জঙ্গলমহলের সারেঙ্গা ব্লকের একমাত্র বিরোধী পঞ্চায়েতের ক্ষমতা হারাল বিজেপি
দি নিউজ লায়ন; অনাস্থা ভোটে গোহারা হয়ে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের সারেঙ্গা ব্লকের একমাত্র বিরোধী পঞ্চায়েতের ক্ষমতা হারাল বিজেপি । দিন কয়েক আগেই সারেঙ্গা ব্লকের বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির তিন নির্বাচিত সদস্য তৃনমূলে যোগ দেওয়ায় ওই পঞ্চায়েতে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে বিজেপি । এরপরই ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে তৃনমূল । সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আজ গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটাভুটি হয় । ১১ টি আসন বিশিষ্ঠ ঐ গ্রাম পঞ্চায়েতের অনাস্থা ভোটে তৃনমূলের পক্ষে ভোট পড়ে আটটি । আর তাতেই ক্ষমতা হারায় বিজেপি । বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১১ টি আসন বিশিষ্ঠ বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৬ টি আসনে জয় পায় বিজেপি ।
৩ টি আসনে জয়লাভ করে তৃনমূল । ২ টি আসন যায় নির্দল প্রার্থীদের ঝুলিতে । সেই সময় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করে বিজেপি । সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে তৃনমূলের ব্যাপক সাফল্যের পর ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে রদবদল শুরু হয় । বিধানসভা নির্বাচনের পনেরো দিন যেতে না যেতেই বিজেপির নির্বাচিত তিন সদস্য দল বদল করে গেরুয়া পতাকা ছেড়ে কাঁধে তুলে নেয় তৃনমূলের পতাকা । স্বাভাবিক ভাবেই ওই পঞ্চায়েতে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে বিজেপি । এরপরই পঞ্চায়েতের নিয়ম অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় তৃনমূল । অনাস্থা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আজ বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে ভোটাভুটির ডাক দেয় প্রশাসন । সেই ভোটাভুটিতে তৃনমূলের পক্ষে পড়ে আটটি ভোট ।
তৃনমূল সূত্রে খবর বিজেপির চার নির্বাচিত সদস্য ছাড়াও একজন নির্দল সদস্য তাঁদের পক্ষে ভোটদান করেছেন । অনাস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হওয়ায় এবার বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করবে তৃনমূল । সারেঙ্গা ব্লকের বিরোধী পরিচালিত একমাত্র গ্রাম পঞ্চায়েতটি নিজেদের দখলে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই উল্লসিত ঘাসফুল শিবির । তৃনমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা বলেন, বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা ও ভরসা আর নেই । বিজেপির পায়ের তলার মাটি আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে । ধীরে ধীরে গোটা বাংলা থেকেই তারা এবার বিদায় নেবে । বিজেপির নির্বাচিত তিন সদস্য আমাদের দলে যোগ দেওয়ায় আমরা আগেই বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিলাম । করোনা বিধির কারনে এতদিন অনাস্থা ভোট প্রক্রিয়া আটকে ছিল । এবার ওই পঞ্চায়েতে আমাদের বোর্ড গঠন হবে । আগামীদিনে এলাকার উন্নয়নে এই পঞ্চায়েত বোর্ড অন্যতম শরিক হয়ে উঠবে ।

Post a Comment