নির্দল আর কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়ে রঘুনাথগঞ্জে পাল্লা ভারী তৃণমূলেরই
দি নিউজ লায়নঃ একদিকে কংগ্রেসের ভোটব্যাংকে নির্দলের থাবা, পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে নিচু তলার কংগ্রেসী কর্মীদের মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থা নিজেদের দলীয় প্রার্থীকে ঘিরে ও এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জমে থাকা ভাঙ্গন থেকে শুরু করে পানীয় জল সহ একাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ এইসবের মাঝে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করার সম্ভাবনা রয়েছে তৃণমূলের ভোটবাক্সে রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে।একের পর এক অনেক কংগ্রেস নেতা কর্মী হাত ছেড়ে তৃণমূলে সমর্থন জানাতে ভীতর ভীতর যোগ দিচ্ছেন শাসক দলে বলেই সূত্রের খবর।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নির্দল প্রার্থী নাসির শেখ প্রচারে বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছেন। কিন্তু তারপরও তিনি তৃণমূলের সঙ্গে কতটা পেরে উঠবেন তা নিয়ে অনেকেই সংশয়ে রয়েছেন। নাসিরসাহেব প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। অর্থের জোর রয়েছে। তাই সাময়িক তিনি ঢেউ তুলেছেন। কিন্তু তা ইভিএমে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা কম।
কারণ এই কেন্দ্রে ভোটের অন্যতম মূল ইস্যু এনআরসি। এই আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা তাঁর নেই। সেটা অনেকেই বুঝে গিয়েছেন। এমনটাই দাবি শাসকদলের নেতাদের। নাসিরসাহেব বলেন, এই বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ আমার উপর ভরসা করেন। এলাকার বিধায়ককে তাঁরা পাশে পান না। কিন্তু আমাকে সব সময় পান। প্রচারে বেরিয়ে যেভাবে মানুষের সাড়া পাচ্ছি তাতে আমি জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের একটা অংশ নির্দলকে সমর্থন করছে। তারফলে তাদের ভোটব্যাঙ্ক ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই অঙ্কেই এখানে তৃণমূলের পাল্লা ভারী হয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী আবু কাশেম বিশ্বাস বলেন, এখানে নির্দল কোনও ফ্যাক্টর নয়। মানুষ প্রতীক দেখে ভোট দেয়। আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল। এবারও মানুষ আমাদের পাশে থাকবে। তৃণমূল প্রার্থী আখরুজ্জামান রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলি তুলে ধরেই প্রচারে সাড়া ফেলেছেন। তিনি একটি সভায় বলেন, রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী বা ঐক্যশ্রীর মতো প্রকল্পগুলির জন্য মেয়েরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।
এই এলাকার মেয়েরা ছেলেদের থেকেও পড়াশোনায় এগিয়ে রয়েছে। অন্যান্য বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা লোকজন পেয়েছেন। এছাড়া বেশ কিছু এলাকায় নদী ভাঙন রুখতে কাজ হয়েছে।এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, নদী ভাঙন রুখতে কাজ আরও ভালোভাবে হওয়া দরকার ছিল। কাশিয়াডাঙা, ব্যারেজপাড়া বা চাঁদপুরের মতো এলাকাগুলিতে প্রতিবারই ভাঙন হচ্ছে। কাশিয়াডাঙা এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এছাড়া রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে। এই বিষয়গুলিকে ইস্যু করে শাসকদলকে বিরোধীরা তোপ দাগছে। তৃণমূলের অবশ্য দাবি, এই এলাকায় কংগ্রেস বরাবর ক্ষমতায় ছিল। এক সময় এলাকার সাংসদও তাদের ছিল। কেন্দ্রে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলেও তারা ভাঙন রোধের কাজ করেনি। নদীর ভাঙন রোধে কেন্দ্রের বড় ভূমিকা থাকে। রাজনৈতিক মহল অবশ্য মনে করছেন, কংগ্রেস ও নির্দল প্রচারে একে অপরকে টক্কর দিচ্ছে। কিন্তু ভোট যুদ্ধে অঙ্কের হিসেবে শাসক দলের পাল্লাই ভারী রয়েছে। কাইসে শাশি আসতে চলেছে শাসকদল তৃণমূল।

Post a Comment