আবারও ‘বৈদ্যুতিক’ মন্তব্যের জেরে বিতর্কে বিশ্বভারতীর উপাচার্য - The News Lion

আবারও ‘বৈদ্যুতিক’ মন্তব্যের জেরে বিতর্কে বিশ্বভারতীর উপাচার্য

 


দি নিউজ লায়ন;    হল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠনের এক কর্মসমিতির সদস্যকে বৈঠক থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে।বিশ্বভারতী সুত্রে খবর গতকাল বিকাল ৪টে থেকে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের ডাক দেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সেখানে মূলত কোভিড পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন ও অনান্য কাজ কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে সে নিয়ে আলোচনা করার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়।


মঙ্গলবার বিকালে ওই মিটিংয়ে থাকা এক অধ্যাপক জানান যে প্রায় চার ঘন্টা ধরে চলা সেই মিটিংয়ে শুরু থেকেই উপাচার্য কার্যত অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা শুরু করেন। বিভিন্ন ইস্যুতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে যারা ইমেল করে নানা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া সংস্কার নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন উপাচার্য। ওই বৈঠকে বিশ্বভারতীর উপাচার্য আরও অভিযোগ করেন যে নানা বিষয়ে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠনের থেকে করা বিভিন্ন চিঠি চাপাটি তাদের  ( বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ) কে হতাশাজনক পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছে।


এই বৈঠকের এক অডিও ক্লিপ বুধবার সকাল থেকেই ভাইরাল হয়ে ওঠে। সেখানে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বিশ্বভারতীতে পড়ানোর ‘যোগ্যতা নেই’ ও পদার্থ বিদ্যার এক বিশিষ্ট অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠনের [VBUFA]-র এক কর্মসমিতির সদস্য অধ্যাপক মানস মাইতিকে সভা থেকে বের করে দেন। যদিও সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা  দি নিউজ লায়ন যাচাই করেনি ।

ওই অডিও ক্লিপে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে বলতে শোনা যায় – “ন্যাকের বি-প্লাস ইউনিভার্সিটি কিন্তু আমরা নই। আমরা বলছি ন্যাক আসছে, আমাদের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের কথা ভাবা হচ্ছে, আমাদের হাসপাতাল হচ্ছে, রামগড়ে ক্যাম্পাস হবার কথা ভাবনা চিন্তা চলছে। এই পরিস্থিতিতে, এই ধরনের চিঠিপত্র VBUFA যে লিখেছে... নিশ্চয়ই আমাদের মাস্টারমশাই এটা ইংরেজিতে খুব ভালো, তাঁরা ইংরেজি জানে, তাঁদের তাদের কোন কাজ কর্ম নেই। তাদের কোন অভিযোগ থাকলে তারা আসুন, ফোরাম আছে। আমার দৃঢ়বিশ্বাস আমার বক্তব্য সব রেকর্ড করা হচ্ছে প্রয়োজনে সেই রেকর্ডিং গুলো বাজারে দেওয়া হবে। এরা খুব নিম্ন টাইপের লোক না... এরা বিশ্বভারতীতে শিক্ষকতা করেন কিন্তু মানসিকতায় বিশ্বভারতীতে শিক্ষকতা যোগ্যতা নেই।”


এর পরেই বিশ্বভারতীর বেশকিছু টালবাহানার জন্য VBUFA-র চিঠি কে দায়ী করেন উপাচার্য এবং এই বিষয়ে অধ্যাপকদের একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার ইঙ্গিত দেন।

তারপরেই তিনি বিশ্বভারতীর শিক্ষা ভবনের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক মানস মাইতি কে খোঁজ নেন তিনি। তিনি বলেন – ‘মানস তুমি কী আছো লাইনে, তোমার বক্তব্য আমরা শুনতে চাই।’ মানস বাবু বলেন তার কোন বক্তব্য নেই। এরপরেই একাউন্টসের সঞ্জয় নামে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন – ‘সঞ্জয় যদি কাজ বন্ধ করে দেয় তাহলে সবার মাইনে বন্ধ হয়ে যাবে, তার দায় নিচ্ছ তো।’ মানস বাবু কে বলতে শোনা যায় – ‘সেটা আপনার দায়িত্ব।’ উপাচার্য বলেন, ‘এটা আমার দায়িত্ব নয়, তোমার কলিগেরা এসব চিথি চাপাটি করেছে।’ অধ্যাপক মাইতি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করলে তাঁকে মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বেশ রুঢ় ভাবেই তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলতে শোনা যায় উপাচার্যকে। অধ্যাপক মাইতি উপাচার্যের কথায় রাজি না হওয়াতে এক আধিকারিককে ডেকে অধ্যাপক মাইতির লাইন ডিসকানেক্ট করে দেওয়া হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্বভারতীর এক অধ্যাপক জানান, “আমরা সকালেই খবর পেয়েছিলাম যে উপাচার্য তার কাছের লোকদের মিটিং-এ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবার জন্য চাপ দেন, এমনকি বেশ কিছু নতুন নিযুক্ত অধ্যাপকদের, বিশেষ করে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং তাদের এখনো কাজে স্থায়ীকরণ হয়নি। এদের সবাইকে নিয়ে মিটিং শুরু আগে এক ধরনের রিহার্সাল করা হয় যে কোন কোন বিষয় এই মিটিংয়ে তুলে ধরবেন এবং কাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে হবে।”


কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.