বাগডোগড়ায় ফের চিতা বাঘের আতঙ্ক
দি নিউজ লায়নঃ শিলিগুড়ির বাগডোগড়ায় ফের চিতা বাঘের আতঙ্ক। ৪০ফিট জলের পাইপের ভেতরে চিতার আস্তানা গেঁড়েছে চিতা এমন সম্ভাবনাই উঠে আসছে!শিলিগুড়ির অদূরে আপার বাগডোগড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভুট্টাবাড়ি এলাকায় মঙ্গলবার দিনভর চিতা বাঘের তল্লাশীতে কাল ঘাম ছুটলো বন্যপ্রাণ স্কোয়ার্ডের। জানা গিয়েছে মঙ্গলবার সকাল নাগাদ ভুট্টাবাড়ি চা বাগান পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থানীয় কিরন সরকারের নির্মীয়মান বাড়ির আশপাশের চিতার বাঘের দেখা মেলাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা কিরণ সরকার বাড়ির আশপাশের চিতার মতো একটি প্রানীকে এক ঝলক দেখতে পান। এরপর ওই এলাকায় অজানা জন্তুর পায়ের ছাপকে কেন্দ্র করে এলাকায় চিতার বাঘের হানার ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় বন্যপ্রাণ স্কোয়ার্ডকে। জানা যায় স্থানীয় কিরণ সরকারের বাড়ির বাইরের দিকে থাকা সিসি ক্যামেরায় চিতা বাঘের মতো জন্তুর ছবিও নাকি ধরা পড়ে। তবে এরপর চিতাটির দেখা না মেলায় স্থানীয়দের অনুমান এলাকায় থাকা পানীয় জলের প্রকল্পের একটি ৪০ফিট হিম পাইপের ভেতরে ঢুকে পড়েছে চিতাটি।
বেশ কয়েকজন স্থানীয়রা জানান ওই হিম পাইপ থেকে নাকি চিতার গর্জনও শুনতে পেয়েছেন তারা। হিম পাইপটি থেকে সংলগ্ন একটি পুকুরে জল সরবরাহ করা হয়। পুকুরের সঙ্গে হিম পাইপটি সংযুক্ত রয়েছে। ওই পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। সে গন্ধেই মাছ খেতে লোভে পাইপটিতে ঢুকে পড়েছে চিতাটি। এদিকে এলাকায় জনবসতি থাকায় চিতাবাঘ উদ্ধারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয় বন্যপ্রাণ স্কোয়ার্ডের তরফে। চিতার তল্লাশিতে নেমে ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়ার্ড হিম পাইপের মুখে খাঁচা পাতে। তবে সন্ধ্যা নেমে এলেও চিতা বাঘটির সন্ধান মেলেনি। বন্যপ্রাণ উদ্যানের রেঞ্জার এস গুরুং জানান হিম পাইপ অর্থাৎ ট্যানেলটিতে চিতা ঢুকে পড়েছে এমনটাই জানাচ্ছেন এলাকাবাসীরা।
তবে আদও চিতা বাঘ এলাকায় রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয় কারন চিতাটিকে কেউ দেখেনি। কিন্তু বনকর্মীরা সর্তকতা অবলম্বন করেছে যাতে চিতাটি কাউকে আক্রমন করতে না পারে। সেমত হিম পাইপের মুখে ও বিস্তৃন এলাকায় খাঁচা পাতার পাশাপাশি জাল ফেলা হয়েছে। সারা রাত বনকর্মীরা পাহাড়ায় থাকবেন। এলাকাবাসীদের নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান এই এলাকা সংলগ্ন ভুট্টাবাড়ী চা বাগান দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় সেখানে আস্তানা হয়ে উঠেছে চিতা বাঘের। একাধিক চিতাবাঘ ওই বাগানে আস্তানা করেছে বলে অনুমান এলাকা বাসীদের। তারা জানান যার জেরে বাগডোগরা বিমানবন্দর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক মাসের মধ্যে একাধিকবার চিতা হানার ঘটনা ঘটছে।

Post a Comment