ইলামবাজারে তৃণমূল বোমা মেরে কর্মীকে খুন
দি নিউজ লায়ন; ভোট মিটতেই বীরভূমের ইলামবাজারে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা ভাজপার দুষ্কৃতীদের। বোমার আঘাতে নিহত এক তৃণমূলকর্মী। জখম আরো বেশ কয়েকজন। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে লাভপুরের আমোদপুরেও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ 50 থেকে 60 জন সশস্ত্র বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী হানা দেয় ইলামবাজারের ছোট চক গ্রামে। কম করে দশ থেকে বারোটি বোমা ছোড়া হয় তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি লক্ষ্য করে। বোমাবাজির শব্দে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন তৃণমূল কর্মী শেখ হাফিজুল। বাইরে বের হতেই ওই তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। বোমার আঘাতে তার হাত উড়ে যায়। মারাত্মক আঘাত লাগে শরীরের বিভিন্ন অংশে।আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।
তৃণমূলের অভিযোগ, আরো অন্তত আট থেকে দশজন তৃণমূল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। গোটা গ্রাম কার্যত ঘিরে রেখেছে ভাজপার দুষ্কৃতি বাহিনী। আহতদের গ্রাম থেকে বের করা যাচ্ছে না। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যে কোন মুহূর্তে আরো বড় হামলার আশঙ্কা করছেন তৃণমূল কর্মীরা। ইলামবাজারের পাশাপাশি তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে লাভপুরের আমোদপুরে। শাঁখারী পাড়া এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের একাধিকবার বাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অন্তত কুড়ি থেকে 25 টি বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
তৃণমূল কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়।এক্ষেত্রেও তৃণমূলের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এই দুই জায়গার পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে নানুর এবং ময়ূরেশ্বরে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ব্যাপক বোমাবাজি হয়েছে নানুরে। ময়ূরেশ্বরে বোমাবাজি ভাঙচুর খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রতিক্ষেত্রে অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি ফল খারাপ হবে এটা বুঝতে পেরেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ভোটের দিন যেমন পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করেছে ভোট মিটে যাওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রশাসন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। হামলায় মদত দেওয়া হচ্ছে।

Post a Comment