বাবুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, দল ছাড়লেন জেলা সম্পাদক সহ ৩ হাজার
দি নিউজ লায়ন; সাধারণ মানুষ দূরের কথা কর্মীদের প্রয়োজনেই সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় কে পাওয়া যায় না। এছাড়াও দলে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি ছাড়লেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক মদনমোহন চৌবে, বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলার বুদ্ধিজীবী সেলের আহ্বায়ক ডাক্তার দেবাশীষ সরকার সহ প্রায় ত্রিশ জন নেতা। তারা মোট ৩ হাজার জন বিজেপি কর্মীকে নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। রবিবার আসানসোল রবীন্দ্রভবনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের আইন ও পূর্তমন্ত্রী মলয় ঘটকের হাত ধরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন এই নেতাকর্মীরা।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যেভাবে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসার হিড়িক পড়েছে তাতে আসানসোলও শামিল হল। আসানসোলের বিজেপির প্রভাবশালী নেতারা তৃণমূলে যোগ দিলেন। মূলত হিন্দিভাষী বলয়ে মদনমোহন চৌবে প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ছিলেন। কিন্তু কেন এই দলত্যাগ?
মদনমোহন চৌবে জানান "ভোটের সময় এমন কোনও দুর্নীতি নেই, যেটা বিজেপিতে হয়নি। স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদীকে পর্যন্ত চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে সেই দুর্নীতির কথা। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। পাশাপাশি হিন্দিভাষীদের ভীষণ ভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে গত বিধানসভা ভোটে। কোথাও হিন্দিভাষী প্রার্থী করা হবে না এটা স্পষ্ট বলা হয়েছিল এবং হিন্দিভাষীদের অপমানিত হতে হয়। সেই কারনে এবং দুর্নীতির প্রতিবাদ করে আমরা মানুষের কাজ করতে তৃণমূল যোগ দিয়েছি।"
অন্যদিকে ডাক্তার দেবাশীষ সরকার জানিয়েছেন "আমাদের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। অথচ তাকে পাওয়াই যায়না। এমনকি সাংসদকে কোনও দিন সংসদে আসানসোল নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায়নি। তার সময়কালেই হিন্দুস্তান কেবলস বান স্ট্যান্ডার্ড এর মতন কারখানা বন্ধ হয়ে গেল অথচ তিনি চুপ থাকলেন। আমি কোন পদের লোভে আসিনি। আমার পদ চাইও না। কিন্তু মানুষ যে দলকে নির্বাচিত করেছে সেই দলের সঙ্গে থাকতেই এসেছি।"
রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন "যেভাবে বিজেপি থেকে দলে দলে লোক আসছে তাতে আগামী দিনে বিজেপির দলীয় অফিস খোলার জন্য লোক পাওয়া যাবে না।"তবে এদিন মলয় ঘটক বেরিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূল কর্মীরা মলয় ঘটককে জানান বিজেপির থেকে নেতারা আসছে তাদের স্বাগত। কিন্তু তৃণমূল থেকে যারা বিজেপিতে গিয়েছিল তাদের যেন পুনরায় গ্রহণ করা না হয়। কোনও গাদ্দার কে যেন দলের মধ্যে গ্রহণ করা না হয়।

Post a Comment