দীঘায় মৎস্যজীবীদের জালে পড়ল ইলিশ
দি নিউজ লায়ন; বর্ষা পড়তেই দীঘায় মৎস্যজীবীদের জালে পড়ল ইলিশ। বৃহস্পতিবার তিন কুইন্টালের বেশি ইলিশ দীঘা মোহনার পাইকারি মৎস্য বাজারে নিলামের জন্য আসে। যৎসামান্য হলেও মরশুমের প্রথম ইলিশের দেখা মেলায় খুশি মৎস্যজীবীরা। এদিন বেশকিছু ট্রলার-লঞ্চ সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে। তাতেই এই পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গিয়েছে। তবে বাকি ট্রলার-লঞ্চ মাছ ধরে ফিরে এলে আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন মৎস্যজীবীরা। এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে করোনা-বিধি মেনে মোহনার পাইকারি মৎস্য বাজার খুলে গেল।
তবে বাজারে ইলিশের দাম ছিল আকাশছোঁয়া। টানা ৬১দিনের ব্যান পিরিয়ড কাটিয়ে গত ১৫জুন সমুদ্রে মাছ শিকারে নামেন মৎস্যজীবীরা। পেটুয়াঘাট ও শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর, দীঘা ও শৌলা মৎস্য আহরণ কেন্দ্র থেকে ট্রলার-লঞ্চ, টু-সিলিন্ডার বোট মিলিয়ে হাজারখানেক জলযান সমুদ্রে মৎস্যশিকারে নেমেছে। কিন্তু করোনা-আবহ, লকডাউন-পরিস্থিতি, যশ ঘূর্ণিঝড়, তার উপর ডিজেলের আকাশছোঁয়া মূলবৃদ্ধির জন্য ৪০শতাংশ ট্রলার-লঞ্চ এখনও সমুদ্রে নামেনি। ধাপে ধাপে ট্রলার-লঞ্চগুলি নামবে। গত বছর মরশুমের শুরুতেই ইলিশের আকাল ছিল। তবে এবার মরশুমের শুরুতে ইলিশ জালে পড়ায় আশাবাদী মৎস্যজীবীরা। তবে ইলিশ ছাড়াও পমফ্রেট সহ অন্যান্য মাছও জালে ভালোই ধরা পড়ছে।
মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, মূলত পূবালি হাওয়া আর ঝিরঝিরে বৃষ্টি ইলিশ মাছ ধরা পড়ার পক্ষে উপযোগী। বর্তমানে সেরকমই আবহাওয়াই চলছে। এরকম আবহাওয়া চলতে থাকলে মৎস্যজীবীদের জালে ইলিশের আগমন ঘটবেই। মোহনার মৎস্য বাজারে এদিন ১কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ১৩০০টাকা থেকে ১৩৫০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, ৮০০, ৯০০ কিংবা ১কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশ ১০০০টাকা থেকে ১০৫০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আবার ৫০০, ৬০০ কিংবা ৭০০গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫০০টাকা থেকে ৬০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে জোগান বাড়লে ইলিশের দাম কমবে বলে জানালেন দীঘা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্মকর্তা নবকুমার পয়ড়্যা। তিনি বলেন, সব ক্ষতি সামাল দিয়েও মাছ ধরতে নেমেছেন মৎস্যজীবীরা। আমরা আশাবাদী, আগামীদিনে মৎস্যজীবীদের জালে প্রচুর ইলিশ উঠবে এবং দামও ইলিশপ্রেমীদের আয়ত্তের মধ্যেই আসবে।

Post a Comment