অপদার্থ দল বিজেপি বাংলাকে ভাগ করতে চায়, মমতা
দি নিউজ লায়ন; শনিবার হুগলি জেলার তারকেশ্বর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রামেন্দু সিংহ রায়ের সমর্থনে চৌতারা ইছাপুর মাঠে নির্বাচনী সভা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বেলা আড়াইটে নাগাদ হেলিকপ্টারে চৌতারা পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধনিয়াখালী আমার প্রিয় জায়গা এখানকার তৈরি তাঁতের শাড়ি আমি পরি ।আমি পছন্দ মতো ডিজাইন এঁকে দিই, ওরা করে দেয়।তারকেশ্বরের উন্নতির জন্য টিডিএ করা হয়েছে। তারকেশ্বরের প্রভুত উন্নতি হয়েছে। মাহেশের মন্দিরও সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।বিভিন্ন জায়গায় মন্দির সংস্কার হয়েছে। আমাদের সৌভাগ্য চারটে মহা পিঠকেই আমরা সাজিয়ে তুলতে পেরেছি। তারকেশ্বরকে সাজিয়ে তুলেছি। জেলার একাধিক মন্দির সংস্কার করা হয়েছে।
তাঁতিদের জন্য তাঁত হাব করা হয়েছে। চন্দননগরে আলো হাব হয়েছে। তাঁতিদের অনেক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। সরকারের অনেক ধুতি শাড়ি লাগে।আমি চাই আমাদের অর্ডার নিয়েই ওরা ভালো থাকুক। তাঁতিদের একসঙ্গে তিন বছরের অর্ডার দেওয়া আছে। শেষ হলে আরও তিন বছরের অর্ডার একসঙ্গে দেওয়া হবে।
আগে আকবর এবং তপনকে নিয়ে আমি হুগলি জেলা চষে বেড়াতাম। আমি যতটা হুগলি জেলাকে চিনি আর কেউ ততটা চেনে না। উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হুগলির মানুষ ছিলেন। প্রফুল্ল ঘোষ ছিলেন আরামবাগের গান্ধী। আমি ইস্কন রথেও যাই মাহেশের রথেও যাই। মায়াপুরে অনেক টাকা দিয়েছি। আগে কেউ তীর্থস্থানে হাত লাগায়নি। আমি তারাপিঠ থেকে জল্পেশ মন্দির মদনমোহন মন্দির কপালকুন্ডলা সব মন্দিরের উন্নয়নের কাজ করেছি। বাংলায় নদী পুকুর বেশি তাই বন্যায় ভাসে। এখন কমিয়ে দিয়েছি প্ল্যান করে।
বাংলার মানুষ শান্তি প্রিয়, সভ্যতা প্রিয় কেনো। কারণ বাংলার নিজস্ব সভ্যতা সংস্কৃতি এটাই। যেদেশে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল জন্মায় সেখানে এটা তো হবেই। আজ বিজেপি বাংলাকে ভাগ করে দিতে চাইছে। দেশ যখন পরাধীন ছিল, তখন ইংরেজরা বাংলাকে ভাগ করতে চেয়েছিল। তখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে বঙ্গভঙ্গ আটকাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। মোদি অমিত শাহ রা এখন বাংলাকে ভাগ করতে চাইছে। ওরা বাংলা কে ইচ্ছে করে বঙ্গাল বলে। ইচ্ছে করে অপমান করে বাংলাকে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্ম দিবসের অনুষ্ঠানে মোদি জিন্দাবাদ ধ্বনি দেয়। তাই ওই অনুষ্ঠানে আমি একটাও কথা বলি নি। নেতাজিকে শ্রদ্ধা করি তাই বসে ছিলাম। আমার লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর থেকেও বড় নেতা হয়ে গেছে এরা।
ওরা শুধু বলে সব চোর হ্যায়। দিল্লিতে ডবল ইঞ্জিনে কি হলো। আমি বিনেপয়সায় চাল দিলে কি হবে, ৯০০ টাকার গ্যাসে কি ওই চাল ফুটবে, নাকি বিজেপি ফুটবে। আমি বলি, পনেরো লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কাউকে কি দেওয়া হয়েছে। শুধু বড় বড় কথা। বাংগালকো ডবল ইজিন লাগে গা। প্রধানমন্ত্রী চাপবেন বলে বিমান কেনা হলো, নতুন পার্লামেন্ট ভবন করতে কত খরচ। কৃষকদের জন্য কালা বিল এনেছে। বাংলার কৃষকদের জন্য আমরা অনেক কাজ করেছি। এখন যা দেওয়া হয়, জিতলে কৃষকরা ১০ হাজার টাকা করে পাবেন। বিনে পয়সায় রেশন বাড়ি পৌঁছবে। মা বোনদের জন্য লক্ষী ভান্ডার করে দিচ্ছি, মে মাস থেকে মা বোনেরা ৫০০ বা ১ হাজার টাকা করে হাত খরচ পাবেন। বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তা নেই। সবার জন্য স্কলারশিপ আছে। বিজেপি এলে সমূহ বিপদ। একদম হিন্দু মুসলমান করবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বিজেপির মধ্যে গদ্দার আছে, তেমন আমাদের মধ্যেও গদ্দার আছে। ওরা তারকেশ্বরের প্রার্থী পেলো না, প্রার্থী নিয়ে এলো দিল্লি থেকে। হেরে গেলে দিল্লি চলে যাবে। রামেন্দু কিন্তু এখানেই থাকবে, আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের পাশে। ঘরের ছেলে টিকিট পেলো না নিয়ে এলো দিল্লী থেকে। তার ভোটে দাঁড়ানোর কি দরকার আছে, তিনি তো নমিনেটেড। আমি নন্দীগ্রামে নাকি বাইরের লোক। আর মীরজাফর গদ্দাররা হয়ে গেল নিজের লোক। অনেক অত্যাচার করেছে। নন্দীগ্রাম আমার চোখ খুলে দিয়েছে। নন্দীগ্রামের বলরামপুর গ্রামের একটি ছেলে বলল আমার বাবা রবি মান্না, তাঁর অবস্থা খুব খারাপ। হিন্দু পাড়ায় থাকি তৃনমূল করি বলে আমাদের বাড়ি ভেঙে দিয়েছে।
আমার মা ভাই বোন পাশের পাড়ায় একটা সংখ্যালঘু বাড়িতে রয়েছে। ছেলেটার সঙ্গে ওদের বাড়িতে যাই। ওর মা তখন বলছে ছেলেটকে তুলে নিয়ে যাবে বলেছে, মেয়েটাকে লুট করবে বলেছে। এই ধরণের ঘটনা আগে কখনও দেখেছেন। উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে গুন্ডা নিয়ে এসেছে। বোমা এনেছে। মুজাফফর নগর থেকে পেট্রোল বোমা এনেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলির সব জায়গাতে হিন্দু মুসলিম করে রেখেছে। হুগলি লোকসভা আসনে ডাঃ রত্না দে নাগ কিভাবে হেরে যায়। আর ওই আসনে লকেটের কি কনট্রিবিউশান আছে। সব মানুষের উপর অত্যচার করছে। ব্রাহ্মণ, হিন্দুরাও এখন রেহাই পাচ্ছে না। বন্যার জল কি হিন্দু মুসলমান দেখে বাড়িতে ঢোকে। অপদার্থ দল বিজেপি বাংলাকে ভাগ করতে চায়। শুধু দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ বা গুজরাট নয় গোটা পৃথিবী তাকিয়ে রয়েছে এই নির্বাচনের দিকে। এরা গণতন্ত্র মনে না। একটা স্বৈরাচারী শক্তি। একটা চাউসেস্কু আর একটা হিটলার। এই বাংলাকে বাঁচাতে হলে তৃনমূলকেই ভোট দিতে হবে। নরেন্দ্র মোদি এসে বললেও ওই লোকটাকে ভোট দেবেন না।
তিনি বলেন, ওরা শান্তি নিকেতনে বসন্ত উৎসব বন্ধ করে দিয়েছে। আটটা ফেজে নির্বাচন কেনও জানেন, মন্ডল কমিটি অনুযায়ী হচ্ছে। ওরা বজ্জাতের দল। ওরা রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের ধর্ম মানে না। মা দুর্গাকে ওরা গালাগাল দেয়। ওরা এন্টি উইমেন, মহিলা বিরোধী। তৈরি থাকুন বিজেপির বহিরাগত গুন্ডাদের সঙ্গে হাতা খুন্তি নিয়ে মেয়েদের খেলা হবে। লুচি ফুলছে বিজেপি জ্বলছে। সুতরাং খেলা হবে জিততে হবে। বাংলার মা বোনদের বলবো, বাংলার সভ্যতা সংস্কৃতি রক্ষা করতে বাঁচাতে বিজেপির মাঠ খালি করতে হবে। এমন করে জোড়া ফুলে ভোট দেবেন বিজেপি যাতে বোল্ড আউট হয়ে যায়। বলেছিলাম রাজ্যের নাম পাল্টে বাংলা করতে, করল না। আমরা চাই, বাংলা বাংলাতেই থাক এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খেলব লড়ব গড়ব জিতব। আর তারপর দেশের লোকেরা বিজেপিকে দিল্লী থেকে খালি করবে।
মনে রাখবেন ওরা টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এমন করছে নজরে পড়লেই ভিডিও করে রাখুন। আমাকে পাঠান, নাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিন। পরে আমরা ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

Post a Comment