করোনা সন্দেহে অশীতিপর বৃদ্ধাকে তাজপুরের বীচে ফেলে পালাল মেয়ে ও নাতি
দি নিউজ লায়ন; হাতে স্যালাইনের চ্যানেল। মুখ দিয়ে অবিরত ঝরছে লালা। থর থর করে কাঁপছে শরীর। করোনা সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা থেকে তাজপুরের সমুদ্রসৈকতে একা এক অশীতিপর বৃদ্ধাকে ফেলে পালালো পরিজনেরা। পরে স্থানীয়দের সাহায্যে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই আপাতত চিকিতসা চলছে তার। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে ওই বয়স্কা নারী করোনা আক্রান্ত কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। তার করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট এলে সেই মোতাবেক পরবর্তী চিকিতসা হবে, তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বয়স্কা
নারীর নাম গীতা দাস। বাড়ি কলকাতার শ্যামপুকুরে
এলাকায়। বৃহস্পতিবার একটি গাড়িতে করে ওই
বৃদ্ধাকে নিয়ে তাজপুরে আসেন তাঁর মেয়ে এবং
নাতি। তাজপুরের সমুদ্রসৈকতে ওইরবৃদ্ধাকে নামিয়ে
দিয়ে 'একটু আসছি' বলে গাড়ি নিয়ে চলে যায় তারা। বিকেল গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও আর
ফেরেননি তারা। বিকেল চারটে থেকে ঠায় একা সি-বিচে পড়ে থাকেন ওই বৃদ্ধা।
এরপর বিষয়টি রাতের দিকে নজরে আসে স্থানীয় গ্রামবাসীদের। তারা
প্রাথমিকভাবে ওই বৃদ্ধা কোথা থেকে এসেছেন সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু শরীর এতটাই
তার দুর্বল এবং অসুস্থ ছিল কিছুই জানাতে পারেননি ওই বৃদ্ধা। এরপর স্থানীয় গ্রামবাসীরা মন্দারমনি কোস্টাল থানায়
খবর দিলে পুলিশ কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। হাতে স্যালাইনের চ্যানেল এবং
বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা দেখে পুলিশের সন্দেহ
হয় ওই বৃদ্ধা খুব সম্ভবত করোনা আক্রান্ত।
কোনরকম ঝুঁকি না নিয়ে এরপর পিপিই কিট পড়ে পুলিশ কর্মীরাই তাকে উদ্ধার করে দীঘা স্টেট
জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই আপাতত চিকিতসা চলছে তার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর
জেলার পর্যটনস্থল তাজপুরের বিভিন্ন হোটেলে
খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বৃদ্ধার মেয়ে এবং নাতির
খোঁজ চলছে। গোটা ঘটনায় কার্যত হতবাক প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
শুধুমাত্র করোনা হয়েছে এই সন্দেহে যেভাবে একজন একাকী অশীতিপর বৃদ্ধাকে অসুস্থ অবস্থায় সমুদ্রের ধারে ফেলে চলে গেলেন পরিজনরা
অমানবিক বললেও কম বলা হয় বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Post a Comment