রায়গঞ্জে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ১, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
দি নিউজ লায়নঃ রায়গঞ্জের মহারাজা এলাকার খুনের ঘটনার বড়সড় সাফল্য পেল রায়গঞ্জ থানা। উদ্ধার হয় খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত ৭.৬২ এম এম একটি পিস্তল। গ্রেফতার করা হয় নিহতের ভাইপো সেকেন্দার আলিকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেকেন্দারের ভাই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত সাহেনশাও এই খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়গঞ্জ থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর বিস্তারিত তথ্য জানালেন রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার সুমিত কুমার।
উল্লেখ্য, গত ২৭শে জানুয়ারি সকালে মেঠো পথে ঝোপঝাড়ে গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ দেখতে পেয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় তৃনমুল নেতৃত্ব দাবী করেন যে নিহত মহঃ আলি তৃণমূল কর্মী ছিলেন। ২৬শে জানুয়ারি দলীয় কর্মসুচীতে পানিশালার কৃষ্ণমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলি রায়গঞ্জে এসেছিলেন। কিন্তু পরের দিন ২৭শে জানুয়ারি তার গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে নামে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। সেদিনই জেলা পুলিশের ডগ স্কোয়াডের সহযোগীতায় ওই দিনই সিকন্দর আলিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে রায়গঞ্জ জেলা আদালত ১২ দিনের পুলিশি রিমান্ড দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে পরবর্তীতে ধৃত সেকেন্দার আলিকে জেরা করে তার বাড়ি থেকে মাটি খুড়ে আজ একটি ৭.৬২ এম এম পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। এবং ওই খুনের ঘটনায় জড়িত ধৃতের ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত শাহেনশার কথা জানতে পারে পুলিশ। পাশাপাশি মৃত মহ আলি এবং সেকেন্দারের ব্যবহৃত দুটি মোটরবাইক উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপারের দাবী, তদন্তে উঠে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। শরিকি জমি নিয়ে আলির সাথে সেকেন্দারের পরিবারের বিবাদ চলছিল। ইতিপুর্বে তাদের মধ্যে তেমন কোনো যোগাযোগ না থাকলেও ঘটনার কিছুদিন আগে থেকেই কাকা আলির সাথে সম্পর্ক গড়তে তার বাড়িতে আসা যাওয়া শুরু করে সেকেন্দার। গত ২৬শে জানুয়ারি রাতে কাকা আলিকে ডেকে নিয়ে যায় সেকেন্দার ও তার ভাই শাহেনশা। এরপর তাকে ফুসলিয়ে মহারাজার ঝমঝমিয়ার নির্জন মেঠো রাস্তায় নির্জন স্থানে তাকে গুলি করে খুন করে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত শাহেনশা পলাতক। তার সন্ধান পেতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তার খোজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার সুমিত কুমার।

Post a Comment