কাশির শব্দশুনেই করোনা শনাক্ত
দি নিউজ লায়নঃ গত বছর থেকেই বিভিন্ন গবেষণাদল এমন একটি অ্যাপলিকেশন তৈরি করতে চেষ্টা করছিল, যা কিনা যে কোনো জায়গায় যে কোনো মুহূর্তে কেবল মাত্র কাশির শব্দশুনেই করোনা শনাক্ত করতে পারবে। জুনেই ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল দেখিয়েছিল যে অন্যান্য সংক্রমণ জনিত কাশি থেকে একজন কোভিড-১৯ রোগীর কাশি আলাদা করা সম্ভব।
এমআইটি-র একটি গবেষণাও বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাশি ডাটাসেট ব্যবহারকরে প্রায় শতভাগ সফলতার সাথে সংক্রমিত থেকে অসংক্রমিত মানুষকে আলাদা করতে পেরেছে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন দ্বারা অনুমোদিত হয়, তাহলে হয়তো কোভিড ১৯ কাশিঅ্যাপ্লিকেশন অচিরেই বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া যাবে। সময়োপযোগী সম্ভাবনাময় এইক্ষেত্রটি বেশ দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। বিল ও মেলিন্ডাগেটস ফাউন্ডেশনের কাফ এগেইন্সট কোভিড, মুম্বাইর ওয়াধওয়া ইন্সটিটিউট অফ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ সাউন্ডপ্রজেক্ট একই রকম অ্যাপ তৈরি করতে গবেষণা করে যাচ্ছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, কাশির শব্দ শুনেই একাধিক মডেলের অ্যাপ যে কোভিড শনাক্ত করতে পারে তা প্রমাণ করে, সত্যিকারের লক্ষণ মুক্ত করোনা সংক্রমণ বলে আসলে কিছুই নেই। কোন না কোন শারীরিক পরিবর্তন এখানে ঘটেই যা আক্রান্ত ব্যক্তির শব্দ তৈরির প্রক্রিয়াকে পরিবর্তীত করে। ইন্সটিটিউট অফ ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারস এর ওপেন জার্নাল অফ মেডিসিনঅ্যান্ডবায়োলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমআইটি অটো-আইডিল্যাব-এর পরিচালক এবং সেখানকার গবেষণাটিরসহ-গবেষক ব্রায়ান সুবিরানা বলেছেন, খুবকম অসুখই আছে,যা শরীরে কোন ও লক্ষণ তৈরি করে না।
যদিও মানুষের কান এই পরিবর্তন গুলি আলাদা করতে পারে না, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পারে। ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ৪ নেটওয়ার্ক গবেষণাকেন্দ্রের প্রকল্পটির নেতৃত্বদানকারী আলী ইমরান ধারণাটিকে একটি গিটারের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, আপনি যদি কোনও গিটারে বিভিন্ন আকার বা উপকরণের বস্তুরেখে একই নোট গুলি বাজান, তাতে খুব সূক্ষ্মহলে ও শব্দের তারতম্য পাওয়া যাবে।
ইমরান বলেছেন, মানুষের কান পাঁচ থেকে দশ রকমের কাশির শব্দ আলাদা করতে সক্ষম। কিন্তু সিগন্যাল প্রসেসিং এবং মেশিনলার্নিংয়ের মাধ্যমে আমরা যেকোন কাশির প্রায় ৩০০টি আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বেরক রতে পারি। মহামারী আঘাত হানার পূর্বেই সুবিরানার এমআইটির গবেষণাদলটি মেশিনলার্নিং ব্যবহারকরে শব্দের মাধ্যমে আল ঝেইমার রোগ নির্ণয় করার জন্য কাজ করছিল। কোভিড-১৯ আসার পর তারা দ্রুত তাদের গবেষণাকে কোভিড-১৯ নির্ণয়ের কাজে ব্যবহার করা যায় কি না তা নিয়ে কাজ শুরু করেন। এ কাজে তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৭০,০০০ কাশির শব্দরে কর্ড করেন, যা কি না পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোভিড-১৯ অডিও ডাটাসেট।
এখান থেকে তারা কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে করোনা পজিটিভ রোগীদের প্রায় ৯৮.৫% এবং করোনা নেগেটিভ রোগীদের মধ্যে প্রায় ৮৩.২% সফলতার সাথে এই রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম হন। এর মধ্যে পজিটিভ রোগীদের যাদের কোন লক্ষণ ছিল না, তাদের প্রায় শতভাগ রোগীর করোনা সনাক্ত করতে সক্ষম হন তারা। বর্তমানে আরো অনেক গুলো দল কাশির রেকর্ডিং সংগ্রহ করে যাচ্ছে গবেষণাটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে এই কাশির অ্যাপ একদিন দৈনন্দিন জীবনে শিক্ষার্থীদের কিংবা শ্রমিকদের কোভিড শনাক্তের কাজে ব্যবহার করা হবে। একই সাথে এরকম শব্দনির্ভর উপায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যকোন রোগও হয়তো শনাক্ত করা যাবে, যা কিনা মানুষের জন্য একটি আগাম সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। বর্তমান সৌদি আরব, ভারত এবং যুক্তরাজ্যে কাশির শব্দ ছাড়াও কেবল মানুষের কন্ঠ শুনেও কোভিড-১৯ শানাক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে ও গবেষণা চলছে।

Post a Comment