গেরুয়া শিবিরে হতাশা ধরিয়ে তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফিরল কংগ্রেসে - The News Lion

গেরুয়া শিবিরে হতাশা ধরিয়ে তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফিরল কংগ্রেসে

 


দি নিউজ লায়নঃ     অবশেষে সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে শুক্রবার ঘটল নয়া চমক! দুই দিনের মধ্যেই গেরুয়া শিবির কে হতাশ করে দিয়ে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূলের বহিস্কৃত নেতা মোশারফ হোসেন প্রদেশ কংগ্রেরেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী 'হাত' ধরে  ফিরলেন তার পুরাতন ঘর কংগ্রেসে।আর এতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।সকলেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন যোগদান করবে পদ্ম শিবিরে,কিন্তু সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে হঠাৎই তিনি হাত ধরলেন কংগ্রেসের।


আর এর কারণ নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর তরজা। এদিন মুর্শিদাবাদের সদর শহর বহরমপুরের টেক্সটাইল কলেজ মোড় এর এক সভামঞ্চে অধীর চৌধুরীর হাত থেকে জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা তুলে নিয়ে মোশাররফ হোসেন ও তার অপর এক সঙ্গী জেলা পরিষদের  সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন সহ কংগ্রেসে যোগদান করেন বলেই কংগ্রেস সূত্রে জানা যায়। প্রসঙ্গত, মাত্র কয়েক দিন  আগে তৃণমূলের তরফে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ তথা জেলা সভাপতি আবু তাহের খান সাংবাদিক বৈঠকের মধ্যে দিয়ে তৃণমূলের এই জেলা পরিষদের সভাধিপতি কে বহিস্কার করেন।বহিষ্কৃত ঐ নেতা   কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানিয়ে ছিলেন, দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, আমি খুব শীঘ্রই রাজনীতিতে ফিরব"। 


আর তার পরপরই নিজের পুরাতন ঘরে ফিরলেন অধীর চৌধুরীর একসময়ের খাস লোক বলে পরিচিত এই মোশারফ হোসেন ( তৃণমূলে যোগদান এর আগে তিনি কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন)জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই দলের প্রতীক ছাড়া সভা-মিছিল করছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন। সম্প্রতি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে  বহরমপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তা থেকেই দল অর্থাৎ তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করেছিল মোশারফের। অনেকের মনেই প্রশ্ন দানা বেঁধেছিল, তবে কী আগে থেকেই মনে মনে সব কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন জেলা পরিষদের প্রাক্তন এই সভাধিপতি? এই নিয়ে চাপানউতোরের শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


উল্লেখ্য, কয়েকমাস আগে দলীয় প্রতীক ছাড়া মিটিং-মিছিল করা শুরু করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা। কিন্তু তাতে ফল মেলেনি, জল্পনা তৈরি হয়, হয়তো বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও একাধিক বিধায়ক, সাংসদ শাসকদল ছেড়ে যোগ দিয়েছে বিজেপিতে। দলবদলের আবহে দল বিরোধী মন্তব্য করায় একাধিক নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপও নিয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, এদিনের এই ঘটনার পর  প্রাক্তন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি  তথা এই তৃণমূল নেতা নওদা এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। 


তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঐ এলাকাতেও তৃণমূল নতুন করে সংগঠন সাজানোর পরিকল্পনা করেছে। জেলা পরিষদের কয়েকটি প্রকল্পের কাজ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ওই সমস্ত প্রকল্পগুলি নিয়ে তদন্ত শুরু হতে পারে।  রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শাসকদল বহিষ্কারের কঠোর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন বহু রাজনৈতিক 'খেলা' অপেক্ষা করে রয়েছে রাজ্যবাসীর জন্য। এ বেপারে এদিন মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ তথা জেলা সভাপতি আবু তাহের খান বলেন,"আমাদের দলের অবস্থিত কোন নেতা এঁটোকাটা খাওয়ার জন্য অন্য কোন রাজনৈতিক দলে যাবে সেটা আমাদের দেখার দরকার নেই। মানুষ তার বিচার করবে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.