বাংলায় ক্ষমতায় এলেই পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করবেন, অমিত শাহ
দি নিউজ লায়নঃ সোমবারই কালিম্পংয়ে বুঝেছিলেন ভাজপার ওপর গোর্খারা চরম ক্ষুব্ধ বিরক্ত। পাহাড়ের তিনটি আসনেই ভাজপার পরাজয় কার্যত নিশ্চিত। শেষ চেষ্টা হিসেবে মঙ্গলবার পাহাড়ের জনসভা থেকে গোর্খাদের মন পেতে মরিয়া চেষ্টা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।চব্বিশ ঘণ্টা আগেই দাবি করেছিলেন, বাংলায় এনআরসি হচ্ছে না। মঙ্গলবার ফের একই দাবি করতে বাধ্য হলেন শাহ। এবারে আরো পরিষ্কার ভাবে বললেন বাংলায় বা পাহাড়ে এনআরসি করার কোনো রকম পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। তাই গোর্খাদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। কোন গোর্খাকেই তাড়ানো হবে না।
এমনকি যারা নেপাল থেকে এসেছেন তাদেরও চিন্তার কোন কারণ নেই।শাহের প্রতিশ্রুতি ভাজপা বাংলায় ক্ষমতায় এলেই পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করবেন তারা। এছাড়া পাহাড়ের এগারটি জনজাতিকে আদিবাসী স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। গোর্খাদের বিরুদ্ধে যত রাজনৈতিক মামলা আছে সব তুলে নেওয়া হবে। যদিও অমিত শাহের প্রতিশ্রুতিকে ভাঁওতাবাজি বলে আক্রমণ করছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং শিবিরের নেতারা। তাদের অভিযোগ, এখন বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে যা বলছেন সে সব আগে কেন করেননি তারা?
বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা কেন্দ্রে ভাজপা সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের ব্যাপারে দরবার করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহ। পাহাড়ের মানুষকে কার্যত ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসার পর তাদের ভুলে গিয়েছেন বিজেপি নেতারা। পাহাড়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তারা। তাই পাহাড়ের মানুষ বিজেপির ভাঁওতাবাজি ধরে ফেলেছে। অমিত শাহ গোর্খাদের যে প্রতিশ্রুতি দিন না কেন বিজেপিকে পাহাড়ের মানুষ আর বিশ্বাস করেন না। ফলে এনআরসি নিয়ে বা পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কিংবা পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাষণ দিলেও তাতে বিশেষ কোনো লাভ হবে না বলেই মনে করছেন তারা। তাদের দাবি, পাহাড়ের তিনটি আসন তো বটেই গোটা বাংলা জুড়ে বিজেপি পর্যুদস্ত হবে এবং তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বিজেপির বিভেদের রাজনীতি বাংলা ছুঁড়ে ফেলে দেবে।

Post a Comment