করোনা প্রবেশ করতে পারবে না বলে আত্মবিশ্বাসী আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা পাহাড়ের ১১ গ্রামের বাসিন্দারা - The News Lion

করোনা প্রবেশ করতে পারবে না বলে আত্মবিশ্বাসী আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা পাহাড়ের ১১ গ্রামের বাসিন্দারা

 


দি নিউজ লায়ন;  প্রথম ঢেউয়ে কাবু করতে পারেনি। ১১ গ্রামের এগারো গ্রাম কোভিড শূন্য ছিল। প্রথম ঢেউ এর পর এবার দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে। তবুও আত্মবিশ্বাসী আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা পাহাড়ের  ১১ গ্রামের বাসিন্দারা। বাংলার ভুটান সীমান্ত লাগোয়া পাহাড় চূড়ায় এই গ্রামগুলিতে করোনা প্রবেশ করতে পারে না। ঠিক কী কারনে এখানে করোনা প্রবেশ করতে পারে না তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন রকম জল্পনা রয়েছে। জল্পনা, ইতিহাস ও বাস্তবতা যাইহোক বক্সা পাহাড় এর ১১ গ্রামে করোনা ঢুকতে পারে না এটা সত্য। এবারও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সেখানে পৌছতে পারবে না এই আত্মবিশ্বাসে কালী মায়ের পূজা করছেন বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দারা। রবিবার ঘটা করে বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রামে এই কালী মায়ের পূজা করা হয়েছে। সারাদিন নিরামিষ খেয়ে করোনা কে প্রতিহত করার জন্য কালী মায়ের প্রার্থনায় মেতেছে বক্সা পাহাড়ের ডুকপারা।


 তাদের নিজস্ব আচার মেনে এই পুজো করছেন ডুকপারা।  একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ডুকপার আদলে দুটো আলাদা ছোট মাটির মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। আর সেই দুই মূর্তি নিবেদিত হয়েছে কালী মায়ের চরণে। এই মুর্তী গুলোর সাথে আবার হাঁসের ডিম, চাল, ডাল ও কাচা টাকা দেওয়া হয়েছে কালিমাকে। পুজো শেষে স্থানীয় শ্মশানের দুই প্রান্তে দুই মূর্তি ফেলে দিয়েছেন ডুকপারা। মূলত করোনাকে প্রতিহত করার জন্যই এই পুজো বলে জানিয়েছেন বক্সা পাহাড়ের তাসিগাও গ্রামের  বুয়া ডুকপা। তিনি বলেন, " গত বছর আমরা এই সময় আমাদের কালী মায়ের পূজা করেছিলাম। অত্যন্ত ভয়ঙ্কর শক্তিমান আমাদের এই কালিমা। এই পুজোর পরে গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ে বক্সা পাহাড় এর ১১ গ্রামের কেউ আক্রান্ত হননি।


একদিক দিয়ে বললে এটা বক্সা পাহাড়ের ১১ গ্রামের রেকর্ড। আমাদের বিশ্বাস এবার ও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বক্সা পাহাড়ের ১১ গ্রামের মানুষদের কিছুই করতে পারবে না। সেই কারণেই আমরা এই পুজো করেছি। সম্পূর্ণ নিরামিষ খেয়ে অত্যন্ত সাদাসিধে ভাবে এই পুজো করেছি আমরা। পূজা সম্পন্ন হয়েছে। দেবী সন্তুষ্ট হয়েছেন।" আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের ভুটান সীমান্ত লাগোয়া বক্সা পাহাড়। সমুদ্র পিষ্ঠ থেকে ২৬০০ ফুট উচুতে এই বক্সা পাহাড়ে একসময় ভুটানের দুর্গ ছিল। পরবর্তীতে যা বক্সা ফোর্ট নামে পরিচিত হয়। ইংরেজরা ভূটানি দুর্গ দখল করেই বানিয়েছিলেন বক্সা ফোর্ট। এখানকার জনজীবনের ইতিহাসটাও অত্যন্ত প্রাচীন। মূলত বক্সা পাহাড়ের মানুষেরা ডুকপা সম্প্রদায়ের। এদের নিজস্ব নানান রীতিনীতি আছে। পাহাড়ের কোলে প্রকৃতির সঙ্গে আষ্টেপিষ্টে বেঁচে থাকা বক্সা পাহাড়ের জীবনও অত্যন্ত সহজ ও সরল। তবে বক্সা পাহাড়ের মানুষদের শারীরিক সক্ষমতা অন্যান্য এলাকার মানুষদের থেকে বেশি বলেই মনে করেন বক্সা পাহাড়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তারা। 


ফ্যামিলি প্লানিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দীর্ঘদিন থেকে বক্সা পাহাড়ে জনস্বাস্থ্যের দায়িত্বে রয়েছে। তাদের কর্ণধার তুষার চক্রবর্তী বলেন, " বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দাদের শারীরিক ক্ষমতা অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের তুলনায় অনেক বেশি। পাহাড় চূড়ায় প্রকৃতির সঙ্গে লেগে থাকা ডুকপা সম্প্রদায়ের মায়েরা যে সন্তান প্রসব করেন সেই সব সদ্যজাতের সকলে তিন কেজির বেশি ওজন হয়। এখন পর্যন্ত তিন কেজির কম কোন সন্তান প্রসব করেননি ডুকপা মায়েরা। বেশিরভাগ সন্তান সাড়ে 3 কেজি ওজনের হয়। গত বছরের ১১ গ্রামে কোন করোনা আক্রান্তের হদিস পাওয়া যায়নি। তার কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন রকম মতভেদ রয়েছে। তবে কারণ যাই হোক এটা সত্য যে বক্সা পাহাড়ে এগারগ্রামে ঢুকতে পারেনি করোনা। রাজ্যের নিরিখে তা তো রেকর্ড বটেই। আমরা আশা করছি এবারও বক্সা পাহাড়ের ১১ গ্রামে করোনা তার থাবা ফেলতে পারবে না।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.