ফিল্মি কায়দায় ব্যবসায়ীকে মারধোর করে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে অপহরণ
দি নিউজ লায়ন; ফিল্মি কায়দায় ব্যবসায়ীকে মারধোর করে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠল ১০-১২ জন দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, একটি স্করপিও ও তিনটি বাইকে করে এসে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া দোকান থেকে। সঙ্গে থাকা কর্মচারীকেও মারধোর করে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকাল ৫-৩০ নাগাদ বারুইপুর থানার কল্যানপুর পঞ্চায়েতের যুগলপুকুর এলাকায়। রাতে পরিবারের তরফে থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা যায়নি। ব্যবসায়ীর দাদা মোস্তাকিম সরদারের অভিযোগ, অপহরণের পর থেকেই বারংবার তার ফোনে অপহরণকারী ফোন করে লক্ষাধিক টাকা দাবি করে। কোনসময়েই টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল না। পুলিশকে সব জানানো হয়েছে। বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুটি টিম করে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার এক কর্তা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, কল্যানপুরের চাকারবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম সরদার। পেশায় চাল ব্যবসায়ী। তাঁর নিজস্ব চালের দোকান আছে যুগলপুকুর এলাকায়। ওই দোকানের কর্মচারী কৌশিক মণ্ডল বলেন, সোমবার বিকালে দাদা দোকানেই ছিল। আচমকা একটি স্করপিও ও তিনটি বাইকে করে ১০-১২ জন দুষ্কৃতী এসে ঢোকে। দাদাকে মারধোর করে। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে গাড়িতে তোলে। আমি বাঁচাতে এলে আমাকেও মারধোর করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হয়। এরপর পদ্মপুকুর ধরে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর থেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীর পরিবার।
তাঁর দাদা মোস্তাকিম সরদার বলেন, ওই দুষ্কৃতীদের মধ্যে বেগমপুরের বাসিন্দা অভিজিৎ নস্কর ওরফে বাপ্পা ছিল। সেই এই কাজ করেছে। ২০১২-১৩ সালে ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক কারনে টাকা পয়সা জনিত ঝামেলা হয়েছিল তার। সেই কারনেই এই অপহরণ। তিনি আরও বলেন, অপহরণকারী ফোনে কোনও সময় ৮ লক্ষ টাকা চাইছে আবার সময় ফোনে ১০ লক্ষ, ১৬ লক্ষ চাইছে। সবই পুলিসকে জানানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পাওনা টাকা আদায় নিয়েই অপহরণ। অপহৃতর বিরুদ্ধে টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ আছে। তদন্ত চলছে। দোষীরা ধরা পড়বে।

Post a Comment