তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ধৃত চীনা নাগরিকের
দি নিউজ লায়ন; ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গ্রেপ্তার হওয়া চীনা নাগরিক ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর হয়েও পুলিশের সামনে নাটকীয় কায়দায় ইংরেজি বলাতে অনিহা দেখিয়েছিলো। কিন্তু বারবার পুলিশি জেরায় অবশেষে সেই তথ্য ফাঁস হয় । এমনকি মালদার কালিয়াচক সীমান্ত যেহেতু একাধিকবার জালনোটের কারবারের অভিযোগ উঠে এসেছে।
তাই সেখানে কেরিয়ার বা এজেন্ট তৈরি করার পরিকল্পনাও ছিল ওই চীনা নাগরিকের। কিন্তু কি জন্য সে এই কাজ করার ছক কষেছিল , তা অবশ্য তদন্তের স্বার্থে পুলিশ জানায় নি। রবিবার ধৃত চীনা নাগরিক কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে কালিয়াচক থানায় যায় পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃত চীনা নাগরিক আদালতের নির্দেশে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মালদার কালিয়াচক থানার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিলিক সুলতানপুর এলাকায় ভারতে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার সময় বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে এই ব্যক্তি। ধৃতের নাম হান জুনওয়ে (৩০)। তার কাছ থেকে ভারতীয় মোবাইলের সিম,বাংলাদেশি মোবাইলের সিম,এবং চাইনিজ মোবাইলের সিম , ল্যাপটপ সহ বেশ কিছু ডিভাইস উদ্ধার হয়।এরপরই বিভিন্ন সংস্থার সাথে কথা বলে। বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রেস বিবৃতিতে দাবি করা হয় এই ব্যক্তি চাইনিজ গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট এজেন্সি সাথে যুক্ত।
এরই মধ্যে উত্তর প্রদেশে পুলিশের লখনৌ এটিএস দাবি করে, এই ব্যক্তির নামে উত্তরপ্রদেশে মামলা রয়েছে। এর গুঁরগাও হোটেল রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় ১৮ জনকে এটিএস গ্রেপ্তার করে। তখনই উঠে আসে ধৃত ওই চীনা নাগরিকের নাম। এর আগে ধৃতের স্ত্রীও উত্তর প্রদেশে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যায় এই ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই এটিএস এর পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের কাছে এই ব্যক্তির নামে বুক কর্ণার নোটিশ জারি করার আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দাদের একটি সূত্র মনে করছে, বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জে যে বন্ধুর সাথে ছিলেন সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চীনা নাগরিক, তার সম্বন্ধে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করা হয়েছে। সেখানে একজন মাত্র বন্ধু ছিল নাকি বেশ কয়েকজন রয়েছে সেই বিষয়ে হান জুনওয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মালদা জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। চিনর সেনা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী রয়েছে হানের। পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি নিয়ে।
এদিকে আইবি সূত্রে খবর, ইউনিভার্সিটি চীনা সেনার দ্বারা পরিচালিত। কেন ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করেছে ধৃত ব্যক্তি সেটাই ভাবাচ্ছে তদন্তকারী আধিকারিকদের। পাশাপাশি পুলিশ সূত্রে খবর ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড খোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।সে মালদায় প্রবেশ করে মালদা থেকে নেপাল-ভুটানের যেতে পারত। সেটাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

Post a Comment