ধৃত চীনা নাগরিককে রাজ্য এসটিএফের হাতে তুলে দিল মালদা পুলিশ
দি নিউজ লায়ন; ধৃত চীনা নাগরিককে রাজ্য এসটিএফের হাতে তুলে দিল মালদা পুলিশ। বুধবার ধৃত চীনা নাগরিককে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য মালদা আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন রাজ্য এসটিএফের (স্পেশাল টাস্কফোর্স) কর্তারা । এদিন মালদা আদালতে দশদিনের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় এসটিএফ কর্তারা। মালদা আদালত অবশ্য ৮ দিনের এসটিএফের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ধৃত ওই চীনা নাগরিককে। যদিও কালিয়াচক থানার মিলিক সুলতানপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ধৃত চীনা নাগরিককে গত ১২ জুন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল বিএসএফ কর্তৃপক্ষ । ওইদিনই ধৃত চীনা নাগরিক হান জুনওয়েকে মালদা আদালতের তোলে কালিয়াচক থানার পুলিশ । আদালতের মাধ্যমে ধৃত চীনা নাগরিককে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এই ছয় দিন শেষ হওয়ার আগেই রাজ্য এসটিএফের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ধৃত চীনা নাগরিককে নতুন করে তাদের হাতে তদন্তের জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য এসটিএফের কর্তারা ধৃত চিনা নাগরিককে মালদা জেরা করবেন নাকি কলকাতায় নিয়ে যাবেন, সে ব্যাপারে পুলিশ ও গোয়েন্দা দপ্তরের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে কিছু জানা যায় নি।
বুধবার আদালতের এই নির্দেশ দেওয়ার পর মালদা সিজিএম কোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর দেবজ্যোতি পাল জানিয়েছেন, ১২ জুন ধৃত চীনা নাগরিককে কালিয়াচক থানার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয়দিনের তাদের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এরইমধ্যে নতুন করে মালদায় তদন্তে আছে স্পেশাল টাস্কফোর্সের কর্তারা । তারা ধৃত চীনা নাগরিককে নিয়ে জেরা করতে চায়। দেশীয় স্বার্থের কথা ভেবে ধৃত চীনা নাগরিককে পুলিশের ছয় দিনের হেফাজতে থাকার সময় শেষ হতে না হতেই এসটিএফের এই আবেদন গ্রহণ করে ধৃত ওই চীনা নাগরিককে ৮ দিনের জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তদন্তে অনেকটাই অগ্রগতি হবে বলেও মনে করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তারা।
উল্লেখ্য , গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মালদার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত মিলিক সুলতানপুর থেকে সীমান্ত পার করে ভারতে প্রবেশ করার সময় বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে যায় এই চিনা নাগরিক। তাকে প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে এনআইএ। এরপরই উত্তরপ্রদেশের পুলিশের এটিএস এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুঁড়গাও গ্রামে একটি মামলা রয়েছে অনেক দিন ধরেই তারা তাকে খোজা হচ্ছিল। এই ব্যক্তিকে রাজ্য ও দেশের প্রায় কুড়িটি গোয়েন্দা সংস্থা জেরা করবে বলে সূত্রে খবর। প্রাথমিক তদন্তে ধৃতের কাছ থেকে যেসব জিনিস উদ্ধার হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম তার ল্যাপটপ ও বেশ কয়েকটি ডিভাইস। যদিও প্রত্যেকটি উত্তর চীনে ব্যবহৃত ম্যান্ডারিন ভাষা দিয়ে পাসওয়ার্ড লক করা রয়েছে। যা ভাঙ্গা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে জেলা পুলিশ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও নিয়েছে তারা। এই চীনা নাগরিক তদন্তে কোন সাহায্য করছে না বলে খবর।
দ্বিতীয়তঃ এই চীনা নাগরিক বাংলাদেশ থেকে যে পথ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে সেই পথ অনুপ্রবেশের জন্যে ভালো হলেও দুর্গম পথ। কারণ সীমান্তের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া মরা ভাগীরথী নদীতে সারা বছর জল না থাকলেও বর্ষার সময় বেশ কিছুটা জল রয়েছে। যেখানে মানুষের ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নদী পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে হয়। এমনিতেও যারা অবৈধভাবে ওপার থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করে তাদের গাইডের মাধ্যমেই অনুপ্রবেশ করতে হয়। এর বিনিময় গাইডরা মোটা টাকা নেয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়াই গাইডের কাজ। পুলিশের ধারণা বিএসএফ এর হাতে ধরা পড়ে যায় এই চীনা নাগরিক। সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় গাইড। ওই গাইড সীমান্তের আশপাশের কোন গ্রামে লুকিয়ে রয়েছে বলে পুলিশের ধারণা । তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই ব্যক্তি শুধু সাইবার ক্রাইম এর জন্য অভিযুক্ত না, এর পিছনে আরো কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

Post a Comment