রায়গঞ্জে গুলিবিদ্ধ তৃণমূলকর্মীর মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে জোড়, গ্রেফতার অভিযুক্তকে সাথে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মান পুলিশের
দি নিউজ লায়নঃ মহঃ আলি মার্ডার কেসের এবার পুনর্নির্মান করল পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে তাকে হেফাজতে নিয়ে আজ প্রায় গোটা দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে সরোজমিনে তদন্ত চালালো পুলিশ৷ বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপার নেতৃত্বে ও জেলা পুলিশের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে সাথে নিয়ে জোড় তদন্ত করে পুলিশ৷ এই খুনের পেছনে ছোট বড় আরী তথ্য প্রমান জোটাতেই এই পুনর্নির্মান অভিযান বলে পুলিশ জানিয়েছে। আজ বেলা ১২টা থেকে দুপুর প্রায় সোয়া তিনটে পর্যন্ত মহঃ আলি গুলি কান্ডে খুনের ঘটনায় ধৃত সিকন্দর আলিকে সঙ্গে নিয়ে রায়গঞ্জ থানার তদন্তকারী পুলিশের দল মহারাজার ঝুমঝুমিয়া গ্রামে যায়।
সেখানে প্রথমে অভিযুক্ত সেকেন্দর আলির কাছ থেকে কিভাবে মহঃ আলিকে গুলি করা হয় তার বিবরন নেয় পুলিশ। ধাপে ধাপে মহারাজা এলাকার বিভিন্ন দোকান ও পেট্রোল পাম্পে গিয়ে সি.সি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা চালায় এবং পাশাপাশি ওই দিন সিকন্দর কোথায় বসে খুনের পরিকল্পনা করেছিল এবং কোন দোকানে খাওয়ার খেয়েছিল সুবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখে পুলিশ। রায়গঞ্জ থানা ও ভাটোল পুলিশ ফাঁড়ি র বিশাল পুলিশ বাহিনী এই পুরো ঘটনা সরজমিনে খতিয়ে দেখে। যদিও এই খুনের অপর অভিযুক্ত শাহেনশা এখনো পলাতক। পুলিশের দাবী শীঘ্রই অপর অভিযুক্তকেও তারা গ্রেফতার করতে পারবে।
এদিকে গতকালই উদ্ধার হয় খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত ৭.৬২ এম এম একটি পিস্তল। গ্রেফতার করা হয় নিহতের ভাইপো সেকেন্দার আলিকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেকেন্দারের ভাই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত সাহেনশাও এই খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। বুধবার দুপুরে রায়গঞ্জ থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর বিস্তারিত তথ্য জানান রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার সুমিত কুমার। ধৃত সেকেন্দার আলিকে জেরা করে তার বাড়ি থেকে মাটি খুড়ে বুধবার একটি ৭.৬২ এম এম পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। এবং ওই খুনের ঘটনায় জড়িত ধৃতের ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত শাহেনশার কথা জানতে পারে পুলিশ। পাশাপাশি মৃত মহ আলি এবং সেকেন্দারের ব্যবহৃত দুটি মোটরবাইক উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবী, তদন্তে জানা গেছে শরিকি জমি নিয়ে আলির সাথে সেকেন্দারের পরিবারের বিবাদ চলছিল। ইতিপুর্বে তাদের মধ্যে তেমন কোনো যোগাযোগ না থাকলেও ঘটনার কিছুদিন আগে থেকেই কাকা আলির সাথে সম্পর্ক গড়তে তার বাড়িতে আসা যাওয়া শুরু করে সেকেন্দার। গত ২৬শে জানুয়ারি রাতে কাকা আলিকে ডেকে নিয়ে যায় সেকেন্দার ও তার ভাই শাহেনশা। এরপর তাকে ফুসলিয়ে মহারাজার ঝমঝমিয়ার নির্জন মেঠো রাস্তায় নির্জন স্থানে তাকে গুলি করে খুন করে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত শাহেনশা পলাতক। তার সন্ধান পেতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তার খোজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার সুমিত কুমার।

Post a Comment