চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে দম্পতিকে খুনের অভিযোগ - The News Lion

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে দম্পতিকে খুনের অভিযোগ

 


দি নিউজ লায়ন;   চাকরি দেবার নাম করে বাড়ি থেকে অপহরন করে নিয়ে গিয়ে এক দম্পতিকে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ভাজপা নেতার বিরুদ্ধে । মৃত ওই দম্পতির নাম গৌতম  সরকার(৩৫), ও তার স্ত্রী তাপসী সরকার(৩০)। দু'জনের বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার বাঙ্গার এলাকায়। ঘটনায় ধৃত কৃষ্ণকমল অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাতে মালদা জেলার গাজোল ব্লক সদরের একটি বাড়িতে তালা বন্ধ দুটি ঘরে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইরাতেই ইটাহার থানার পুলিশ বিজেপি নেতা কৃষ্ণকমল সরকারকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাকে উত্তর দিনাজপুর জেলা আদালতে তোলা হয়।


জানা গিয়েছে, গত ৮ মে ওই দম্পতি স্থানীয় বিজেপি কর্মি  কৃষ্ণকমল অধিকারীর সাথে অর্থের বিনিময়ে সরকারি প্রশিক্ষণ নিতে বাড়ি থেকে বের হয়। কৃষ্ণকমল ৯ মে বাড়ি ফিরলেও ওই গৌতম সরকার ও তাপসী সরকার নামে ওই দম্পতির  খোঁজ মেলেনি।  পাশাপাশি ওই দম্পতির মোবাইল সুইচড অফ ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। গত ১২ মে ওই কৃষ্ণকমলের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় ইটাহারের বাঙ্গার এলাকার বাসিন্দারা।  এর পাশাপাশি  কৃষ্ণকমলের নাম দিয়ে ঘটনার বিবরন সহ ইটাহার থানায় লিখিত অভিযোগ করে দম্পতির আত্মীয়রা। বৃহস্পতিবার বিকেলে  মালদা জেলার গাজোলের একটি বাড়ি থেকে গৌতম সরকার ও তার স্ত্রী তাপসীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দম্পতিকে খুন করেছে কৃষ্ণকমল, এমনটাই অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে ইটাহারের বাঙ্গার গ্রাম। ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। 


ইটাহার থানারপুলিশ অভিযুক্ত কৃষ্ণকমল অধিকারীকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করে। 

ইটাহারের নবনির্বাচিত  তৃনমূল কংগ্রেস বিধায়ক মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, কৃষ্ণকমল অধিকারী বিজেপি কর্মি । সে চাকরি দেওয়ার নাম করে দালালি করে। ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে  মৃত তাপসী সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর বাড়ির লোকজন চাকরির জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত কৃষ্ণকমল অধিকারী ট্রেনিংয়ের নাম করে তাপসী ও তাঁর স্বামী গৌতমকে শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর আর ওই দম্পতির খোঁজ মেলেনি। এরপরই বিধায়ক হিসেবে মোশাররফ হোসেন খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। 


এদিকে মালদার গাজোল থানার পাশেই এক বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় গৌতম ও তাপসীর রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ।  দম্পতি খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়  কৃষ্ণকমল অধিকারীকে। দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন ইটাহারের তৃণমুল বিধায়ক  সহ পরিবারের লোকজন ও গ্রামের বাসিন্দারা। ধৃতের বিরুদ্ধে ৩৬৩, ৩৬৫, ৩০২, ২০১ ধারায় অপহরন, খুন করে প্রমান লোপাটের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে ধৃতকে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতকে ৭ দিনের পুলিশি রিমান্ড দিয়েছেন বলে পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.