ড্রাকুলা দুর্গের রহস্য - The News Lion

ড্রাকুলা দুর্গের রহস্য

 


দি নিউজ লায়নঃ   করোনার আতঙ্কে বহু দিন বন্ধ থাকার পর আবার খুলছে ড্রাকুলার দুর্গ। কিন্তু এখানে প্রবেশের জন্য দেখাতে হবে শরীরে কামড়ের দাগ। এই কামড়ের দাগ আর কিছু নয়, করোনা টিকার দাগ। এই ব্রান দুর্গ, আসলে ড্রাকুলার দুর্গ নামেই বেশি পরিচিত৷ রোমানিয়ার সেরা দ্রষ্টব্যগুলির মধ্যে একটি৷ গোটা বিশ্বের মানুষ রাজধানী বুখারেস্ট থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তরে ব্রান শহরে রক্তচোষা বাদুড়ের টানে আসেন৷ ব্রাম স্টোকারের লেখা ‘ড্রাকুলা’ উপন্যাস এই দুর্গ নিয়ে তৈরি হওয়া কল্পনার জগতকে পৌঁছে দিয়েছিল সারা পৃথিবীর কাছে। আর সেই কাহিনিই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকদের টেনে নিয়ে যায় এখানে।


গল্পটির সার সংক্ষেপ এরকম: মৃত কাউন্ট ড্রাকুলা দিনের আলোতে কফিনের ভেতর নিথর হয়ে থাকতেন। সূর্য ডোবার সাথে সাথে জেগে উঠতেন তিনি। তারপর বের হতেন শিকারের খোঁজে। অবশেষে শিকার করা মানুষের গলায় তীক্ষ্ণ দুটি দাঁত বসিয়ে রক্ত চুষে খেতেন। এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে অসংখ্য চলচ্চিত্র। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে রোমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়ার ব্রান দুর্গ এমনই এক দুর্গ যার সাথে জড়িয়ে আছে ড্রাকুলার গল্প।


লোকে বলে, রোমানিয়ার কার্পাতিয়ান পর্বতমালার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিসের যেন মন খারাপ করা হু হু বাতাস বয়ে যায় মেঘ করে এলেই। সন্ধ্যে নামার সময় কার যেন চাপা, অস্পষ্ট কান্না ভেসে বেড়ায় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে। কেউ শোনেনি, আবার শুনেছে সবাই। কেননা ট্রানসিলভানিয়া এবং ওয়ালাশিয়ার সীমানায় এক পাহাড়ের চূড়ায় পরিত্যক্ত ব্রান প্রাসাদটিকে ঘিরে ঘুরপাক খায় নানা গল্প, উপকথা, স্থানীয় বিশ্বাস। এমন দুর্গ মধ্য ইউরোপে বিরল কিছু নয়, কিন্তু সেই যে পরিবেশের প্রভাব, একে তো দুর্গম ট্রানসিলভানিয়া তার উপর আবার খোদ ড্রাকুলার আস্তানা বলে কথা, দেখামাত্রই মনে হল জানালা দিয়ে কেউ উড়ে বের হল কিনা ডানা ঝাপটে! 


বেশ লম্বা লাইন সেই সাত সকালেই দুর্গের সামনে।  এর দুর্গটি ড্রাকুলার দুর্গ হয়ে উঠার পিছনে রয়েছে এক ইতিহাস। ১৪৪৮ সালে ওয়ালিসিয়ার যুবরাজ হিসেবে জন্ম নেন তৃতীয় ভ্লাদ টেপাস। কথিত আছে, তিনি এক অত্যাচারী শাসক ছিলেন। তবে রোমানিয়া বা পূর্ব-ইউরোপের চেয়ে বরং পাশ্চাত্যই ভ্লাদকে এক অতিমাত্রায় নিষ্ঠুর, রক্তপিপাসু শাসক হিসেবে চেনে। বলা হয়ে থাকে অটোম্যান সম্রাট দ্বিতীয় মেহমুদ ভ্লাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় ভ্লাদের রাজধানীর কাছে এক অঞ্চলে শূলে চরানো ২০,০০০ মৃতদেহ দেখেন, আর এই নিষ্ঠুরতা চাক্ষুষ করেই তিনি অসুস্থ বোধ করেছিলেন।


কিন্তু রোমানিয়ায় ভ্লাদ টেপাসকে একজন দেশপ্রেমী রাজা হিসেবেই দেখা হয়। তুর্কি হানাদার এবং অন্যদের থেকে মাতৃভূমি রক্ষা করতেই যে সারা জীবন যুদ্ধ করে গেছে। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনও রহস্যে ঘেরা। তার কবরটি যেখানে পাওয়া যায় সেখানে কোন মৃতদেহ ছিল না। হয়ত সে থেকেই অমর ভ্লাদের গল্প ডানা মেলা শুরু করে।  কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নেই যে এখানে ড্রাকুলাদের আবাস ছিল। আর ড্রাকুলার খ্যাতিমান স্রষ্ট্রা ব্রাম স্টোকার কিন্তু জানতেনও না সেখানের পাহাড়ে ড্রাকুলারা কোনদিন থেকেছে কিনা। তবে কীভাবে যেন জনশ্রুতি রটে গেছে।


 সেই বিশ্বাসের জন্যই লোকে দূরদূরান্ত থেকে ঘুরতে যায় সেখানে। তাদের নাকি একটা হাড় হিম করা অনুভূতিও হয়। হয়তো এর পিছনে এই গুজবও দায়ী।  তবে ব্রান প্রাসাদ তৈরির পিছনে এক ইতিহাস রয়েছে যা বেশ ঘটনাবহুল। ৫৭টি রুম এবং ১৬টি বেডরুম, সাথে ইউনিক এন্টিক ফার্নিচার দিয়ে সাজানো এই দুর্গ। ১২১২ সালে টিউটোনিক নাইটরা এটি তৈরি করেছিল। কিন্তু ১২৪৮ সালে মোঙ্গল দস্যুরা এটি প্রায় ধ্বংস করে দেয়। চতুর্দশ শতকে অটোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের সময়ে এটি রোমানিয়ার মানুষদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছিল। মাঝখানের সময়টাও অনেক হাতবদল হয়েছে এর মালিকানা।


তবে ১৯২০ সালে ট্রানসিলভানিয়া বৃহত্তর রোমানিয়ার অঙ্গ হয়ে যায়। সে সময় শহরের মেয়র প্রস্তাব করেন এটি রোমানিয়ার রাজপ্রাসাদ হওয়া উচিত। তখন রাণী মেরির নামডাক ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশ জুড়ে। প্রথা মেনে এটি হস্তান্তর করা হয় রাজপরিবারের কাছে। আর তখন থেকে রাজপরিবারের সদস্যরা থাকতে শুরু করেন এখানে। রাণী মেরির খুব পছন্দের জায়গা ছিল এটি।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.