উত্তরবঙ্গে প্রথম পুর এলাকার করোনা আক্রান্ত পরিবারের বাড়ির দরজায় মাসিক খাদ্য সামগ্রীর ফুড কিট পৌঁছে দেবে শিলিগুড়ি পুরনিগম
দি নিউজ লায়ন; পুর এলাকার প্রতিটি করোনা আক্রান্ত পরিবারের দরজায় মাসিক খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেবে শিলিগুড়ি পুরনিগম। শহরের প্রায় আক্রান্ত ৩০০০পরিবারের জন্য ফুড কিট সার্ভিস চালু করতে চলেছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের নয়া প্রশাসক বোর্ড। আক্রান্তদের বাড়ির দরজায় এক মাসের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী চাল, ডাল,নুন তেল,মশলা, সোয়াবিন,শাক সবজি, ফলমূল পৌঁছে দেওয়া হবে পুরনিগমের তরফে। প্রতি ওয়ার্ডে আক্রান্ত পরিবারগুলির তালিকা তৈরি করে ওয়ার্ড মাস্টারের সেসমত এলাকার পুরকর্মীরা দিয়ে আক্রান্তদের বাড়ির দরজায় পৌঁছে দেবেন ফুড কিট। ইতিমধ্যেই পুরনিগমে পর্যাপ্ত ফুড কিট তৈরি রয়েছে। দ্রুত তা এলাকাভিত্তিক বোরো অফিস গুলিতে পাঠানো হবে।বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি শহরে এক লাফে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।
আর যারমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে নতুন এই স্ট্রেনের দাপটে একটি পরিবারের একজনের শরীরে সংক্রমন বাসা বাধার পরই তা বুঝে ওঠার আগেই নিমেষে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সংক্রমিত হয়ে পড়ছেন। যার জেড়ে বাড়ির বাইরে বেরোতে পারচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা।যার জেরে একদিকে হোম আইসোলেশনে থাকা রুগীদের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আবার পরিবারের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে অন্যান্য সদস্যদেরও কোভিড সচেতনতার বিষয়টি মাথায় রেখে কার্যত গৃহবন্দি থাকতে হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের গুলির ক্ষেত্রে নিত্য খাদ্য সামগ্রীর সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। আবার অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রিয়জন হারিয়ে আর্থিক ও সামাজিক ভাবে অসহায় হয়ে পড়ছেন।
আর সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই শিলিগুড়ি পুরনিগমে নয়া প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বভার গ্রহনের পর গৌতম দেব কোভিড মোকাবিলায় পুর এলাকার প্রতি ওয়ার্ডে আক্রান্ত পরিবারগুলিকে একমাসের চাল-ডাল, তেল নুন মশলা সহ শাক-সবজি সম্বলিত ফুড কিট তৈরি করে প্রদানের কথা জানান। তিনি বলেন পুরনিগমের তরফে শহরের প্রতিটি করোনায় আক্রান্ত পরিবারগুলিকে এক মাসের মাসিক খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।আমরা প্রতিটি আক্রান্ত পরিবারের দরজায় এই ফুড কিট দেবো। কারো প্রয়োজন না হলে সে গ্রহণ করবেন না তবে প্রত্যেকের জন্যই পুরনিগমের তরফে তৈরি করা হবে। পুর কমিশনার সোনম ওয়াংদি ভুটিয়া জানান প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী পুরনিগমের তরফে ফুড কিট তৈরি করা হয়েছে।
প্রতি ওয়ার্ডের ওয়ার্ডমাস্টারেরা করোনা আক্রান্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে এলাকায় খোঁজ নিচ্ছেন। সেমত এই মুহূর্তে শহরে এক্টিভ আক্রান্ত পরিবারের সংখ্যা ৩০০০।প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড মাস্টার আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সে সমস্ত পরিবারগুলিকে পৃথকভাবে তালিকাভুক্ত করছেন। দেখা যাচ্ছে অনেক আর্থিক স্থিতিশীল পরিবারগুলির হোম ডেলিভারী সহ একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করছেন সেক্ষেত্রে তারা নিজেরাই জানিয়ে দিচ্ছেন তারা ফুড কিট নিতে অনিচ্ছুক। তাই যাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছেন তাদের ওপর জোড় দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রথম দফায় ফুড কিটে ১৫দিনের খাদ্যসামগ্রী থাকছে। পরবর্তীতে সে পরিবারগুলির প্রয়োজনীয়তা অনুসারে আরও একটি করে ১৫দিনের ফুড কিট পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা পুরনিগমের তরফে সম্পূর্ণ ভাবে তৈরি রয়েছি।
পাশাপাশি ওয়ার্ডের পুর কর্মীদের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ে সশরীরে প্রতীকী ভাবে প্রশাসক গৌতম দেব নিজে ও প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্যরা গিয়ে এই ফুড কিট কিছু আক্রান্তের বাড়িতে দরজায় পৌঁছে দেবেন।

Post a Comment