শালবনির জোড়াকুশমা এলাকায় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা,তদন্তে পুলিশ
দি নিউজ লায়ন; শুক্রবার ভোরে ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর বিধানসভার অধীন শালবনি ব্লকের গড়মাল অঞ্চলের অন্তর্গত পিড়াকাটা পুলিশ ফাঁড়ির জোড়াকুশমা এলাকায়। মৃত যুবকের নাম লালমোহন সরেন। তার বয়স ৩০ বছর,তার বাড়ি জোড়াকুশমা এলাকায়। শুক্রবার সকালে স্থানীয় জঙ্গলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ওই যুবককে বিজেপি তাদের দলের কর্মী বলে দাবি করে।বিজেপি দলের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস তাদের দলের কর্মী লালমোহন সরেন কে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে। যার ফলে ওই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় সূত্রে ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায় যে ওই যুবক কয়েকদিন আগে বিষ খেয়েছিল। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে ওয়াশ করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। যার ফলে সে মানসিক অবসাদে ভুগছিল।
মাত্র দেড় মাস আগে শালবনি ব্লকের কাশীজোড়া অঞ্চলের নরসিংপুর গ্রামের একটি মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করে ।আদিবাসী সমাজের রীতি মেনে এখনো তাদের সিঁদুরদান অনুষ্ঠান হয়নি । বৃহস্পতিবার সে তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে তার স্বামী স্ত্রীর সাথে গন্ডগোল হয় ।এমনকি তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার রাতেই শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসে । কিন্তু নিজের বাড়িতে ফিরে যায়নি।তার বাড়িতে রয়েছে তার বৃদ্ধা মা, তার ভাই কর্মসূত্রে অন্য জায়গায় থাকে। সে কোনদিন রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল না। কিন্তু সে সব সময় মদ্যপ অবস্থা থাকত। তৃণমূল কংগ্রেসের গড়মাল অঞ্চলের সভাপতি হরমোহন সিং বলেন বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
ওই ঘটনার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন সম্পর্ক নেই এবং যে যুবকটি মারা গিয়েছে সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিল না। যে কোন কোন মৃত্যু দুঃখজনক। আমরা মৃত যুবকের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। কিন্তু ওই যুবকের মৃত্যু নিয়ে আমরা রাজনীতি চাই না। বিজেপির রাজ্য সভাপতি মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন তাদের সক্রিয় কর্মী লালমোহন সরেন কে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস এর বাতাবরণ তৈরিকরার জন্য ওই ঘটনা ঘটিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি অজিত মাইতি বলেন শুধু শালবনি নয়, মেদিনীপুর নয়,পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫ টি বিধানসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা জয়লাভ করবে। তাই দিলীপ ঘোষ এর মতো বিজেপি নেতারা হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় আগাম ভুল বকতে শুরু করছে এবং যেকোন মৃত্যুকে তাদের দলের কর্মী বলে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষ বিজেপির মিথ্যা কথায়ও অপপ্রচারে কান দেবে না ।পিড়াকাটা ফাঁড়ির পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করার জন্য পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে ওই যুবক কি কারণে আত্মহত্যা করেছে তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে ।তবে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে।

Post a Comment