মাধ্যমিকে ফের ফলের নিরিখে এগিয়ে জেলা
দি নিউজ লায়নঃ মাধ্যমিকে ফের ফলের নিরিখে এগিয়ে জেলা উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্র জেলার জয়জরকার। কৃতিদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা নিদারুণ দারিদ্রকে হারিয়ে মাধ্যমিকে কৃতি হয়েছেন অনেকে আবার বলছেন পরীক্ষা হলে ফলাফল আরো ভালো হতে পারতো।
আলিপুরদুয়ার
আলিপুরদুয়ার ম্যাকউইলিয়াম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্র অর্ঘদ্বীপ দেবনাথ এবার মাধ্যমিকে ৬৯৭ পেয়েছে। ছোট বেলা থেকেই ক্লাসে প্রথম হয় অর্ঘদ্বীপ। এবার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসতে পারে নি অর্ঘদ্বীপ। সেই আক্ষেপ রয়েছে। তবুও রেজাল্টে খুশি সে। আপাতত উচ্চমাধ্যমিক সম্পূর্ন করে জয়েন্ট দেবে সে। পরবর্তীতে কি করবে তা এখনও ভাবে নি অর্ঘদ্বীপ। বাবা তপন দেবনাথ রেলের অফিসার। মা কাবেরি দেবনাথ গৃহবধু। ম্যাকউইলিয়াম স্কুলে একমাত্র অর্ঘদ্বীপ এত বেশি নম্বর পেয়েছে। খুশি স্কুলের শিক্ষকরা। কোভিড পরিস্থিতিতে স্কুলের হতাশা কাটিয়ে দিয়েছে অর্ঘদ্বীপ বলে জানালেন স্কুলের শিক্ষকরা। অংক, জীবন বিজ্ঞান, ভৌতবিজ্ঞান ও ভুগোলে ১০০ তে ১০০ পেয়েছে অর্ঘদ্বীপ। অন্যান্যগুলোতে ১০০ তে ৯৯ নম্বর পেয়েছে অর্ঘদ্বীপ।
নবদ্বীপ
বাবা সব্জি বিক্রেতা। পরিবারে চরম অভাব অনটন। তার মধ্যেও অদম্য জেদে মাধ্যমিকে অষ্টম স্থান অর্জন করল নবদ্বীপ আরসিবি সারস্বত মন্দিরের ছাত্র দীপশঙ্কর সাহা। ভবিষ্যতে একজন প্রতিষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায় দীপশঙ্কর। তাঁর এই সফলতায় স্বাভাবিকভাবেই আরসিবি সারস্বত মন্দির বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা সহ খুশি ছাত্রটির পরিবারের সদস্যরা। দীপশঙ্করের বাবা মনোতোষ বাবু জানান, ছোট থেকেই মেধাবী দীপশঙ্কর। যদিও যতটা প্রয়োজন ততটা সাহায্য তিনি করতে পারেননি ছেলেকে। পরিবারের অভাব এর মধ্যেও কোনোক্রমে ছেলের পড়াশোনা চালাচ্ছেন স্কুলের শিক্ষকরা ও যথেষ্ট সাহায্য করেছেন এত অভাব এর মধ্যে মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় ছেলের নাম আশায় তিনি খুশি তিনি জানান ভবিষ্যতে ভালো কাজ করে শুধু পরিবার নয় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াক দীপ শঙ্কর।
কৃষ্ণনগর
মাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা 79 জন এর মধ্যে রয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সৃজিতা মন্ডল। মাধ্যমিকের ফলাফল বেরোনোর পরে উচ্ছ্বাসিত গোটা কৃষ্ণনগর। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মৃণালিনী গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী বরাবরই মেধাবী। বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসের পরীক্ষার ফলাফল ছিল নজরকাড়া। সেই কারণেই সৃজিতা কে নিয়ে সবসময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে চর্চার বিষয় হয়ে থাকতো। মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করবে এটুকু আশা ছিল সৃজিতা মন্ডলের পরিবার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। কিন্তু প্রথম স্থান অধিকার করেছে এটা তাদের কাছে বাড়তি পাওনা। ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পরেই সৃজিতা পরিবার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ। সৃজিতা 697 পেয়ে মাধ্যমিকে 79 জন এর মধ্যে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেছে।
শিলিগুড়ি
মাধ্যমিকে জেলায় প্রথম ও রাজ্যে সম্ভাব্য সপ্তম স্থানাধিকার করে শিলিগুড়িকে গৌরবান্বিত করলো প্রত্যন্ত গ্রামের ভ্যান চালকের ছেলে উমানন্দ বর্মন। যুগ্ম ভাবে সপ্তম হয়ে দেখিয়ে দিলো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রী বৈশাখী সেনও। স্টুডেন্ট ক্রেডিড কার্ডকে সম্বল করেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষে দৌঁড়তে চায় রাজ্যের মেধা তালিকায় জায়গা করে নেওয়া শিলিগুড়ি মহকুমার এই দুই মেধাবী পড়ুয়া। প্রতিবন্ধকতা যতই আসুক লক্ষ্য অবিচল হলে জয় কঠিন নয়। রাজ্য মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করে তার প্রমাণ দিলো শিলিগুড়ি উমানন্দ ও বৈশাখী। তাদের দুজনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।
ঝাড়গ্রাম
রাজ্যের মাধ্যমিকে দশম স্থানের মধ্যে ঝাড়্গ্রাম জেলার ৮ জন পরীক্ষার্থী জায়গা করে নিল। এদিন মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল হাতে পেয়েছে। তবে এবছর করোনা পরিস্থিতির জন্য পরীক্ষা না হলেও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ হয়েছে।সেই নিরিখে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন স্কুলের আট জন রাজ্যে দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।এবছর সকল পরীক্ষাথীই উত্তীর্ন হয়েছে।জেলার সমস্ত মাধ্যমিক উত্তীর্নদের একাদশ শ্রেনীতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা।এদিন ঝাড়গ্রাম জেলা বিদ্যালয়(মাধ্যমিক)দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে এবছর মোট মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল ১৫,৪৭১ জন।এদের মধ্যে ছাত্র ৭২২০ জন এবং ছাত্রী ছিল ৮২৫১ জন।জেলা বিদ্যালয় দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে কুলটিকরি এসসি হাইস্কুলের দেবাশিষ দাস ৬৯৩ নম্বর পেয়ে জেলায় প্রথম এবং রাজ্যে পঞ্চম স্থান দখল করেছে।৬৯১ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে রাজ্যে সপ্তম স্থান অধিকার করেছে দহিজুড়ি মহত্মা বিদ্যাপিঠের সৌমিত্র দাস এবং আগুইবনি হাইস্কুলের স্মরন্ন গিরি।৬৯০ পেয়ে রাজ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে দুবড়া আদর্শ বিদ্যামন্দিরের অঙ্কিতা মন্ডল।৬৮৯ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে রাজ্যে নবম স্থান পেয়েছে মহাপাল হাইস্কুলের সৌমেন পাত্র ও ধগাড়ি হাইস্কুলের অরুপ ঘোষ।৬৮৮ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছে চিচিড়া হাইস্কুলের তন্ময় সাউ এবং খাড়বান্দী হাইস্কুলের নন্দিনী মাহাতো ।

Post a Comment