অজানা জন্তুর আতঙ্কে কাঁপছে বাঁকুড়া
দি নিউজ লায়ন; গ্রামের অদূরেই বর্ষার ভেজা মাটিতে অজানা জন্তুর অসংখ্য থাবার ছাপ স্পষ্ট । রাতের অন্ধকারে ক্ষিপ্র গতিতে জন্তুটিকে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতেও দেখেছেন কেউ কেউ । কেউ কেউ বলছেন জন্তুটি একা নয় । দুটি বা তিনটি একই ধরনের জন্তু দল বেঁধে রয়েছে । কিন্তু অন্ধকারে ঠিকমতো ঠাহর করা যায়নি কোনোকিছুই । বন দফতরের প্রাথমিক ধারণা জন্তুটি আসলে হায়না বা সমগোত্রীয় কোনো প্রানী । জন্তুটিকে খাঁচা বন্দী করতে বন দফতরের তরফে পাতা হয়েছে খাঁচা । কিন্তু সে খাঁচায় এখনো ধরা দেয়নি অজানা জন্তু । ফলে আতঙ্ক বাড়ছে বাঁকুড়ার ইন্দপুর ব্লকের ফুলকুশমা গ্রামে । বাঁকুড়ার ইন্দপুর ব্লকের ফুলকুশমা গ্রাম মোটামুটি ভাবে জঙ্গল দিয়ে ঘেরা ।
গ্রাম থেকে দু’শো মিটার এগোলেই অর্জুন গাছের মস্ত জঙ্গল । আজ থেকে সপ্তাহ দুই আগে এই জঙ্গল লাগোয়া একটি ফাঁকা মাঠেই বৃষ্টির ভেজা মাটিতে প্রথম থাবার দাগ দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় যুবকদের । গ্রামবাসীরা প্রথমে পায়ের ছাপগুলিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও কয়েক দিন যেতে না যেতেই স্থানীয় এক গ্রামবাসী রাতের অন্ধকারে এক অজানা জন্তুকে ছুটে যেতে দেখেন । আর সেখবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয় আতঙ্ক । গ্রামবাসীদের দাবি সপ্তাহ খানেক আগে হিংস্র সেই জন্তুর আক্রমণে স্থানীয় এক ব্যাক্তি আহতও হয়েছেন । এরপর থেকে গ্রামের একাধিক ব্যাক্তির নজরে পড়তে থাকে জন্তুটি । কিন্তু প্রতিবারই রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে জন্তুটি একদিক থেকে অন্যদিকে চলে যাওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শীরাও নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না জন্তুটি আসলে কি ? গ্রামেরই কেউ কেউ আবার বলছেন একটি জন্তু নয় ,একই সঙ্গে দুই বা তিনটি একই ধরনের জন্তুকে দেখা গেছে জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় ।
যার মধ্যে একটি শাবকও রয়েছে । গ্রামবাসীদের দাবি রাতের বেলায় জন্তুটি লোকালয়ের কাছকাছি এলেও দিনের বেলায় তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না । রাতের অন্ধকারে জন্তুটিকে শনাক্তও করতে পারছেন না কেউ । স্বাভাবিক ভাবেই অজানা সেই জন্তুর আতঙ্কে আপাতত ঘুম ছুটছে বাঁকুড়ার ইন্দপুর ব্লকের ফুলকুশমা গ্রামের মানুষের । সন্ধ্যে নামলেই আর কোনো ব্যাক্তি বাড়ির বাইরে পা রাখছেন না । আতঙ্কে রাতে বন্ধ রাখতে হচ্ছে বাড়ির জানালা দরজাও । এদিকে এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরই বন দফতরের তরফে জন্তুটিকে খাঁচা বন্দী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । গ্রামের এক প্রান্তে মুরগীকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করে বসানো হয়েছে খাঁচা । জন্তুটিকে নিয়ে গ্রামবাসীদের আতঙ্ক দূর করতে করা হয়েছে মাইক প্রচার । জন্তুটির পায়ের ছাপ সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । গ্রাম পাহারা দিতে গ্রামবাসীদের নিয়েই তৈরি করা হয়েছে একটি দল ।
প্রাথমিক ভাবে বন দফতরের ধারণা জন্তুটি আসলে হায়না বা সমগোত্রীয় কোনো প্রানী হয়ে থাকতে পারে । জন্তুর সংখ্যার ব্যাপারেও নিশ্চিত নয় বন দফতর । বন দফতরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও চান জন্তুটিকে খাঁচা বন্দী করতে । এলাকার মানুষের আতঙ্কে জন্তুটির যাতে কোনোরকম ক্ষতি না হয় সেব্যাপারেও কড়া নজর রয়েছে গ্রামবাসী ও বন দফতরের । বন দফতরের ইন্দপুর রেঞ্জের বীট অফিসার সুখচাঁদ মুর্মু বলেন, আমরা বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখছি । প্রতিদিন রাতে আমাদের টহলদারি থাকছে । গ্রামবাসীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে । আশা করি খুব শিঘ্রই খাঁচায় ধরা পড়বে জন্তুটি । আমাদের ধারণা জন্তুটি হায়না বা সমগোত্রীয় কোনো প্রানী ।

Post a Comment