নেশা করার টাকা না পেয়ে জামাইবাবুর ভাইয়ের দোকানে আগুন লাগাল মেদিনীপুরের সাদ্দাম
দি নিউজ লায়ন; ইদানীং শহরগুলিতে নতুন এক ধরনের নেশাগ্রস্ত যুবকের উদ্ভব হয়েছে, লোকে যাদের বলে ‘পাতাখোর’! কিন্তু, কি এই পাতা কেউ জানেনা। যেটুকু খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, কোনো এক ধরনের দুর্মূল্য ও নিষিদ্ধ ড্রাগ শুকনো কাগজ বা রাংতার উপর রেখে নাক দিয়ে শুঁকে যে নেশা করা হয়, সেটাই হল এই পাতাখোরদের নেশা। দীর্ঘদিন ধরে এই নেশা করতে করতে এরা এতোটাই অপ্রকৃতিস্থ ও হিংস্র হয়ে যায় যে, চুরি-ছিনতাই থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, ছুরি চালিয়ে দেওয়া সবকিছুই করে ফেলতে পারে বলে মেদিনীপুর শহরবাসীর অভিযোগ। মেদিনীপুর শহরে বেশ কয়েক বছর ধরেই এদের দাপাদাপি।
মাঝেমধ্যে ধরপাকড় হলে কিছুদিন এই দাপাদাপি বন্ধ থাকে, তারপর আবার যেই কে সেই, এমনটাই অভিযোগ মেদিনীপুর শহরের কেরানীটোলা থেকে বিধাননগর, শরৎপল্লী থেকে বার্জটাউনের বাসিন্দাদের। এবারও, তেমনই একজন নেশাগ্রস্ত যুবক শেখ সাদ্দাম নেশা করার জন্য জামাইবাবু’র কাছ থেকে আরও টাকা চেয়েও যখন পায়নি, তখন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জামাইবাবু’র ভাইয়ের মোটরসাইকেল গ্যারাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেই আগুনের সংস্পর্শে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পাশে থাকা একটি সেলুনও!
মেদিনীপুর শহরের কেরানীটোলা এলাকায় এইভাবে পাশাপাশি দু’টি দোকানে আগুন লেগে যাওয়ার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় শুক্রবার সকালে শহরের একেবারে মধ্যস্থল কেরানীটোলা এলাকায় (সুইমিং পুল ও মোহনানন্দ বিদ্যামন্দিরের কাছাকাছি এলাকায়) দুটি দোকানকে জ্বলতে দেখা যায়। ধোঁয়ায় ভর্তি হয়ে যায় এলাকা। দোকান মালিকরা তাড়াতাড়ি এসে দোকান খুলে দেখে দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এরপর দমকলকে খবর দেওয়া হলে, মেদিনীপুর দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শেখ জাহির নামে ওই গ্যারাজ মালিকের অভিযোগ, সাদ্দাম নামে একজন যুবক নেশা করার জন্য টাকা চেয়েছিল, না দেওয়ায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এরপরই ওই যুবক ফেরার হয়ে যায়। তার বাড়ি স্থানীয় পানপাড়া এলাকায় বলে জানা গেছে। ওই একই এলাকার বাসিন্দা, দোকান মালিকরাও। তাঁরা জানিয়েছেন, কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে। কোতোয়ালী থানার পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
Post a Comment