শুভব্রত মৃত্যু রহস্যের তদন্তে ফের সিআইডি হানা শান্তি কুঞ্জে
দি নিউজ লায়নঃ রক্ষী মৃত্যুর তদন্তে শুভেন্দুর বাড়ি গিয়ে ভিডিওগ্রাফি সিআইডির। রক্ষী মৃত্যুর তদন্তে ফের শান্তিকুঞ্জে সিআইডি। এবার একেবারে শুভেন্দুর বাড়ির উলটো দিকে অবস্থিত নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যারাকে গিয়ে ভিডিওগ্রাফি করেন সিআইডির আধিকারিকরা। বুধবারের পর ফের শনিবার দুপুরে শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর রহস্যমৃত্যুর তদন্তে কাঁথি শহরে গিয়ে পৌঁছায় সিআইডি চার সদস্যের একটি দল। শনিবার তারা শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ির সামনে শুভব্রত চক্রবর্তী যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়ি ঘুরে দেখার পাশাপাশি ভিডিওগ্রাফিও করে নিয়ে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ভাই তথা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারিও।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শুভেন্দু অধিকারীর ভাই তথা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারি জানান, "আমাকে তেমনভাবে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য তারা যদি একশো বার আসতে চান নিশ্চয়ই আসতে পারেন। আমরা সহযোগিতা করব।" শুভেন্দু'র প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু রহস্য সমাধানে শুক্রবার সোজা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিস লাইনে হানা দিলেন তদন্তকরীরা। কথা বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর সহকর্মীদের সঙ্গে।
সূত্রের খবর, তমলুকের মানিকতলা জেলা পুলিশ লাইনসে পৌছয় সি আইডি-র ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে গিয়ে ঘটনার দিন শুভব্রত চক্রবর্তীর সঙ্গে কর্মরত বাকি ১১ জনের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। শুভব্রত চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষী ছিলেন। ২০১৮ সালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুভব্রতর তিন বছর পর তাঁর স্ত্রী সুপর্ণা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী কাঁথি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এই মৃত্যু রহস্যের কারণ উদঘাটন করার দাবিতে এফআইআর করেন। তদন্তকারী আধিকারীকেরা ঘটনার দিনের বিভিন্ন পরিস্থিতি শুভব্রতের তৎকালিন সহকর্মীদের থেকে জানতে চান তাঁরা। প্রায় ৭ ঘন্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চলে। অবশেষে রাত ১১টা নাগাদ জেলা পুলিশ লাইন্স থেকে বের হন তদন্তকারীরা। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েই সম্প্রতি কাঁথিতে শুভেন্দু-নিবাস শান্তিকুঞ্জের লাগোয়া বাড়িতে যায় সিআইডি । সিআইডি-র সঙ্গে কথা বলেন দিব্যেন্দু অধিকারী।
জানা গিয়েছে অধিকারিদের শান্তিকুঞ্জের বিপরীতে একটি গ্যারেজ লাগোয়া বাড়িতেই থাকতেন তাঁদের দেহরক্ষীরা। সেখানে বিশ্রামও নিতেন। থাকতেন দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীও। মৃত্যুর এত বছর পর কেন সিআইডি তদন্তে নেমেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু। ২০১৮ সালে শুভব্রতর রহস্যজনক মৃত্যুর হয়। আড়াই বছর পর ফের স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন স্ত্রী সুপর্ণা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী।
তাঁদের দায়ের করা এফ আই আর-এ নাম রয়েছে বিরোধী দলনেতার, এমনটাই সূত্রের খবর৷প্রতিনিধি দলে ছিলেন ৪ তদন্তকারী। পুলিশ লাইনে থাকা মোট ১১ জন শুভব্রতের তৎকালীন সহকর্মী। তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডি দলের প্রতিনিধিরা। প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে চলে টানা জিজ্ঞাসাবাদ। রাত ১১টা তমলুক মানিকতলা ডিস্ট্রিক পুলিশ লাইন্স থেকে বেরিয়ে যান তদন্তকারীরা। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলতে চান তিনি তাঁরা।

Post a Comment