শিলিগুড়িকে গৌরবান্বিত করলো প্রত্যন্ত গ্রামের ভ্যান চালকের ছেলে উমানন্দ বর্মন ও বৈশাখী সেন
দি নিউজ লায়নঃ মাধ্যমিকে জেলায় প্রথম ও রাজ্যে সম্ভাব্য সপ্তম স্থানাধিকার করে শিলিগুড়িকে গৌরবান্বিত করলো প্রত্যন্ত গ্রামের ভ্যান চালকের ছেলে উমানন্দ বর্মন। যুগ্ম ভাবে সপ্তম হয়ে দেখিয়ে দিলো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রী বৈশাখী সেনও। স্টুডেন্ট ক্রেডিড কার্ডকে সম্বল করেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষে দৌঁড়তে চায় রাজ্যের মেধা তালিকায় জায়গা করে নেওয়া শিলিগুড়ি মহকুমার এই দুই মেধাবী পড়ুয়া। প্রতিবন্ধকতা যতই আসুক লক্ষ্য অবিচল হলে জয় কঠিন নয়। রাজ্য মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করে তার প্রমাণ দিলো শিলিগুড়ি উমানন্দ ও বৈশাখী।
তাদের দুজনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১। শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি ব্লকের গোসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা খয়রানী জোতে মা বাবা চার ভাই বোনের সঙ্গে টিনের চালের বাড়িতেই বসবাস করে উমানন্দ। গোসাইপুরের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হাই স্কুলের ছাত্র সে। বিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। সপ্তম শ্রেণি থেকেই প্রথম হয়ে এসেছে সে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিপ বোস। চরম আর্থিক অনটনের মাঝেই কৃতি ছাত্রের এই ফল গোটা মহকুমায় উদাহরণ কায়েম করেছে।
বাবা সত্যেন্দ্রনাথ বর্মন ভ্যান চালিয়ে চার ছেলেমেয়ের জন্য কোনোরকমে অন্ন সংস্থান করতেন। তবে শারীরিক অসুস্থ্যতার জেরে বর্তমানে গোসাইপুর লটকা নদীর ধারে বসে বেশ কয়েকবছর যাবৎ সব্জি বিক্রি করেন তিনি। মাধ্যমিকের কৃতি ছাত্র উমানন্দের বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত বাংলায়-৯৯,ইংরেজিতে ৯৯, অংকে-১০০,জীব বিজ্ঞানে- ৯৮ , ভৌত বিজ্ঞানে ৯৯,ইতিহাসে৯৮ ভূগোলে ৯৮।আগামীতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশুনো করে ভবিষ্যতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় সে। উমানন্দের দাদা বিজয় বর্মন বলেন টানাটানির সংসার। সবজি বিক্রি করেই সংসার চলে। কোভিডকালে বাড়িতে একটিমাত্র স্মার্টফোন থাকায় পড়াশুনো নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় ভাইকে। কাজের ফাঁকে তার দাদা যেটুকু সময় বাড়িতে থাকতেন সেসময় ফোনে শিক্ষক শিক্ষিকাদের অনলাইন ক্লাসগুলি বুঝে নিতো সে। এরমাঝেও রাজ্যে স্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই পড়াশুনো চালিয়ে গিয়েছিল উমা। তবে চূড়ান্ত আর্থিক অনটনের সংসারে আগামীতে উমার স্বপ্ন পূরণ করতে রাজ্য সরকারের সহায়তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবার। বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশুনো এগিয়ে নিয়ে যেতে যে বিপুল ব্যয়ভার। তবে লক্ষ্যে অবিচল মেধাবী ছাত্র উমা সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি এই ব্যয়ভার বহন করার জন্য রাজ্য সরকারের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এর ওপর ভর করেই এগোতে চায়। একইভাবেই রাজ্যের সম্ভাব্য যুগ্ম সপ্তম স্থানাধিকারি শিলিগুড়ি শ্রীগুরু বিদ্যামন্দিরের ছাত্রী বৈশাখী সেনও ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। একাদশে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে ভর্তি হতে চলেছে সে। তার বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বাংলা ৯৯, ইংরেজিতে ৯৮, গণিতে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৯, জীবন বিজ্ঞানে ১০০,ইতিহাস ৯৯,ভূগোলে ৯৬ ঐচ্ছিক বিষয় কম্পিউটারে ৯৯। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৬নাম্বার ওয়ার্ড সমননগরের বাসিন্দা বৈশাখির বাবা অমর চন্দ্র সেন টিভি সারাইয়ের কাজ করেন। মা গৃহবধূ। লকডাউনের জেরে বিগত দুবছর ধরে বন্ধ সে দোকান। অমর বাবু বলেন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার আমাদের। বিগত বছরে টানা লকডাউনে আয় প্রায় শূন্য। রেশনের ২টাকা কেজি চাল সেদ্ধ করে দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে কোনোরকমে সংসার চলেছে। তবে মেয়ে ছোট থেকেই পড়াশুনোয় ভালো। তার স্বপ্নপূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবো। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াতে প্রচুর খরচ, সরকারি কিছু সাহায্য পেলে পড়াশুনো চালিয়ে যেতে সুবিধে হবে। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের কথা শুনেছি প্রয়োজন হলে আবেদন করবো, তাতে পরিবারের অনেকটাই সাহায্য হবে বলে জানায় মেধাবী ছাত্রী বৈশাখী। এদিন তাদের সাফল্যে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা সহ মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে সংগঠিত করেন শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলা মাধ্যমিক ডিআই রাজীব প্রামানিক।

Post a Comment