শিলিগুড়ি শহরের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য কার্ড এর পরিবর্তে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে
দি নিউজ লায়ন; বেসরকারি হাসপাতালের বেলাগাম কার্যক্রমে এবারে লাগাম আনতে রাশ নিজ হাতে নিচ্ছেন পুরো প্রশাসক গৌতম দেব। শিলিগুড়ি শহরের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য কার্ড এর পরিবর্তে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। প্রত্যেকটি নার্সিং হোম গুলোকে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় রুগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারী নিয়ম মেনে বিল নিতে হবে।শিলিগুড়ি পুরো নিগমের প্রশাসক হিসেবে দায়ভার গ্রহনের পরই কোভিড পরিস্থিতির মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলির অনিয়ন্ত্রিত বিল ও শয্যা বৃদ্ধির বিষয়ে তৎপর ভূমিকা নিয়েছেন পুর প্রশাসক। এক দফায় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে বৈঠকের পর ফের মঙ্গলবার শিলিগুড়ি সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের মালিক পক্ষকে ডাক পাঠান পুরো প্রশাসক। এদিন বৈঠকে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে রুগীর চিকিৎসা করার পাশাপাশি প্রশাসক জানিয়ে দেন গুরুতর রুগীর ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা ছাড়াও ভর্তি করতে হবে রুগীকে।
এদিন পুরনিগমের সভাকক্ষে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার জেলাশাসক, শিলিগুড়ি মহকুমা শাসক ও পুর কমিশনার, প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম দেব, প্রশাসক বোর্ডের সদস্য এবং শিলিগুড়ি শহরের বড় ছোট সমস্ত নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর পুরপ্রশাসক গৌতম দেব বলেন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড গ্রহণ করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিত বিল করা চলবে না। সরকারি গাইড লাইনের মধ্যে থেকে বিলিং করবে। জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে সরকারি আধিকারিকেরা একটি মনিটরিং টিম কাজ করবে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ মোতাবেক ৫০হাজার টাকার বেশি অগ্রিম কোনো রুগীর কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। গুরুতর রুগীকে প্রয়োজনে বিনা অগ্রিমেই ভর্তি করতে হবে হাসপাতালগুলিতে। প্রতিদিন কত করোনা রুগীর ভর্তি হচ্ছেন, আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা ও কোভিড শয্যা কতগুলো ফাঁকা রয়েছে তা জানাতে হবে প্রশাসনকে। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে এম্বুলেন্স ও শববাহি গাড়ির ভাড়াও। অন্যদিকে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন চ্যাং হাসপাতালে কলকাতা স্বাস্থ্য ভবনের পরিবর্তে এখন থেকে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর করোনা আক্রান্তের বিষয়টি দেখভাল করবে।
সেক্ষেত্রে ১৭টি শয্যা বর্তমানে ব্যবহৃত হলেও আরো কিছু চিকিৎসা কর্মী নিযুক্ত করে ১৩টি শয্যা বাড়ানো হবে। শিলিগুড়িতে যীশু আশ্রমে ৩০শয্যার আরও একটি সেফ হোম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০০০ ভ্যাকসিন ঢুকছে দার্জিলিং জেলা সমতল ও পাহাড়ে। এক তৃতীয়াংশ যাবে পাহাড়ে আর বাকিটা সমতলে টিকাকরন হবে। পাশাপাশি অতিমারি পরিস্থিতিতে এখনও জেলায় অক্সিজেন পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসনিক আধিকারীকেরা। অন্যদিকে এদিন লাক্সারি ড্রাইভার ইউনিয়নের তরফে প্রশাসক বোর্ডকে স্মারকলিপি দিয়ে জানানো হয় তাদের ছোট বড় চার চাকা ট্যুরিস্ট গাড়ি গুলি এই সময়ে ফাঁকা রয়েছে।
পুরনিগম সহায়তা করলে বিনামূল্যে তারা করোনা রুগীকে হাসপাতালে পৌছে দেবেন। দিবারাত্রি এই পরিষেবা দিতে এগিয়ে এসেছেন তারা।

Post a Comment