘাটে কংসাবতী নদীর উপর সেতু তৈরি করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি নতুন কলেজ তৈরি করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজে তৈরির কাজ চলছে ।এছাড়াও ঝাড়গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কাজ হয়েছে। ঝাড়গ্রাম এর আদিবাসী মানুষেরা যাতে কোনো ভাবে বঞ্চিত না হয় সেদিকে তিনি নজর রেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন আদিবাসীদের উন্নয়নে যেমন তিনি কাজ করছেন ।
তেমনি ঝাড়গ্রাম এর গুপ্তমনি মন্দিরে পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য ঘর তৈরি করা হচ্ছে। কনক দূর্গা মন্দির এর উন্নয়নে তিনি অর্থ সাহায্য করেছেন বলে জানান ।তিনি বলেন আদিবাসীদের অনেকেই বিভাজন করার চেষ্টা করছে ।তবে বাংলার আদিবাসীদের নিয়ে আমার গর্ব হয়। কারণ বাংলার আদিবাসীরা উন্নয়নের প্রতীক বাংলার আদিবাসীরা সন্ত্রাস ও হিংসার বিশ্বাস করে না। তাই বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে আদিবাসী মানুষের মন জয় করে নিলেন এবং তিনি প্রমাণ করলেন আমি তোমাদের-লোক।

Post a Comment