গোহারা হেরে ভোট শূন্য ঝুলি নিয়ে ময়দান ছেড়ে পলায়ন অশোক ভট্টাচার্য্যের
দি নিউজ লায়ন; গোহারা হেরে ভোট শূন্য ঝুলি নিয়ে ময়দান ছেড়ে পলায়ন অশোক ভট্টাচার্য্যের। আর ভোটে দাঁড়াবো না হারের হতাশা নিয়ে জানালেন পোড় খাওয়া বামনেতা অশোকবাবু। বৃহস্পতিবার ভোটের ফলাফলের বিশ্লেষনের প্রসঙ্গ উঠতেই ভোটের নির্বাচনী ময়দানে প্রার্থী হিসেবেই এখানেই ইতি বলে জানিয়ে দিলেন তিনি।
এদিন ফের আর কোনো নির্বাচনেই নিজে প্রার্থী হিসেবে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানান। শিলিগুড়ি বিধানসভার প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও প্রতি ওয়ার্ডে তার ভোটব্যাংকে ধস নেমেছে। মূলত প্রার্থী হিসেবে শহরবাসী যেভাবে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাতে কার্যত ভোট শূন্য ঝুলি তাঁর। মানুষের এই প্রত্যাখ্যানে যে আর শত অংক কষেও বদল আনা সম্ভব নয় তা বুঝতে বাকি নেই কারোরই। প্রতি ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়ায় কোথাও অশোক ভট্টাচায্যের গড় নেই। প্রাক্তন কাউন্সিলর হিসেবে তার ছয় নাম্বার ওয়ার্ডে হাতে গোনা ৭৫৯টি ভোট পেয়েছেন তিনি। সেখানে বরং বিজেপিকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে রয়েছে তৃনমূল। একই অবস্থা দীর্ঘদিনের বাসিন্দা থাকার পরও তার ২০নাম্বার ওয়ার্ডে।
সেখানেও শহরের প্রাক্তন মেয়রের বসতিতে এগিয়ে তৃনমূল। ফলে শহরের কোনো ওয়ার্ডেই ভোট নেই এই মুহূর্তে শিলিগুড়ি অশোক সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে চলা বামেদের। আর তার ওপর নিজেদের ভোট লোকসভায় ভাজপাতে স্থানান্তরিত করে যে নিজেই বুমেরাং হয়েছেন অশোকবাবু তা নির্বাচনের গননার দিনই স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন যে ভোট লোকসভায় বিজেপিতে গিয়েছে তা আর ফিরে আসেনি। কংগ্রেসীরা ইতিমধ্যেই বলছেন ২০১৫এর পর দলের অন্তর্তদন্ত না হওয়ায় অশোক বাবু ভাবের ঘরে থেকেছেন আর তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গিয়েছে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তার দীর্ঘ ৪৫বছরের অধ্যায়ের যে অবসান ঘটেছে তা হারে হারে এবারে হারের পর উপলদ্ধি করতে বাকি নেই স্বয়ং অশোক ভট্টাচায্যের। পুর নিগমের নির্বাচনে যে বামেদের কোনো ভবিষ্যতই নেই সেই সত্য আম সাধারণের সঙ্গে অনুধাবন করেছেন তিনিও।
আর তাই এবারে ডুবন্ত বাম তরীর ভার অন্য ঘাড়ে চাপিয়ে নির্বাচনী ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন এতকাল গদি আঁকড়ে থাকা অশোক বাবু। যদিও এদিন তিনি বলেন আমি বিধানসভার নির্বাচনের সময়তেই জানিয়েছিলাম এটাই শেষ, আর কোনো নির্বাচন লড়বো না। বহুবার প্রকাশ্যে সেকথা বলেছি। এদিন তিনি জানান আমি পুরনিগমের নির্বাচনে কোনো ওয়ার্ডেই প্রার্থী হিসেবে থাকছি না। বিধানসভাতেও ভেবেছিলাম তবে দল বলেছিল তাই দাঁড়াতে হয়েছে। আর বামেদের এই বিপর্যয় কেন হলো তা দল পর্যালোচনা করবে। তবে দল পরিচালনা ও দলের হয়ে নির্বাচনী কাজ করবো। শিলিগুড়ি বামশিবিরে দল থেকে প্রশাসনিক পদ আঁকড়ে নিজেকে সর্বস্বজ্ঞান করা অশোক বাবু যে দলের একমাত্র মুখ সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন অনেক নতুন মুখ আছে উঠে আসবে। যদিও তার এই সিদ্ধান্তকে ডুবন্ত তরীর ভার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে সে ভার নতুনের ঘাড়ে দিতে চাইছেন তিনি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাদের মন্তব্য নিজেকে সর্বস্ব জ্ঞান করা অশোক বাবুর হারের পর কূলকিনারা না পাওয়ায়, এতকাল পর দলের নতুনদের কথা মনে পড়লো তার ! এটা হারের ভার না বইতে পেরে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
Post a Comment