রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড
দি নিউজ লায়ন; ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট হয়ে ভস্মীভূত হয়ে গেল মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ শাখার একটি রাস্ট্রয়াত্ব ব্যাঙ্ক। এদিন দুপুরের পরে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। প্রথমে ওই ব্যাঙ্কের কাঁচের জানালা দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে । তবে বাসিন্দাদের তৎপরতায় ওই আগুন ব্যাঙ্কের বাইরে ছড়াতে পারেনি । পরবর্তীতে লালবাগ থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন পৌঁছিয়ে আগুন আওতায় আনে । এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভাগীরথী নদীর পশ্চিম পাডের শহরে দমকল স্থাপনের দাবি তুলেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,এদিন আজিমগঞ্জ সিটি এলাকার ওই ব্যাঙ্ক খোলার পর ব্যাঙ্ক কর্মী চিরঞ্জিত দাস ইলেকট্রিকের মেইন সুইচ অন করেন ।
ওই সময় তিনি লক্ষ করেন ম্যানেজারের চেয়ারের পাশে থাকা একটি টেবিল ফ্যানে আগুন জ্বলে ওঠে । পরিস্থিতি লক্ষ করে উনি তড়িঘড়ি করে ব্যাঙ্কের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আনতে ছুটেন ।ততক্ষনে অবশ্য ওই আগুন পাশের সোফায় ছড়িয়ে পড়ে ।এখান থেকেই গোটা ব্যাঙ্কে আগুন ছড়াই বলে অনুমান করা হচ্ছে । আজিমগঞ্জ সিটি এলাকার আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম দিকে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও আতঙ্ক সরিয়ে তারা স্থানীয় চানাচুর ফ্যাক্টরি থেকে সাবমারসেবল প্যাম্পের সাহায্যে আগুন নেভাতে ততপরতা শুরু করে । এদিকে ব্যাঙ্কের ফলস সিলিং প্ল্যাই বোর্ডের হওয়ার কারনে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ব্যাঙ্কের ভিতরে । এই ব্যাপারে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার অনুপ কুমার বলেন , “ ব্যাঙ্কের ভল্ট অক্ষত রয়েছে এবং রেকর্ড রুমে আগুন পৌছাতে পারেনি ,তাই প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে ব্যাঙ্কের জিনিসপত্র ক্ষয় ক্ষতি ছাড়া বড় ধরনের কিছু ক্ষতি হয় নি ।ফলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারন নেই ।”
জিয়াগঞ্জ থেকে লালবাগ শহরের দমকল কেন্দ্র মাত্র ৯ কিমি দূরে , কিন্তু মাঝে ভাগীরথী নদি থাকায় লালবাগ থেকে বহরমপুর হয়ে পলশন্ডা দিয়ে দমকল আজিমগঞ্জ পৌঁছাতে হয় প্রায় ছাপান্ন কিমি পথ পেরিয়ে ।ফলে দমকল যখন আজিমগঞ্জ এসে পৌছাল ততক্ষনে পুড়ে সব ছাই ।এই ব্যাপারে স্থানীয় শিল্প উদ্যোগী অনিল চুরুলিয়া ,অংশুমান গুপ্ত মুন্না পান্ডেদের দাবি , “ ভাগীরথী নদির পূর্ব পাড়ে লালবাগ ও বহরমপুরে দমকল থাকলেও ভাগীরথী নদির পশ্চিম পাড়ে কোনও দমকল নেই । তাই ভাগীরথী পশ্চিম পাড়ে আগুন লাগলে সর্বশান্ত হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না । এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে ।”

Post a Comment