দফায় দফায় শিলা বৃষ্টি ঝড়ে মালদায় ব্যাপক ক্ষতি আম চাষে
দি নিউজ লায়ন; দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি এবং ঝড়ে মালদায় ব্যাপক ক্ষতি হলো বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং ফসলের । বিশেষ করে বোরো ধান, পাট চাষে ব্যাপকহারে ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে জেলা কৃষি দপ্তর। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় সবজি থেকে শুরু করে আমের ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন মাথায় হাত পড়েছে মালদার চাষীদের। ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন ব্লকের ক্ষয়ক্ষতি রিপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা । ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে আসার পরই সেটি রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
মালদার উপ কৃষি অধিকর্তার স্নেহাশীষ খুইলা জানিয়েছেন, মালদার ১৫টি ব্লকের মধ্যে চাচোল, হরিশ্চন্দ্রপুর , গাজোল , রতুয়া, বামনগোলা সহ বেশ কয়েকটি ব্লকে শিলাবৃষ্টি, ঝড় হয়েছে । পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি হয়েছে। ওইসব ব্লকে ফসল ,সবজির ক্ষয়-ক্ষতির কথা শুনেছি । এছাড়াও গ্রীষ্মকালীন সবজি ফসলের ক্ষতি হয়েছে । সেইসব রিপোর্ট সংগ্রহ করার পর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সোমবার রাত থেকে মালদা জেলা জুড়ে দফায় দফায় ব্যাপক ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হয়েছে । যার কারণে বোরো ধান থেকে শুরু করে পাট চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজি যেমন টমেটো, ঢেঁড়স , কাঁচালঙ্কা , পটল , মিষ্টি কুমড়া , চাল কুমড়া সহ বিভিন্ন ধরনের সবজিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টানা শিলাবৃষ্টি এবং ঝড়ের দাপটে বহু মাটির সবজি ফসলের জমি নুইয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ব্লকে কয়েক কোটি টাকার সবজি ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে কৃষি দপ্তর। অন্যদিকে মালদার বিভিন্ন ব্লকে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । শিলা বৃষ্টির কারণে আমে আঘাত হওয়ার কারণে ফলে পচন ধরা সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রেও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে চাষিরা । আমচাষীদের বক্তব্য, আর কয়েকদিন পরেই গাছে থেকে আম পারার কাজ শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু হঠাৎ করে শিলাবৃষ্টিতে আমের হয় ক্ষতির সম্ভাবনা আশঙ্কা করা হচ্ছে ।
শীলের আঘাত লাগলে ব্যাপকভাবে আমি পচন ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবারের ঝড়-বৃষ্টিতে প্রচুর টাকার আমের ক্ষতির সম্ভাবনা হতে পারে বলে মনে করছে উদ্যানপালন দপ্তর। উদ্যানপালন দপ্তরের অধিকর্তার রাহুল চক্রবর্তী জানিয়েছেন , যদিও বৈশাখ মাসে কখনো-সখনো কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টি হয়ে থাকে । এনিয়ে আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে না । তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিলাবৃষ্টি হয়েছে । তাতে হয়তো খানিকটা হলেও হতে পারে । তবে গত বারের ন্যায় এবারো আম উৎপাদনে ভালো হবার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সোমবার রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, রতুয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড় ও মঙ্গলবার ভোরে আধঘন্টার শীলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয় পাট ও ধান। পাঁকা ধান মাঠে ঝরে যায় ও পাট গাছের ডোগা ভেঙে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। সাতসকালে মাঠে ক্ষতির পরিমাণ দেখে কেঁদে ফেলেন অনেক চাষিরা।

Post a Comment