বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পথে নামতে বাধ্য হলেন বিশ্বভারতীর পেনশনভোগী কর্মী, অধ্যাপকরা
দি নিউজ লায়নঃ বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পথে নামতে বাধ্য হলেন বিশ্বভারতীর পেনশনভোগী কর্মী, অধ্যাপকরা। মঙ্গলবার দুপুরে চড়া রোদের মধ্যে প্রবীণ পেনশনভোগীর বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় ভবনের সামনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়। স্বাস্থ্যপরিসেবা থেকে পেনশনভোগীদের সুকৌশলে বঞ্চিত করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সারা জীবন অধ্যাপনা করে অবসরের পর নিজেদের প্রাপ্য সুবিধাটুকু মিল ছিল না এমনই অভিযোগ এনে এদিন বিক্ষোবের সামিল হয় প্রায় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। নিজেদের প্রাপ্ত স্বাস্থ্যপরিসেবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় বারবার আবেদন করেছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে যাতে অবিলম্বে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সুবিধা পায় অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকেরা। কিন্তু বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এই আবেদনের ভিওিতে কোন সদর্থক ভূমিকা নেয়নি।
কয়েকমাস আগে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এক নির্দেশিকা জারি করে জানায়, বিশ্বভারতীর পেনশনভোগীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবেই যা জন্ম দেয় ক্ষোভের। আপত্তি ওঠে জোরালো ভাবেই। কিন্তু তাতে নির্দেশের কোনও রদবদল হয় না। জানা গেছে, বিশ্বভারতীর পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে পড়ুয়া, অধ্যাপক, কর্মী, আধিকারিকদের মত অবসপরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদেরও প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের সুবিধা রয়েছে দীর্ঘদিন থেকেই। সেই নিয়মেই ছেদ পড়েছে সম্প্রতি। ক্যাগ’র এক নির্দেশকে ঢাল করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নয়া নির্দেশ জারি করে পেনশনভোগীদের পিয়ারসন হাসপাতালে চিকিৎসা মিলবে না বলে জানায়। তারপর থেকেই আপত্তি, নানা মহলে চিঠি করেও উপাচার্যের কোনও সদর্থক সাড়া না মেলায় পেনশনভোগীদের অবস্থান বিক্ষোভেরই পথ নিতে হয়েছে এদিন।
উল্লেখযোগ্যভাবে সেই বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন খোদ বিশ্বভারতীর প্রাক্তন অধ্যাপক এবং আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কর্মসমিতির সদস্য দুলাল চন্দ্র ঘোষও। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের স্পষ্ট দাবি আমরা পিয়ারসন হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা চাই। তারজন্য যদি খরচ প্রদান করতে হয় তাতেও আমরা রাজি। আগে বছরে একটি নির্ধারিত ফি নিয়ে আমাদের মেডিক্যাল কার্ড দিত। সব সুবিধাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনও চিকিৎসাই মিলবে না, ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যাবে না এমনকি প্রেসারটুকুও মাপা যাবে না এখন যেহেতু আমরা চিকিৎসাভাতা নিই বলে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমরা সবটাই লিখিত আকারে প্রধামন্ত্রীর দপ্তরে জানিয়েছি।’’
পেনশনভোগীদের অবস্থানের প্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি বিশ্বভারতী একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে জা জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী-অধ্যাপকদের চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত বিশ্বভারতীকে নিতে হয়েছে ক্যাগ’র রিপোর্টের ভীত্তিতে। পেনশনভোগীরা মাসে এক হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন। ক্যাগ প্রশ্ন তুলেছে, একইসঙ্গে চিকিৎসা ভাতা ও নিখরচায় চিকিৎসা- এই দুইই কীভাবে দেওয়া যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের গোচরে তা আনাও হয়েছে। সরকারের তরফে যদি কোনও সদর্থক নির্দেশ আসে তা কার্যকরী করতে বিলম্ব করবে না বিশ্বভারতী।
প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত বিশ্বভারতীর অধ্যাপকদের সামান্য স্বাস্থ্য পরিষেবার পাওয়ার জন্য বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে হচ্ছে এই ঘটনা শোনার পর অত্যন্ত কড়া ভাষায় উপাচার্যের সমালোচনা করেছেন আশ্রমিক সুবোধ মিত্র, তিনি বলেন পাপ যখন হিমালয় চূড়াসম হয়ে যায় তখন বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। আসলে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী একজন মস্তিষ্কবিকৃত মানুষ, তাকে বিশ্বভারতীর মত এক গরীব আমায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে বসানো কেন্দ্রীয় সরকারের যুগান্তকারী ভুল পদক্ষেপ। বিশ্বভারতীর আচার্য তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে অবিলম্বে ভুল শুধরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দিশা দিন।

Post a Comment