রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষার প্রসার আজ মুখথুবড়ে পরেছে - The News Lion

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষার প্রসার আজ মুখথুবড়ে পরেছে

 


দি নিউজ লায়ন;   উদার নীতি শিক্ষার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীজ রোপন করেছিলেন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই উদ্দেশ্য এখন সংকটে। তিনি চেয়েছিলেন বিস্বভারতী থেকে পড়াশোনা করে শিক্ষার   প্রসার ঘটাবে বিশ্বের দরবারে।  গুরুদেবের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার প্রসার আজ মুখথুবড়ে পরেছে সৌজন্যে বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী , যিনি কি না আচার্য তথা ভরতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্নেহধন্য। এবার উপাচার্যের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গণইস্তফার হিড়িক উঠল বিশ্বভারতী জুড়ে । যদিও কেনো আধিকারিক বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে নি। অধ্যাপক - অধ্যাপিকাদের দাবী তারা ছাএছাএীদের পাঠদান করতে এসেছেন , চৌকিদার গিরি করতে নয় ।


 ঘটনার সূএপাত দুদিন আগে , বিশ্বভারতীর শিক্ষাভবনের রসায়ন বিভাগে একটি চুরির ঘটনা সামনে আসে। সেখানে থেকে চুরি হয় বেশকিছু কলের পাইপ ও একটি বেসিন চুরির চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। এরপরেই গত বুধবার থেকে শিক্ষাভবন ঢোকার গেটটি বন্ধ করে দেওয়ার হয়। এই নিয়ম শুধু শিক্ষাভবনের জন্য নয় বিশ্বভারতীর সমস্ত ভবনের জন্যেই জন্যই এই নিয়ম বলবত করা হয়। এরপর আরও একটি নতুন নিয়ম চালু করা হয়। লিখিত ভাবে নয়, মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয় যে অধ্যাপক, ছাত্রছাত্রী বা বাইরের কেউ কোন বিভাগে ঢুকতে চাইলে প্রথমে সেই বিভাগের অধ্যক্ষকে ফোনে একটি ম্যাসেজ পাঠাতে হবে, তিনি সেই আবেদন মঞ্জুর করলে তিনি সেই ফোনের ম্যাসেজ নিরাপত্তা আধিকারিককে পাঠাবেন, নিরাপত্তা আধিকারিক সেই মেসেজ ভবনের নিরাপত্তায় থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের পাঠাবেন। তবেই সেই ব্যক্তি [গবেষক ও অধ্যাপক, অধ্যাপিকারা] এলে তাকে খাতায় সই করে বিভাগের ভিতরে ঢুকতে দেবে নিরাপত্তারক্ষীরা। এবং এই যাবতীয় তথ্য বিভাগীয় প্রধানদের কাছে রাখতে হবে ও সময়-সময়ে সেগুলো রেজিষ্ট্রার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পৌঁছে দিতে হবে।


বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে এতেই আপত্তি তোলেন শিক্ষাভবনের সমস্ত বিভাগীয় প্রধানেরা। এই দীর্ঘমেয়াদী কার্যকলাপের ফলে অনেক সময় অপচয় হচ্ছে বলে দাবি অনেক অধ্যাপক ও গবেষকদের। এমনকী, বিশ্বভারতীর বায়োসাইন্স, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স প্রভৃতি গবেষণাগারে অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেন গবেষকরা কিন্তু নিরাপত্তার এই কড়াকড়িতে তাঁদের কাজের অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিমত পোষণ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গবেষক।

বিশ্বভারতী সুত্রে খবর গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষাভবনের (বিজ্ঞান বিভাগ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক তারাপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষাভবনের সমস্ত বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে তিনি উপাচার্যের নির্দেশে সকলেকে প্রস্তাব দেন যে প্রতিটা বিভাগে কে ঢুকছে এবং বেরোচ্ছে তার সমস্ত তথ্যাবলী বিভাগীয় প্রধানদের রাখতে হবে এবং সময় সময় সেগুলো রেজিষ্ট্রার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সমস্ত বিভাগীয় প্রধান এই ‘ফতোয়া’ সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। তারা জানান যে তারা বিভাগের একাডেমিক প্রধান, কোন ‘চৌকিদার’ নন। উপাচার্যের নির্দেশ বিভাগীয় প্রধানদের রাজী করাতে না পেরে হতাশ অধ্যাপক তারাপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষাভবনের অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করতে চান। 


সুত্রের দাবী, তখন বাকি সব বিভাগীয় প্রধান একে একে জানান যে তারাও যখন কর্তৃপক্ষের একাডেমিক কাজ ছেড়ে ‘চৌকিদারী’ করার নির্দেশ মানতে পারবেননা, সুতরাং তারা সবাই তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন। এই নিয়ে ওই মিটিং-এ একটি প্রস্তাব [resolution] গৃহীত হয় যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা ভবনের সব বিভাগীয় প্রধান এবং অধ্যক্ষ তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক বলেন, “বিশ্বভারতীর শিক্ষাভবনের বিভিন্ন বিভাগের গবেষণাগারে কোটি কোটি টাকার ল্যাব ইন্সট্রুমেন্ট রয়েছে যেগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন ঠিকই, কিন্তু অধ্যাপকদের দায়িত্ব নিরাপত্তা দেখার নয় তাঁদের কাজ অধ্যাপনা ও একাডেমিক সংক্রান্ত বিষয় পরিচালনা করার। তাই নতুন করে এই নিরাপত্তা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষাভবনের অধ্যক্ষ তারাপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান এর থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে শুনেছি।”


যদিও তাদের পদত্যাগপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে গৃহীত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে পদত্যাগের এই ঘটনা স্বীকার করেছেন বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠন ভিবিইউএফএর এক অধ্যাপক। এই ঘটনায় অধ্যাপকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন অধ্যাপক সংগঠন ভিবিইউএফএ। 

তবে সামগ্রিক বিষয়ে বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আশ্রমিক সুবোধ মিএ বলেন , গৃহকর্তা যেমন হবে বাড়ির সন্তান তেমন শিক্ষা পাবে , এটাই সাভাবিক। যেখানে আচার্য্য নিজেকে চৌকিদার বলে নিজের পরিচয় দেয় সেখানে তার অধীনস্থ উপাচার্য সবাই কে চৌকিদার সাজিয়ে গবেট মার্কা কাজকর্ম করবেন এটাই প্রত্যাশিত 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.