মাঝে মাঝে ঘৃণা হয়, কোন বাংলায় আছি, লজ্জা করে না ৫০০ টাকা নিয়ে বিজেপির মিটিং শুনতে যাব? মমতা
দি নিউজ লায়ন; হায়দরাবাদ থেকে বিজেপির এক বন্ধু এসেছে । সঙ্গে এনেছে ফুরফুরার এক চ্যাংড়াকে। ওরা কয়েক কোটি টাকা খরচ করে মুসলিম ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে। ওদের একটাও ভোট নয়।ওদের ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া। শনিবার দক্ষিণ 24 পরগনা রায়দিঘি জনসভা থেকে নাম না করে ভাইজানকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন অনেকে ভুল বুঝেছে টাকা সরিয়ে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা করানোর চেষ্টা করছে। কোনরকম প্ররোচনায় পা দেবেন না আমরা সবাই এক। সংখ্যালঘু এলাকায় কেউ অত্যাচার করতে এলে সবাই মিলে আজানের ধ্বনি দেবেন। দেখবেন সব চুপ করে গেছে। কোনও হিন্দু-মুসলমান অশান্তি করবে না, আমরা একসঙ্গে থাকি। এক সঙ্গে দুর্গাপুজো করি, একসঙ্গে কালিপুজো করি। একসঙ্গে ইফতার করি।
মিম ভাইজান এর পাশাপাশি বিজেপি ও তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। মমতা বলেন, বিজেপির ধার করা। সিপিএমের হার্মাদ এবং তৃণমূল থেকে যারা বেশি লোভের জন্য চলে গিয়েছেন তাদের নিয়ে ভোটে লড়ছে। ওদের নিজস্ব তা বলে কিছু নেই দেবশ্রী রায়ের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন দেবশ্রীর বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের অভিযোগ ছিল তাই ওকে প্রার্থী করিনি। স্থানীয় কর্মীকে প্রার্থী করেছি। বিজেপিতে প্রার্থী হয়েছে সে তৃণমূলের প্রার্থী হতে চেয়েছিল টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে গিয়েছে। বিজেপি পুলিসের ড্রেস পরিয়ে ফেক পুলিস নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের লোককে ভয় দেখাচ্ছে। ওদের কথা শুনবেন না। ভোটের পর ওরা পালাবে। আমরা বাংলার লোক, আমরাই থাকব। সুন্দরবনের দিকে কেউ ফিরেও তাকাতো না। এখন অনেক উন্নতি হয়েছে।
যাঁরা স্বাস্থ্যসাথী পাননি, তাঁদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব। আমপানে কেউ ছিল না। আমি রাত জেগে পাহারা দিয়েছি। যাঁরা সাহায্য পাননি আমি দেব কথা দিচ্ছি। রায়দিঘির জনসভার পাশাপাশি কুলপির জনসভা থেকে ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখেন মমতা। নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নন্দীগ্রামে আমার ভোট খুব ভালো হয়েছে। ওরা যা করেছিল। মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছেন। নন্দীগ্রামের গ্রামগুলোতে গিয়ে বিজেপি হুমকি দিয়েছে। মেয়ে-বাচ্চা তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়েছে। নাম না করে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। মমতা বলেন, উনি বাংলাদেশ ঘুরে এলেন, গুন্ডা আমদানি করতে গেছে। ওখানে থেকেও নিশ্চয়ই কিছু নিয়ে আসবেন।
বিজেপির টাকা দিয়ে ভোট কেনার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন , মাঝে মাঝে ঘৃণা হয়, কোন বাংলায় আছি। লজ্জা করে না ৫০০ টাকা নিয়ে বিজেপির মিটিং শুনতে যাব? ওদের হাত রক্তে রাঙা। চোখ দিয়ে রক্ত বেরোয়। বাংলার মানুষ মাথা নত করে না। আমার পা টা ড্যামেজ করে দিয়েছে। দু-দিন পর ব্যাঙ্ক থেকে টাকা পাবেন না। নোটবন্দির মতো ব্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে যাবে। ওদের বলবেন আগে গ্যাস ফ্রি দাও তারপর। ক্যাশ দিলে অ্যাশ করে দিন। যা হয়ে যাক তৃণমূলে ভোট দিন। এরমতো নচ্ছার, দানব পার্টি আর নেই। বাংলা ওদের খালি করলেই দেশ ওদের খালি করে দেবে।

Post a Comment