বামেদের প্রায় ছয় কোটি ঘাটতির বোঝা বর্তমান তৃনমূল বোর্ডের কাঁধে
দি নিউজ লায়ন; রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের প্রায় ৫কোটি ৪০লক্ষ টাকা আটকে রাজনীতি শিলিগুড়ি পুরনিগমের পূর্ব বাম বোর্ডের। বোর্ডের শেষ ১৮মাসে একটি টাকাও মেলেনি প্রাপকদের।পূর্ব বোর্ডের এই বিপুল অংকের অর্থের বোঝা নিয়ে কোভিড পরিস্থিতিতে কাজে নামতে হচ্ছে বর্তমানে তৃনমূলের প্রশাসক বোর্ডকে। জানা গিয়েছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের আওতায় থাকা বার্ধক্য ভাতা থেকে বিধবা ভাতা, শারীরিক অসুস্থতা বাবদ আর্থিক সাহায্যয়ের কোনো প্রাপ্য অর্থই বাম বোর্ডের শেষ দু বছরে দেওয়া হয়নি প্রকল্প প্রাপকদের। এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির ষড়যন্ত্র বলেই দাবি করছে বর্তমান তৃনমূলের পুর প্রশাসক বোর্ড।
শুধুমাত্র রাজ্য সরকার তথা ঘাস ফুল শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার জন্যই রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের প্রতি মাসের শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রপাকদের মোট ৩০লক্ষ টাকা করে আটকে রেখেছে পূর্বের অশোক ভট্টাচায্যের বোর্ড। প্রায় ২বছর যাবৎ পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্রাপকদের মাসিক ভাতা বাবদ রাজ্যের তরফে দেওয়া টাকা শিলিগুড়ি পুরনিগমের বাম বোর্ডের তরফে প্রদান করা হয়নি। এই নিয়ে তৃনমূলের একাধিক কাউন্সিলদের নেতৃত্বে সে সময় বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতা সহ সামাজিক প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রাপকেরা পুরনিগমের তৎকালীন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য্যের কক্ষের বাইরে ধর্ণায় বসে জবাব চাইলেও অসহায় মানুষগুলিকে এবিষয়ে উত্তর পর্যন্ত সেসময় দেননি অশোক বাবু। আর তার এই উদাসীনতার জেরে মাসিক ৫০০ টাকা করে হলে আটকে থাকা ১৮মাসে প্রাপকদের মাথাপিছু ৯হাজার টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের কাছে।
শুক্রবার পুর প্রশাসক গৌতম দেব জানান পূর্বের বাম বোর্ড সামাজিক প্রকল্পের বকেয়া পাঁচ কোটি টাকার ঘাটতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। এই বকেয়ার বোঝা নিয়ে বর্তমান বোর্ডকে কোভিড পরিস্থিতিতে কাজ করতে হচ্ছে। পুর প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার জানান ১৮ মাস সামাজিক প্রকল্পের প্রপাকদের প্রাপ্য অর্থ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছে পূর্বের অশোক বাবুর বাম বোর্ড। বর্তমানে সেই বকেয়া গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫কোটি ৪০লক্ষ টাকার কাছাকাছি। পাশাপাশি আরও প্রায় এককোটি টাকার অতিরিক্ত দেনা রেখে গিয়েছে বামেরা। একইসঙ্গে বিভিন্ন খাতের বিপুল অংকের টাকার নয়ছয় তো রয়েইছে। তিনি বলেন আমরা বোর্ডের দায়িত্ব নেওয়ার সময়কাল থেকে অর্থাৎ গত মে মাস থেকে সামাজিক প্রকল্পের প্রপাকদের টাকা প্রতিমাসে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করি। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের আওতায় থাকা শিলিগুড়ি পুর এলাকার কয়েক হাজার প্রাপকদের কাছে চলতি দু মাসের প্রাপ্য টাকা পৌঁছেও গিয়েছে। তবে পূর্ব বাম বোর্ডের ষড়যন্ত্রের জেরে পূর্ব বোর্ডের শেষ ১৮মাস সময়কালের যে মোটা অংকের প্রকল্প প্রাপকদের প্রাপ্য অর্থ বকেয়া পড়ে রয়েছে সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।

Post a Comment