সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয় এক মুৎস্যজীবী
দি নিউজ লায়ন; বুধবার সুন্দরবনের বসিরহাট রেঞ্জের ঝিলা দুই নম্বর জঙ্গলে আবারও সুন্দরবনের নদীতে মাছ কাঁকড়া ধরার সময় বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয় এক মুৎস্যজীবী।মৃত মৎস্যজীবীর নাম সুনীল সরদার(৪৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে গোসাবার কুমিরমারি রায়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যজীবী সুনীল সরদার সহ আরও দুইজন মৎস্যজীবী এদিন মাছ কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় নৌকা করে সুন্দরবনের নদীতে।মৎস্যজীবীরা মাছ কাঁকড়া ধরার নেশায় যে সময় ব্যস্ত থাকে,তখনই হঠাৎই জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মৎস্যজীবী সুনীল সরদারের উপর।
বাকী মৎস্যজীবীরা এই দৃশ্য দেখে মৎস্যজীবী সুনীল সরদারকে বাঁচানোর জন্য লাঠি সোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘের উপর।বেশ কিছুক্ষণ চলে বাঘের সঙ্গে তাদের লড়াই।অবশেষে বেগতিক খারাপ বুঝে বাঘ শিকার ছেড়ে দিয়ে গভীর জঙ্গলে ঢুকে যায়।জখম মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করে নৌকায় করে আনার সময় জল পথে তার মৃত্যু হয় এমনি অভিযোগ।আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।গত ২৬ ও ২৭ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে পর বাঘের আক্রমণে এই নিয়ে তিন জন মৎস্যজীবীর মৃত্যু হল।এদের মধ্যে একজন মহিলা মৎস্যজীবী।
ইয়াসের তান্ডবে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হয়।ফলে বহু ঘরবাড়ি জলের তোড়ে ভেসে যায়।একদিকে করোনা ভাইরাসের অতিমহামারি,অপর দিকে ইয়াসের তান্ডব।ফলে পেটের জ্বালায় ছুটতে হচ্ছে নদীতে মাছ কাঁকড়া ধরতে।যার ফলে এমনি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে মৎস্যজীবীরা।বন দফতর জানান বাঘের আক্রমণে এক মুৎস্যজীবী মৃত্যু হয়েছে এমন ধরনের ঘটনা ঘটেছে।তবে কিভাবে এমন ধরনের ঘটনা ঘটলো সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তবে ১ এপ্রিল থেকে তিন মাস নদীতে মাছ কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ।এই সময় মাছ ডিম ছাড়ে।মাছের প্রজন্ম বাঁচানোর জন্য এই সময়টা সরকারি ভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে।

Post a Comment