উত্তাল দিনহাটা, আহত অনেকে
দি নিউজ লায়নঃ মুহুর্মুহু বোমাবাজি, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ,তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর- দিনহাটা শহর জুড়ে বুধবার তান্ডব চালাল ভাজপা দুষ্কৃতী বাহিনী। নেতৃত্ব দিলেন ভাজপা সাংসদ তথা দিনহাটা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামানিক। ভাজপার হামলায় পুলিশ, তৃণমূল কর্মী এবং সাধারন মানুষ মিলিয়ে প্রায় শতাধিক জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী, র্যাফ। নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। এলাকায় রুটমার্চ করছে তারা। অশান্তি পাকানোর অভিযোগে 11 জন ভাজপার দুষ্কৃতীকে পুলিশ আটক করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। বিজেপির শহর মন্ডল সভাপতি অমিত সরকারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় একটি পশু হাসপাতালে ভেতর থেকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে বিজেপি নেতা কর্মীরা।
তারা অভিযোগ জানাতে শুরু করে তৃণমূল নাকি খুন করেছে ওই বিজেপি নেতাকে। পুলিশ নিয়মমতো দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে গেলে পুলিশকে বাধা দেয় ভাজপার দুষ্কৃতীরা। অশান্তি পাকাতে চলে আসেন নিশীথ অধিকারী। এরপরই শুরু হয় গন্ডগোল। গোটা দিনহাটা শহর জুড়ে তাণ্ডব শুরু করে বিজেপি। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে শুরু হয় অবরোধ। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইট পাথর বৃষ্টি শুরু হয়। পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে। কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়। এরপর ভাজপার দুষ্কৃতী বাহিনী দিনহাটা শহরের একাধিক তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা চালায়। তৃণমূল কর্মীদের ব্যাপক মারধর করা হয়।
বেশ কয়েকটি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নামানো হয়। যদিও রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রশাসন সূত্রে খবর, অশান্তি পাকানোর অভিযোগে 11 জন বিজেপি কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পনামাফিক অশান্তি পাকিয়েছে বিজেপি। যে কোনো মৃত্যু দুঃখের কিন্তু যেভাবে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা দিনহাটা শহরে তান্ডব চালিয়েছে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা তা কার্যত বেনজির।
ঘটনা প্রসঙ্গে দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ বলেন, একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। যদি বিজেপির মনে হয়ে থাকে ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে তবে তারা সিআইডি তদন্তের দাবি করুক। তৃণমূলও চায় সিআইডি তদন্ত হোক কিন্তু যেভাবে মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি তা নিন্দনীয়। শতাধিক মানুষকে জখম করে কার্যত ভোটের আগে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে ভাজপার দুষ্কৃতীরা। নিশীথ প্রামাণিকের নেতৃত্বে হামলা হচ্ছে। তৃণমূল নেতা কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তৃণমূলও পাল্টা প্রতিরোধে পথে হাঁটবে।

Post a Comment