চাকরি দেওয়ার নাম করে যুবতীর বাবার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
দি নিউজ লায়ন; চাকরি দেওয়ার নাম করে যুবতীর বাবার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক। অভিযোগ, ওই প্রতারক বিডিও অফিসে চারকরি করে দেওয়ার নাম করে টাকা নেয়। টাকা দেওয়ার ৬ মাসের মধ্যে চাকরি হয়ে যাবে বলে যুবতীকে আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু, যুবতীর চাকরি হয়নি। আদালতে বর্ধমান শহরের দক্ষিণ কালনা রোডের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা সাউ জানিয়েছেন, বাবার সূত্রে বর্ধমান শহরের পিসি মিত্র লেনের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি বোটানিতে বিএসসি পাশ শুনে তাঁকে ওই ব্যক্তি বিডিও অফিসে চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গাড়ি ভাড়া খাটার সূত্রে অফিসারদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক আছে বলে জানায় অভিযুক্ত।
সরকারি অফিসারদের মাধ্যমে সুপারিশ করে বিডিও অফিসে তাঁকে চাকরি করে দেওয়ার কথা বলা হয়। চাকরির জন্য তাঁকে ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। ২০১৮ সালে তাঁর বাবা চাকরির জন্য ওই ব্যক্তিকে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা দেন। টাকা দেওয়ার ৬ মাসের মধ্যে চাকরি হবে বলে জানানো হয় তাঁকে। যদিও, আজও তাঁর চাকরি হয়নি। তিনি টাকা ফেরত চান। নানাভাবে কালক্ষেপ করে ওই ব্যক্তি। অনেক চাপাচাপির পর তাঁকে ৩টি চেক দেওয়া হয়। চেকগুলি তিনি ব্যাংকে জমা দেন। অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় চেকগুলি বাউন্স করে।
এনিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তাঁকে ভয় দেখায়। জেলা প্রশাসনের উপর মহলে তার জানাশোনা আছে বলে তাঁকে হুমকি দেয় অভিযুক্ত। বিষয়টি বর্ধমান থানায় জানান যুবতী। কিন্তু, থানা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এসপিকে জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় বুধবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে মামলা করেছেন ওই যুবতী। কেস রুজু করে তদন্তের জন্য বর্ধমান থানার আইসিকে নিের্দশ দিয়েছেন সিজেএম। আদালত কেস রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
যুবতীর আইনজীবী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে যুবতীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকা সত্বেও চেক দেওয়া হয়। এনিয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে। বর্ধমান থানার এক অফিসার বলেন, এ ধরণের অভিযোগ জানাতে থানায় কেউ এসেছিল বলে মনে পড়ছে না। অভিযোগ জানাতে এলে তা অবশ্যই নেওয়া হত। আদালতের নির্দেশের বিষয়ে কিছু জানা নেই। আদালত এ ধরণের নিের্দশ দিলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment