সাঁতরাগাছির শ্যুটআউটের ঘটনায় গ্রেফতার ৩
দি নিউজ লায়ন; হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে গুলি-কান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হলো ৩ জন। পুলিশ বুধবার রাতে খড়গপুর থেকে এদের গ্রেফতার করে হাওড়ায় নিয়ে আসে। এরপর দফায় দফায় চলে জিজ্ঞাসাবাদ। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এদের মধ্যে ২ জনকে হাওড়া আদালতে তোলা হয়। এদিন সকাল থেকে হাওড়া সিটি পুলিশের ডিডি অফিসে চলে জিজ্ঞাসাবাদ।
ঘটনার দিন সাঁতরাগাছির এক বহুতল আবাসনে রেলকর্মীর ফ্ল্যাট লক্ষ্য করে সাতসকালেই চলেছিল গুলি। রেলকর্মী সুনীল কুমার বেহেরার ফ্ল্যাট লক্ষ্য করে ওই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছিল। পরপর মোট ২ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। তবে ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল সাঁতরাগাছি ঝিল সংলগ্ন উত্তর বাকসাড়া এলাকার স্যানচ্যুয়ারি ভিউ অ্যাপার্টমেন্টে। তদন্তে নেমে সাঁতরাগাছি থানার পুলিশ ওই রেলকর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
জানা যায়, বাইকে চেপে এসেছিল অজ্ঞাতপরিচয় দুই দুষ্কৃতী। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল কাজের বরাত পাওয়া নিয়েই ঘটেছিল ওই ঘটনা। তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ সূত্রে জানা যায় পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর তার জন্যই গুলি চালনার ঘটনা। শেষপর্যন্ত ঘটনার পর প্রায় ১৩ দিনের মাথায় এই গুলিকান্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
বুধবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তদের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম কুন্দন, শাহিদ এবং সুবাস। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রের খবর, সাঁতরাগাছি গুলি-কান্ডের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে ৩ জন অভিযুক্তদের নাম। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার গভীর রাতে খড়গপুর থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। মনে করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া সেই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই ঘটনার দিন গুলি চালানো হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান ধৃতেরা একটি গ্যাং এর হয়ে কাজ করতেন।
এদের মধ্যেই একজন ঘটনার দিন গুলি চালিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ধৃতদের জেরা করতে না পারায় এখনও কোনও প্রশ্নের উত্তর জানা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তরা কেন গুলি চালাল ওদের কেউ ভাড়া করেছিল কিনা এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিতে চাইছে পুলিশ। পাশাপাশি এই ঘটনায় এদের কি ভূমিকা ছিল বা অন্য কেউ এই ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল কিনা এই সব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।

Post a Comment