দিলীপ ঘোষের উপর ক্ষুব্দ খড়্গপুরের বিজেপির এক প্রাক্তন কাউন্সিলার
দি নিউজ লায়নঃ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ দলেরই প্রাক্তন মহিলা কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী । রাজ্য সভাপতি তাঁদের কাছে ক্ষমা না চাইলে তাঁরা অন্য সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন ।খড়্গপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর সুখরাজ কাউর জানান , একজন মহিলার উদ্দেশ্যে উনি এই ধরনের মন্তব্য করেন কি করে ? ওনাকে কে এই সাহস দিয়েছে ? উনি ৩ বছর খড়্গপুরের বিধায়ক ছিলেন, ৩ বছর ধরে সাংসদ আছেন । কি করেছেন খড়্গপুরের জন্য ?
এভাবেই দলের রাজ্য সভাপতির দিকে প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দিয়েছেন খড়্গপুর পুরসভার বিজেপির বিদায়ী কাউন্সিলর ।রবিবার এক অসুস্থ দলীয় কর্মীকে দেখতে খড়গপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এসেছিলেন সাংসদ দিলীপ ঘোষ।কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণের জেরে জল জমে থাকায় স্থানীয় লোকজন তাঁর সামনে ক্ষোভ উগরে দেন । তিনি তাঁদের নিদান দেন , যান ' কাউন্সিলরের বাড়ি ঘেরাও করুন । বাড়ির সামনে মলত্যাগ করুন । কাদা রেখে দিন।যাতে উনি বাড়ি থেকে বেরোতে না পারেন ।
তাঁকে এও বলতে শোনা যায় , ' আমি যদি সব করে দেব, আপনারা কি বাড়িতে বসে ঘুমাবেন ? আমি সাংসদ কোটার টাকা দিয়েছি, এরপর বাড়ির পাশে নর্দমাও পরিষ্কার করে দেব ? যান , কাউন্সিলরের বাড়ি ঘেরাও করুন । ছোটো লোকের সাথে ছোটো লোকের মতো আচরণ করুন। দরকার পড়লে ল্যাম্প পোস্টে বেঁধে রাখুন । আর, দিলীপের সেই মন্তব্য নিমেষে ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। ওঠে সমালোচনার ঢেউ ।
সেদিন এবিষয়ে মুখ না খুললেও মঙ্গলবার এবিষয়ে রীতিমত অগ্নিশর্মা হয়ে উঠেছেন বিজেপির বিদায়ী কাউন্সিলর বিদায়ী মহিলা কাউন্সিলর সুখরাজ কাউর তাই অগ্নিবাণ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের উদ্দেশ্যে। ' উনি কি মহিলাদের সম্মান করতেও জানেন না ।একজন রাজ্য সভাপতি , সাংসদের মুখের এই ভাষা , ভাবতেও লজ্জা করছে । আমি নিজে এই দলের একজন কাউন্সিলর ছিলাম ।
তাঁর স্বামী একদা দিলীপ ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা সুখবীর সিং অটওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছন , এটা আমাদের আঘাত করেছে ।এটা সামাজিক অপদস্থ ও হেনস্তার সামিল ।ওনার উচিত ফোন করে ক্ষমা চাওয়া । না হলে আমাদেরকে অন্য কিছু ভাবতে হবে । উল্লেখ্য যে, মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষের ক্ষোভের মূল কারণ ছিল, তাঁর সাংসদ কোটার টাকা থেকে কোনও প্রকল্প অনুমোদন দিচ্ছে না খড়্গপুর পুরসভা । এজন্য ক্ষোভ ছিল পুরসভার প্রতি । সেই ক্ষোভের কথা বলতে গিয়েই ওই ওয়ার্ডের নিজের দলের বিদায়ী কাউন্সিলর-কেই আক্রমণ করে বসেন দিলীপ ঘোষ । বিশেষ করে যখন বাসিন্দারা বলেন, কাউন্সিলর কোনো কথাই শুনছেন না ।এরপরই, স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে অমার্জিত ও অশালীন ভাষা প্রয়োগ করে বসেন দিলীপ ঘোষ।
এরপরই, নিন্দার ঝড় ওঠে সর্বত্র। মুখ খোলেন ওই বিদায়ী কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী। সুখরাজ কাউর-এর স্বামী দলের জেলা সহ-সভাপতিও। মঙ্গলবার তিনি জানান , দিলীপ বাবুর উচিত ছিল তাঁকে বা তাঁর কাউন্সিলর (বর্তমানে, কো-অর্ডিনেটর) স্ত্রী’কে ওই এলাকায় ডেকে জিজ্ঞাস করা কেন জল জমে থাকছে ।
সুখবির অটোয়ালের কথায় , ' আমরা মহিলাদের সম্মান দিই। কিন্তু, উনি একটা মহিলার বিরুদ্ধে এত নোংরা কথা বলেছেন। রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ হয়ে ওনার মুখে এ কথা শোভা পায় না। কিছু বিরোধীদের কথা শুনে আমার স্ত্রী’কে দীলিপ বাবু বলছেন ওনাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে দিন এবং ওনার বাড়ির সামনে মলত্যাগ করে আসুন। এটা খুবই নিন্দনীয় কথা। আমি এটা কখনও বরদাস্ত করব না।'
তিনি চান দীলিপ বাবু এসে বা ফোন করে তাঁর স্ত্রী’র কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। যদি উনি ক্ষমা না চান তাহলে তাঁরা অন্য্ একটা চিন্তাভাবনা করবেন । দলে থাকবেন কিনা তাও ভাববেন ।
এর প্রত্যুত্তরে সাফাই দিয়েছেন দিলীপ ঘোষও। তিনি জানান , কারুর নাম নিয়ে তিনি বলেননি । ওনাকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। তিনি এমকেডিএ আর পুরসভার বিরুদ্ধে বলেছেন । টাকা দেওয়ার পরও কেনো কাজ হচ্ছে না, তা নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আর, এখন তো কোনো বোর্ড নেই, কাউন্সিলরও নেই। কাজেই ওনাকে উদ্দেশ্য করে বলার প্রশ্নই ওঠেনা।
এদিকে তৃণমূল নেতা তথা খড়্গপুর পুরসভার প্রশাসক প্রদীপ সরকার দিলীপ বিরোধী বিজেপি কাউন্সিলরদের তৃণমূলে আহ্বান জানিয়েছেন । দিলীপের সমালোচনা করে তিনি জানান , উনি কিছু জানেন না । জল জমার ঘটনা রেলের জন্যই হচ্ছে। তা না করে পুরসভা আর কাউন্সিলরকে গালমন্দ করছেন। একজন মহিলার প্রতি এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করতেই হবে ।তিনি যে দলরেই হোক ।

Post a Comment