এরা মুসলিমদের দেয় দে চিমটি, দলিতদের দেয় রাম চিমটি, আর তপশিলীদের দেয় শ্যাম চিমটি, মমতা
দি নিউজ লায়নঃ এরা মুসলিমদের দেয় দে চিমটি, দলিতদের দেয় রাম চিমটি, আর তপশিলীদের দেয় শ্যাম চিমটি। সবাইকে কোনো না কোনো চিমটি দেবে, আর কিছু দেবে না। তাই এদের বিরুদ্ধে জাগতে হবে। মনে রাখবেন এই ভোটটা আমার ভোট। যদি আপনারা আমাকে চান, তবে মনে রাখবেন, আপনার একটাই চিহ্ন জোড়াফুল-তৃণমূল। প্রার্থী কারা হল দেখার দরকার নেই।”- বুধবার রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামে দুই দিনাজপুরকে নিয়ে কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির সাম্প্রদায়িক নীতিকে তুলে ধরে সাধারন মানুষ এবং দলীয় কর্মীদের সাবধান করলেন মমতা। এর পাশাপাশি দলবদল প্রসঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, “যেকটা গেছে আপদ গেছে। যারা খারাপ তারা চলে গেছে। আমি খুব খুশি হয়েছি। ঈশ্বর আল্লা আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। যে দলবদল করে চলে যাবে তাকে প্রার্থী করব না।”
পাসাপাশি তিনি আরো বলেন, “রাজনীতিতে তিন ধরনের লোক আছে। একটা লোভী, একটা ভোগী, আরেকটা ত্যাগী। যারা লোভী তাদের বাদ দিন। যারা ভোগী তাদের ঘরে থেকে ভোগ করতে বলুন। আর যারা ত্যাগী তাদের মানুষের কাজ করতে বলুন। তাহলেই মানুষ ভালোবাসবে।” তিনি বলেন, “আমি তো দেখছি একটা পলিটিকাল দল বিজেপি এতো মিথ্যা কথা বলে! ওরা রাতকে দিন বলে আর দিনকে রাত বলে। আর শুধু মিথ্যে কথা বলে। একটা তিলক কেটে আমি ধর্মকে ভালোবাসি বললে হয় না। ধর্মকে ভালোবাসতে হলে আগে মানুষকে ভালোবাসতে হয়। এটা মাথায় রাখবেন। যারা মানুষকে খুন করে, দাঙ্গা করে, লুট করে, লুটেরাবাজ-দাঙ্গাবাজ মানুশের রক্ত নিয়ে খেলে তারা আবার ধর্মের কথা বলে! সেটাকি মানায়?” সেইসঙ্গে তিনি বিজেপিকে একহাত নিয়ে বলেন, “বিজেপির আমার উপরে খুব রাগ। যেনতেন প্রকারে ওকে সরিয়ে দাও।
তাহলে বাংলা ওরা দিল্লি থেকে দখল করতে পারবে। সেইজন্য অনেক পরিকল্পনা অনেক চক্রান্ত ওরা করে। মনে রাখবেন আমরা মাথা নত করার লোক নই।” পাশাপাশি বিজেপির রথযাত্রা প্রসঙ্গে বলেন, “রথযাত্রায় জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা থাকবেন, বিজেপির নেতারা কেন থাকবেন? তারাকি জগন্নাথ দেবেরও বড়? বলরাম থেকেও বড়? সুভদ্রা থেকেও বড়? তাহলে বিজেপি নেতাদের কি আমাদের এখন পুজো করতে হবে? আবার যুদ্ধের সময় রথ দেখেছি। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের রথের সারথী ছিলেন। তাহলে এরাকি শ্রীকৃষ্ণ সব? কোত্থেকে শ্রীকৃষ্ণ হল? দেবতারা সব চলে গেলো তার জায়গায় এরা এলো?” সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “রথ বেড় করেছেন বাবুরা। সেই রথে বিরিয়ানি, মাংস পোলাও থেকে কাবাব থেকে শুরু করে, একেবারে সাজুগুজু থেকে শুরু করে ,খানাপিনা থেকে শুরু করে, বিশ্রাম থেকে শুরু করে, গানা থেকে শুরু করে সব রেডি।
যেগুলো টেনস্টার হোটেলে গেলে পাওয়া যায়, সব এনে রেখে নেতারা ফূর্তি করছেন। জনগনের টাকায় ফূর্তি করছেন। আর বলছেন তারা নাকি রথযাত্রা করছেন। আমি দুঃখিত, আমি লজ্জিত যে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রাকে এরা কালিমালিপ্ত করছেন। ধর্মের নামে মনে রাখবেন এরা অধর্ম করছে। দেবতার রথ বিজেপির রথ হতে পারে না।” তিনি আরো বলেন, “এই বাংলা সোনার বাংলা। তোমাদের আর সোনার বাংলা তৈরী করার দরকার নেই। তোমরা তো দাঙ্গার বাংলার কথা চিন্তা করো। এই বাংলা সোনার বাংলা। এমাটি সোনার চেয়েও খাটি। এই মাটিতে আমরা দাঙ্গা, অশান্তি গণ্ডগোল পাকাতে দেব না। এটা মাথায় রাখতে হবে। এ বাংলা সবার। এবাংলা কন্যাশ্রীর, এ বাংলা সবুজশ্রীর, এ বাংলা সবুজসাথীর।”

Post a Comment